5:00 pm, Monday, 2 November 2026

প্রভাবশালী আলমগীরের মামলার আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:12:50 pm, Saturday, 28 December 2024
  • 64 Time View

মোঃ ফারজুল ইসলাম, রংপুর : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ইটভাটা মালিক আলমগীর বাদশা এলাকায় দাপট ও প্রভাব বিস্তারে হয়রানিসহ দমন পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে মামলাকে বেছেনিয়েছেন । তিনি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নামে একের পর এক মামলা রুজু করে ইতোমধ্য আলোচনার ঝড় তুলেছেন। নানা অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাক্তির নামে পর্যায়ক্রমে মামলা দায়ের অব্যহত রয়েছে। ইতোমধ্য থানা, কোর্ট কাচারীতে প্রায় ২০টি নিয়মিত ও প্রচিকিউশন মামলায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তিতে হয়রানিতে ফেলেছেন তিনি। ফলে ভীত সন্ত্রস্থ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এ পরিস্থিতি থেকে অব্যহতি পেতে অনেকে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

একাধিক অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার থিরারপাড়া গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে ইটভাটা ব্যবসায়ী আলমগীর বাদশা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে কিছু বখাটেদের সঙ্গে নিয়ে তার নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে যারাই বাধা হচ্ছেন তাদের দমনের জন্য একের পর এক মামলা দিচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আলমগীর বাদশা বিগত ২০২০ সনের সেপ্টেম্বরে থিরারপাড়া গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলেরা সেলিমনমিয়াসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে রংপুরের বিজ্ঞ কগনিজেন্সবা আমলি আদালতে একটা মামলা করে। যার সিআর নং-৩৭৯/২২। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। চলতি ২০২৪ সনের ২৫ আগষ্ট জাফরপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামসহ ৭ জনকে আসামীকরে পীরগঞ্জ থানায় একটা মামলা করে।

যার নং-২০/২৭৮। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর থিরারপাড়া গ্রামের মৃতআফজাল হোসেনের ছেলে আজিজ মিয়াসহ ৯ জনকে আসামী করে রংপুরের বিজ্ঞ কগনিজেন্স আদালতে একটা মামলা করে। যার সিআর নং-৬৬৩/২৪ । চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থিরারপাড়া গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে জুয়েলমিয়াসহ ৪ জনকে আসামী করে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করে। যার নং-১৭/১২৮।

এ ছাড়া আলমগীর হোসেন বিগত ২০২৩ সনের ১১ জুন থিরারপাড়া গ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইসলাম মিয়াসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে পীরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। যার নং-৮৫৯ । চলতি বছরের ৩০ মার্চ খেতাবেরপাড়া গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে আয়নাল হকসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে পীরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। যার নং- ২৫২২। উপরোক্ত মামলা ছাড়াও আলমগীর বাদশা আরও অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

সম্প্রতি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মামলায় আলমগীর বাদশাসহ তার ২ ম্যানেজার সুমন ও মন্টুএবং ছেলে ফারহান সহ ২১ দিন জেলহাজতে থাকে। এই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করায় মাইটিভির মাহমুদুল হাসান ও এশিয়ানটিভির মিনহাজুল ইসলামসহ ১৩ জনকে আসামী করে রংপুর আদালতে ডাকাতি মামলার অভিযোগ দাখিল করেন আলমগীর বাদশা। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে ১৯ ডিসেম্বর আলমগীর বাদশার ভাই শহিদুল ইসলাম রংপুরের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে উল্লেখিত মামলা গুলির সুষ্ট তদন্ত এবং আলমগীর বাদশা যেন আর কোন মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানান।

বিশিষ্ট ডিস ব্যবসায়ি শামিম মিয়া জানান, প্রায় ২০টি মামলার বাদী আলমগীর বাদশা, প্রায় সবগুলো মামলার স্বাক্ষীরা একই ব্যক্তি, মিথ্যা মামলায় ইতোমধ্য শতাধিক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আলমগীর বাদশা জানান, ব্যবসায়িক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায়শ ক্রতা আরাম্ভ হয়। ব্যবসা, জমি ও অর্থ সংক্রান্তঘটনার জের ধরে বিভিন্ন সময়ে মামলা রুজু করেছি। আমি মিথ্যা মামলা করিনি বরং নিজেই মিথ্যা মামলায় ২১দিন জেলহাজত খেটেছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

