1:26 pm, Monday, 2 November 2026
অভয়নগরে ধর্ষনের

অভয়নগরে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় সবিতাকে

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:12:30 pm, Saturday, 12 April 2025
  • 82 Time View

মোঃ আবুল বাসার : অভয়নগরে গরুর খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সি গৃহবধূ সবিতা রাণী দে। নিখোঁজের ৩৩ ঘন্টা পর প্রতিবেশী নিয়ামুল শেখের শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন প্রায় পাঁচ মাস পর হাতে পেয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের দেবপাড়া এলাকায় গৃহবধূ সবিতা রাণী দে’র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সেই ভিসেরার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ সবিতা রাণী দে’র স্বামী মিলন কুমার দে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তার প্রতিবেশী ভাটপাড়া গ্রামের দেবপাড়া এলাকার নিয়ামুল শেখ (২৬), তার বাবা রমজান শেখ (৪৯) ও চাচা ইউনুস শেখের (৪১) নাম উল্লেখ করেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করে। তিনজনের মধ্যে নিয়ামুল শেখ কারাগারে আছেন। অন্য দুইজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে গরুর খাবার সংগ্রহ করতে বাড়ির পাশে বাঁশবাগানে যান ওই গৃহবধূ। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে না আসলে পরিবার ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর (নিখোঁজের প্রায় ৩৩ ঘন্টা) সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশে বাঁশবাগান সংলগ্ন নিয়ামুল শেখের শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা কিছুটা উঁচু দেখা যায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা উঁচু করলে একটি হাত দেখা যায়। খবর পেয়ে উপজেলার ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানায়, হিন্দু ওই গৃহবধূর স্বামী সিঙ্গাড়া, পুরি ও চায়ের দোকানী। স্থানীয় ভাটপাড়া বাজারে তার দোকান রয়েছে। তাদের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনে থাকতেন।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ওই গৃহবধূর মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাতে ওই গৃহবধূর (নারী) শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন রয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, ওই গৃহবধূর মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে পাঠানো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

অভয়নগরে ধর্ষনের

অভয়নগরে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় সবিতাকে

Update Time : 12:12:30 pm, Saturday, 12 April 2025

মোঃ আবুল বাসার : অভয়নগরে গরুর খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সি গৃহবধূ সবিতা রাণী দে। নিখোঁজের ৩৩ ঘন্টা পর প্রতিবেশী নিয়ামুল শেখের শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন প্রায় পাঁচ মাস পর হাতে পেয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের দেবপাড়া এলাকায় গৃহবধূ সবিতা রাণী দে’র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সেই ভিসেরার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ সবিতা রাণী দে’র স্বামী মিলন কুমার দে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তার প্রতিবেশী ভাটপাড়া গ্রামের দেবপাড়া এলাকার নিয়ামুল শেখ (২৬), তার বাবা রমজান শেখ (৪৯) ও চাচা ইউনুস শেখের (৪১) নাম উল্লেখ করেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করে। তিনজনের মধ্যে নিয়ামুল শেখ কারাগারে আছেন। অন্য দুইজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে গরুর খাবার সংগ্রহ করতে বাড়ির পাশে বাঁশবাগানে যান ওই গৃহবধূ। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে না আসলে পরিবার ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর (নিখোঁজের প্রায় ৩৩ ঘন্টা) সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশে বাঁশবাগান সংলগ্ন নিয়ামুল শেখের শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা কিছুটা উঁচু দেখা যায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা উঁচু করলে একটি হাত দেখা যায়। খবর পেয়ে উপজেলার ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানায়, হিন্দু ওই গৃহবধূর স্বামী সিঙ্গাড়া, পুরি ও চায়ের দোকানী। স্থানীয় ভাটপাড়া বাজারে তার দোকান রয়েছে। তাদের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনে থাকতেন।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ওই গৃহবধূর মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাতে ওই গৃহবধূর (নারী) শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন রয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, ওই গৃহবধূর মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে পাঠানো হবে।