8:19 am, Monday, 2 November 2026

কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ৪০ এর অধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:21:37 am, Tuesday, 20 May 2025
  • 168 Time View

মোঃ সিয়াম সিকদারঃ পাবনার বেড়া উপজেলার কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দিনে, হঠাৎ করে ৪০ এর অধিক শিক্ষার্থী অচেতন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।

সোমবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় ক্লাস শুরু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের আঙিনায় ঢোকার পর থেকে রবিবারের মতো একই রকম অসুস্থ বোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে অ্যাসেম্বলি শুরু হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে সেখানেই পড়ে যায়। ভয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে দৌড়ে ঢুকলে সেখানেও গণ হারে তারা অসুস্থ হতে থাকে। তাদের বেশির ভাগই একপর্যায়ে চেতনা হারিয়ে ফেলে। এভাবে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় শিক্ষক ও সুস্থ থাকা শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে তাদের মাথায় পানি ঢালতে থাকে। খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাশিনাথপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে তাদের চিকিসা দেন। অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়েও চিকিৎসক ডেকে এনে চিকিৎসা দেন। দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের আশেপাশের ডিসপেনসারিগুলোতে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। এমনই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি অথবা অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,গত রোববার দুপুর দুটার দিকে হঠাৎ করেই ছয় থেকে সাতজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।আমরা তাদের বিভিন্ন চিৎিসাকেন্দ্রে পাঠাই। পরে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ায় বিষয়টি আমরা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো তারা না খেয়ে আসায় দুর্বল হয়ে অসুস্থ হয়েছে।

কিন্তু সোমবার সকাল ১০টার দিকে অ্যাসেম্বলিতে একজন ছাত্র ও ছাত্রী অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে পাঠানোর পর একে একে আজ ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের আশেপাশের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্হা করি। ইতিমধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। আসলে ঠিক কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে তা বলতে পারছি না।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এতগুলো শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনা শুনেই সেখানে পুলিশ পাঠাই এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোয় সহায়তা করি। ঠিক কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে তা চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা জানান, ‘আমাদের হাসপাতাল থেকে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় ও তিনজনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া তিন শিক্ষার্থী এখন অনেকটাই সুস্থ। প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বলে ধারণা করছি। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি জানান।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ মোরশেদুল ইসলাম বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের অচেতন হয়ে পড়ার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ৪০ এর অধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

Update Time : 12:21:37 am, Tuesday, 20 May 2025

মোঃ সিয়াম সিকদারঃ পাবনার বেড়া উপজেলার কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দিনে, হঠাৎ করে ৪০ এর অধিক শিক্ষার্থী অচেতন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।

সোমবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় ক্লাস শুরু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের আঙিনায় ঢোকার পর থেকে রবিবারের মতো একই রকম অসুস্থ বোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে অ্যাসেম্বলি শুরু হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে সেখানেই পড়ে যায়। ভয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে দৌড়ে ঢুকলে সেখানেও গণ হারে তারা অসুস্থ হতে থাকে। তাদের বেশির ভাগই একপর্যায়ে চেতনা হারিয়ে ফেলে। এভাবে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় শিক্ষক ও সুস্থ থাকা শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে তাদের মাথায় পানি ঢালতে থাকে। খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাশিনাথপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে তাদের চিকিসা দেন। অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়েও চিকিৎসক ডেকে এনে চিকিৎসা দেন। দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের আশেপাশের ডিসপেনসারিগুলোতে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। এমনই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি অথবা অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,গত রোববার দুপুর দুটার দিকে হঠাৎ করেই ছয় থেকে সাতজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।আমরা তাদের বিভিন্ন চিৎিসাকেন্দ্রে পাঠাই। পরে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ায় বিষয়টি আমরা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো তারা না খেয়ে আসায় দুর্বল হয়ে অসুস্থ হয়েছে।

কিন্তু সোমবার সকাল ১০টার দিকে অ্যাসেম্বলিতে একজন ছাত্র ও ছাত্রী অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে পাঠানোর পর একে একে আজ ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের আশেপাশের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্হা করি। ইতিমধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। আসলে ঠিক কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে তা বলতে পারছি না।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এতগুলো শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনা শুনেই সেখানে পুলিশ পাঠাই এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোয় সহায়তা করি। ঠিক কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে তা চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা জানান, ‘আমাদের হাসপাতাল থেকে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় ও তিনজনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া তিন শিক্ষার্থী এখন অনেকটাই সুস্থ। প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বলে ধারণা করছি। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি জানান।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ মোরশেদুল ইসলাম বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের অচেতন হয়ে পড়ার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।