প্রভাবশালী আলমগীরের মামলার আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর

Update Time : 12:12:50 pm, Saturday, 28 December 2024

মোঃ ফারজুল ইসলাম, রংপুর : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ইটভাটা মালিক আলমগীর বাদশা এলাকায় দাপট ও প্রভাব বিস্তারে হয়রানিসহ দমন পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে মামলাকে বেছেনিয়েছেন । তিনি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নামে একের পর এক মামলা রুজু করে ইতোমধ্য আলোচনার ঝড় তুলেছেন। নানা অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাক্তির নামে পর্যায়ক্রমে মামলা দায়ের অব্যহত রয়েছে। ইতোমধ্য থানা, কোর্ট কাচারীতে প্রায় ২০টি নিয়মিত ও প্রচিকিউশন মামলায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তিতে হয়রানিতে ফেলেছেন তিনি। ফলে ভীত সন্ত্রস্থ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এ পরিস্থিতি থেকে অব্যহতি পেতে অনেকে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

একাধিক অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার থিরারপাড়া গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে ইটভাটা ব্যবসায়ী আলমগীর বাদশা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে কিছু বখাটেদের সঙ্গে নিয়ে তার নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে যারাই বাধা হচ্ছেন তাদের দমনের জন্য একের পর এক মামলা দিচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আলমগীর বাদশা বিগত ২০২০ সনের সেপ্টেম্বরে থিরারপাড়া গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলেরা সেলিমনমিয়াসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে রংপুরের বিজ্ঞ কগনিজেন্সবা আমলি আদালতে একটা মামলা করে। যার সিআর নং-৩৭৯/২২। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। চলতি ২০২৪ সনের ২৫ আগষ্ট জাফরপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামসহ ৭ জনকে আসামীকরে পীরগঞ্জ থানায় একটা মামলা করে।

যার নং-২০/২৭৮। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর থিরারপাড়া গ্রামের মৃতআফজাল হোসেনের ছেলে আজিজ মিয়াসহ ৯ জনকে আসামী করে রংপুরের বিজ্ঞ কগনিজেন্স আদালতে একটা মামলা করে। যার সিআর নং-৬৬৩/২৪ । চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থিরারপাড়া গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে জুয়েলমিয়াসহ ৪ জনকে আসামী করে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করে। যার নং-১৭/১২৮।

এ ছাড়া আলমগীর হোসেন বিগত ২০২৩ সনের ১১ জুন থিরারপাড়া গ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইসলাম মিয়াসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে পীরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। যার নং-৮৫৯ । চলতি বছরের ৩০ মার্চ খেতাবেরপাড়া গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে আয়নাল হকসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে পীরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। যার নং- ২৫২২। উপরোক্ত মামলা ছাড়াও আলমগীর বাদশা আরও অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

সম্প্রতি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মামলায় আলমগীর বাদশাসহ তার ২ ম্যানেজার সুমন ও মন্টুএবং ছেলে ফারহান সহ ২১ দিন জেলহাজতে থাকে। এই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করায় মাইটিভির মাহমুদুল হাসান ও এশিয়ানটিভির মিনহাজুল ইসলামসহ ১৩ জনকে আসামী করে রংপুর আদালতে ডাকাতি মামলার অভিযোগ দাখিল করেন আলমগীর বাদশা। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে ১৯ ডিসেম্বর আলমগীর বাদশার ভাই শহিদুল ইসলাম রংপুরের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে উল্লেখিত মামলা গুলির সুষ্ট তদন্ত এবং আলমগীর বাদশা যেন আর কোন মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানান।

বিশিষ্ট ডিস ব্যবসায়ি শামিম মিয়া জানান, প্রায় ২০টি মামলার বাদী আলমগীর বাদশা, প্রায় সবগুলো মামলার স্বাক্ষীরা একই ব্যক্তি, মিথ্যা মামলায় ইতোমধ্য শতাধিক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আলমগীর বাদশা জানান, ব্যবসায়িক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায়শ ক্রতা আরাম্ভ হয়। ব্যবসা, জমি ও অর্থ সংক্রান্তঘটনার জের ধরে বিভিন্ন সময়ে মামলা রুজু করেছি। আমি মিথ্যা মামলা করিনি বরং নিজেই মিথ্যা মামলায় ২১দিন জেলহাজত খেটেছি।