
স্টাফ রিপোর্টারঃ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অজয়পাড়া গাঁয়ে সর্ব রোগের চিকিৎসা করছেন বহুল আলোচিত কবিরাজ আব্দুল মালেক প্রকাশ মানিক খোনার। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চিকিৎসার নামে এ অপ-চিকিৎসার ব্যবসা। কোন এক অদৃশ্য ছায়া চলছে মানিক খোনারের অপ-চিকিৎসা।
সৌদি প্রবাসী আব্দুল মালেক মানিক প্রবাস জীবন ছেড়ে ২০১৬সাল হতে (মানিক খোনার)পরিচয়ে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের হাঁট গাঁও গ্রামে চিকিৎসক না হয়েও শুরু করেন কবিরাজি হা-তুড়ে চিকিৎসা ও খোনারী ব্যবসা।
বুধবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখতে পাই হাটগাও গ্রামের আব্দুল গফুর পাটোয়ারী বাড়ির প্রবেশ পথে মৃত মোজাফফর মিয়ার ছেলে মানিক খোনার বিগত ৯ বছর হতে ক্যান্সার ডায়াবেটিক পলিপাস, সংসারে অমিল, বিয়ে না হওয়া, আপস, সহ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন রোগে সারিয়ে দেয়ার আশ্বাসে প্রতারণার মাধ্যমে সোনাইমুড়ী সহ নোয়াখালী জেলায় তথা দূরদূরান্তের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল অঙ্কের টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিগণ বলেন কবিরাজ মানিকের বাড়ীতে প্রতিদিন ভোর হতে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত ৪০০ হতে ৫০০ রোগীর চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
তারা আরো বলেন পলিপাস রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন নাকের ভেতরে আম পাতা গোল করে পলিপাসের মাংস পিণ্ডকে আঘাতের মাধ্যমে ক্ষত-বিক্ষত করে রক্ত ক্ষরণের মাধ্যমে। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে মাথা চক্কর দিয়ে বেহুশ হয়েছেন অনেকেই।মানিক খোনারের এ কার্যক্রমটি চলমান সেটি একটি ছোটখাট স্কুল ভবনের মত।
রোগিরা বসার জন্য রয়েছে (১০০)এর অধিক বসার বেঞ্চ। রোগিদেরকে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস এর মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন কার কি লাগবে। রয়েছে তার পরিচালিত বিভিন্ন উপকরণ বিক্রির একটি দোকান। যেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে উল্লেখিত সামগ্রী রোগীরা টাকা দিয়ে কিনে নেন। এ দোকানটি পরিচালিত হচ্ছে তারই লোকের মাধ্যমে। আগত রোগীরা বেশি দামে ২০০ হতে ৫০০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন এ উপকরণ ।
রোগী দেখার সময় নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।যে সমস্ত রোগীর বড় ধরনের সমস্যা তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তার জেলা সদর মাইজদীর বাসায়।
স্থানীয় জন সাধারণের মাধ্যমে জানাযায় এই অপচিকিৎসা পদ্ধতিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে গড়ে তুলেছেন এলাকায় একটি মাদ্রাসা। বিভিন্ন মহলে প্রচার করেন আমি এই ইনকাম দিয়ে ইসলামের খেদমত করি, অথচ ওই মাদ্রাসা সংলগ্ন রয়েছে আগে থেকেই আরেকটি মাদ্রাসা। তিনি ওই মাদ্রাসাটিকে নিজের অর্থায়নে পরিচালনার কথা বললে এলাকাবাসী তাতে রাজি হননি, গড়ে তুলেন নিজের ধান্দা চিটিং বাজি ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আরেকটি প্রতিষ্ঠান,যার সকল খরছ তিনি নিজেই বহন করেন।
মানিক খোনারের বাড়ির আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে জানা যায়, ৯বছর আগে কবিরাজ মানিক নুন আনতে ফান্তা পুরাতো মানিক আগে বসবাস করত নিজের গ্রামের বাড়িতে। খোনারী ব্যবসা শুরু করার পর হতে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। পরিবার নিয়ে বসবাস করেন মাইজদী জেলা সদরে নিজস্ব ফ্ল্যাটে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে রয়েছে তার ৬ একরের অধিক সম্পত্তি।
তার এই ধান্দা চিটিংবাজী ব্যবসা কে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব একটি বাহিনী। কখনো কেউ তার এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কথা বললে এদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকাবাসী অতীতে বিভিন্ন সময় তার এমন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছে।
এর আগে মানিক খোনারের দুর্নীতির বিষয়ে জাতীয় পত্রিকা দৈনিক মানবজমিন,যায়যায়দিন, দৈনিক জাতীয় নিশান, দৈনিক নোয়াখালীর সময় পত্রিকাসহ একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর, সাবেক সোনাইমুড়ি উপজেলা ইউএনও টিনা পাল মানিক খোনারের আস্তানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মুসলেকা আদায় করেন।
সাবেক নির্বাহী অফিসার রহিমা বেগম তার আখড়ায় গিয়ে তার এই কবিরাজি অপ-চিকিৎসা ও কবিরাজি খোনকারী বন্ধ করার বিষয়ে সাবধান করেন এবং বলেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম চালু রাখলে তাকে আইনের আশ্রয়ে নেওয়া হবে বলে সর্তক করা হয়েছে।
কবিরাজি কিছুদিন বন্ধ রাখার পর, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় আবার কার্যক্রম শুরু করেন। এরপরে সোনাইমুড়ি ইউএন রবিউল ফয়সাল আবার তাকে সতর্ক করে আসেন। তাতেও তিনি কর্ণপাত না করে তার অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছেন। গত (৩) জানুয়ারি ২০১৭ সাবেক ইউ এন ও রবিউল তাকে গ্রেফতার করান। গাড়িতে উঠানোর পর তার অনুগত বাহিনী ইউএনও সাহেবের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং মানিক খোনার কে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।বোমা ফাটিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ইউএনও মহোদয় তাকে না পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তার এহেন কাজের সহযোগী মেয়ে মিম ও মিলন নামক (২) দুজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ইউএনও মহোদয়ের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।মিলন কে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রধান করেন। তার অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।
উক্ত বিষয়ে তার নিজ বাড়ির লোক তার এবং তার নিজস্ব বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে নোয়াখালী কোর্টে ৫ এই জানুয়ারি২০১৭, ১১/১৭ মামলা দায়ের করেন। তার এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকিতে ২০ এই ফেব্রুয়ারি ২০১৭ মোঃ গোলাম ফারুক বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটপিটিশন নং ২৩৫৪। গত (২০) এপ্রিল ২০১৭ মোঃ আবু সাঈদ বাদি হয়ে মানিক খোনার এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত হতে প্রতিকারের জন্য সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিডি করেন, জিডি নং ৯২৫।
মহামান্য হাইকোর্ট সর্বশেষ এক আদেশে মোঃ আব্দুল মালেক ওরফে মানিক খোনারের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করেন। তৎকালীন সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় মানিকখোনারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। যাহা তৎকালীন সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১৮ এই সেপ্টেম্বর ২০১৭ মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের জবাব প্রেরণ করেন।
কবিরাজ মানিক খোনারের চিকিৎসা পদ্ধতি ও খোনারী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা বিষয়ে ট্রেনিং এবং
Reporter Name 









