6:51 am, Monday, 2 November 2026

আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:19:42 pm, Sunday, 17 August 2025
  • 201 Time View

সিরাজুল ইসলামঃ হরিপুর প্রতিনিধি;বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, আর তৎকালীন গ্রামীন কৃষি নির্ভর মাটি আলগা করার প্রধান উপকরণ ছিল লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ।

একসময় কৃষকের জমি চাষের ঐতিহ্যবাহী একটি চিরায়ত পদ্ধতি ছিলো গরু ও লাঙল দিয়ে জমি চাষ। এটি ছিলো অনেক উপকারী এক পদ্ধতি। কারণ লাঙলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত আলগা করতো। গরুর পায়ের কারণে জমিতে কাদা হতো অনেক এবং গরুর গোবর জমিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি করতো।

কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য লাঙ্গল দিয়ে চাষ পদ্ধতি । দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত ঠাকুরগা্ওয়ের হরিপুরে লাঙল দিয়ে জমি চাষ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়াই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই চিরচেনা দৃশ্যটি।

এক সময় দেখা যেত সেই কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়তো মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। তাই আর সকালে কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেতে আর দেখা যায় না কৃষকদের।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গরু, লাঙল ও জোয়াল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাল চাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়। এক সময় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষক গরু, মহিষ পালন করত হাল চাষ করার জন্য। আবার অনেকে গবাদিপশু দিয়ে হাল চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন।

আবার অনেকে, ধান গম, ভুট্টা, তিল, সরিষা, কলাই, আলু প্রভৃতি চাষের জন্য ব্যবহার করতেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা।
আগে দেখা যেত কাক ডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেড়িয়ে পড়ত। এখন আর চোখে পড়ে না সে দৃশ্য। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমি চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদলি করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল দিয়ে জমিতে হাল চাষ।হরিপুর উপজেলা টেংরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৬০) জানান মানুষ আজ অতীত কে দিন দিন ভুলে যাচ্ছে, আধুনিক চাষাবাদের কারণে আর সেই লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ তেমন করা হয় না। যদি ও মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে তবে কোন একসময় এই চাষ পদ্ধতি বিলীন হয়ে যাবে, হয়তো সামনের প্রজন্ম লাঙ্গল চাষ পদ্ধতি শুধু বইয়ের পৃষ্ঠায় পড়াবে স্বচোখে দেখবে না। তাই আমার উচিত এর সঠিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ

Update Time : 08:19:42 pm, Sunday, 17 August 2025

সিরাজুল ইসলামঃ হরিপুর প্রতিনিধি;বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, আর তৎকালীন গ্রামীন কৃষি নির্ভর মাটি আলগা করার প্রধান উপকরণ ছিল লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ।

একসময় কৃষকের জমি চাষের ঐতিহ্যবাহী একটি চিরায়ত পদ্ধতি ছিলো গরু ও লাঙল দিয়ে জমি চাষ। এটি ছিলো অনেক উপকারী এক পদ্ধতি। কারণ লাঙলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত আলগা করতো। গরুর পায়ের কারণে জমিতে কাদা হতো অনেক এবং গরুর গোবর জমিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি করতো।

কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য লাঙ্গল দিয়ে চাষ পদ্ধতি । দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত ঠাকুরগা্ওয়ের হরিপুরে লাঙল দিয়ে জমি চাষ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়াই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই চিরচেনা দৃশ্যটি।

এক সময় দেখা যেত সেই কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়তো মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। তাই আর সকালে কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেতে আর দেখা যায় না কৃষকদের।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গরু, লাঙল ও জোয়াল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাল চাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়। এক সময় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষক গরু, মহিষ পালন করত হাল চাষ করার জন্য। আবার অনেকে গবাদিপশু দিয়ে হাল চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন।

আবার অনেকে, ধান গম, ভুট্টা, তিল, সরিষা, কলাই, আলু প্রভৃতি চাষের জন্য ব্যবহার করতেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা।
আগে দেখা যেত কাক ডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেড়িয়ে পড়ত। এখন আর চোখে পড়ে না সে দৃশ্য। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমি চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদলি করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল দিয়ে জমিতে হাল চাষ।হরিপুর উপজেলা টেংরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৬০) জানান মানুষ আজ অতীত কে দিন দিন ভুলে যাচ্ছে, আধুনিক চাষাবাদের কারণে আর সেই লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ তেমন করা হয় না। যদি ও মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে তবে কোন একসময় এই চাষ পদ্ধতি বিলীন হয়ে যাবে, হয়তো সামনের প্রজন্ম লাঙ্গল চাষ পদ্ধতি শুধু বইয়ের পৃষ্ঠায় পড়াবে স্বচোখে দেখবে না। তাই আমার উচিত এর সঠিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।