
মুজাহিদ হোসেন : নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুল্লাহর বিরুদ্ধে সনদ বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি লেখাপড়া না জানা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণি উত্তীর্ণের জাল সনদ প্রদান করছেন। এসব সনদ ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাচ্ছেন এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, শিক্ষক আসাদুল্লাহ ঐ বিদ্যালয়ে না পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা উপস্থিতি ছাড়াই টাকা নিয়ে সনদ প্রদান করেন। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আসাদুল্লাহ অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অনেকেই গার্মেন্টস, ড্রাইভিং বা চাকরির প্রয়োজনে সনদ চায়। আমি মানবিক বিবেচনায় তাদের সহযোগিতা করি। বিনিময়ে কিছু হাদিয়া বা অর্থ গ্রহণ করা হয়, যা দান হিসেবেই দেখি।”
তবে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বলছেন, এটি কোনো মানবিক সহযোগিতা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি সুসংগঠিত আর্থিক লেনদেন নির্ভর অনৈতিক চক্র, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও প্রকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নওগাঁ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াসিউর রহমান বলেন, “এ ধরনের সনদ প্রদানের কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও শিক্ষক আসাদুল্লাহর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ এবং এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করার সাহস না পায়।
Reporter Name 








