10:21 am, Monday, 2 November 2026

নির্মাণের এক বছর না যেতেই সড়কে ধস

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:17:07 pm, Sunday, 8 December 2024
  • 76 Time View

‎‎মোঃ রেজাউল করিম, ‎নাটোর : ‎নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত আরসিসি রাস্তা ১০ মাস না যেতেই ধসে পড়েছে। এতে হাজারও মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও রড কম দেওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে।
‎
‎পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার কোভিট ১৯ রেসপন্স রিকভারি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় দুটি রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। এর একটি পৌরসভার খালের তীরবর্তী কেশবপুর ব্রিজ থেকে কবরস্থান পর্যন্ত ৭০০ মিটার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে মেসার্স একে এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ১৬ আগস্ট রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে। শেষ হয় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটির কেশবপুর এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার ধসে গেছে। নিয়মানুযায়ী রাস্তার ঢালাইয়ের জয়েন্টে বা মেচিৎবারে রড ব্যবহার করা হয়নি। তাই রাস্তা নির্মাণের বছর না ঘুরতেই ধসে পড়েছে। রাস্তাটি দিয়ে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় না।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তায় শিডিউল অনুযায়ী ঢালাইয়ের মিশ্রণ করা হয়নি। খাঁচা নির্মাণে রডের ‎পরিমাণ কম দিয়েছে।
‎কোথাও জয়েনিং বা মেচিৎবারে রড ব্যবহার করা হয়নি। আবার বেশ কিছু জায়গায় ঢালাইয়ের ৫ ইঞ্চির কম থিকনেস দেওয়া হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় মো. জিয়াউল ও আল আমিন নামে দু’জন বলেন, গত ৯ মাস আগে যেমন তেমনভাবে রাস্তাটি করা হয়। সেই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভয়ে কাজে অনিয়ম করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। ফলে খালে পানি না থাকলেও গত ১০/১২ দিন আগে হঠাৎ করে রাতের বেলায় ধসে পড়ে রাস্তাটি। এতে চলাচলে মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি জনগনের । পাশাপাশি রাস্তার কাজের অনিয়মের জন্য ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনগণ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অত্যাধিকারী আবুল খায়ের বলেন, নিয়মানুযায়ী রাস্তার কাজ করা হয়েছে। খালের মাটি ধসে যাওয়ায় সড়ক ধসে গেছে।
‎
‎পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ‎বলেন, রাস্তার নিচে মাটি সরে যাওয়ায় ধসে গেছে। রাস্তাটির জয়েন্টে রডের মেচিংবার দেওয়া হয়নি। ডুয়েল বার থাকার কথা ছিল। আইটেমটা মিসটেক হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান বলেন, ঢাকা থেকে প্রকল্প অফিসের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে তদন্ত করে গেছেন। তারা প্রকল্প অফিসে তদন্ত রিপোর্ট দেবেন। এ ছাড়া তিনজন প্রকৌশলীর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন বলে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

নির্মাণের এক বছর না যেতেই সড়কে ধস

Update Time : 01:17:07 pm, Sunday, 8 December 2024

‎‎মোঃ রেজাউল করিম, ‎নাটোর : ‎নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত আরসিসি রাস্তা ১০ মাস না যেতেই ধসে পড়েছে। এতে হাজারও মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও রড কম দেওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে।
‎
‎পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার কোভিট ১৯ রেসপন্স রিকভারি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় দুটি রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। এর একটি পৌরসভার খালের তীরবর্তী কেশবপুর ব্রিজ থেকে কবরস্থান পর্যন্ত ৭০০ মিটার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে মেসার্স একে এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ১৬ আগস্ট রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে। শেষ হয় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটির কেশবপুর এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার ধসে গেছে। নিয়মানুযায়ী রাস্তার ঢালাইয়ের জয়েন্টে বা মেচিৎবারে রড ব্যবহার করা হয়নি। তাই রাস্তা নির্মাণের বছর না ঘুরতেই ধসে পড়েছে। রাস্তাটি দিয়ে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় না।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তায় শিডিউল অনুযায়ী ঢালাইয়ের মিশ্রণ করা হয়নি। খাঁচা নির্মাণে রডের ‎পরিমাণ কম দিয়েছে।
‎কোথাও জয়েনিং বা মেচিৎবারে রড ব্যবহার করা হয়নি। আবার বেশ কিছু জায়গায় ঢালাইয়ের ৫ ইঞ্চির কম থিকনেস দেওয়া হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় মো. জিয়াউল ও আল আমিন নামে দু’জন বলেন, গত ৯ মাস আগে যেমন তেমনভাবে রাস্তাটি করা হয়। সেই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভয়ে কাজে অনিয়ম করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। ফলে খালে পানি না থাকলেও গত ১০/১২ দিন আগে হঠাৎ করে রাতের বেলায় ধসে পড়ে রাস্তাটি। এতে চলাচলে মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি জনগনের । পাশাপাশি রাস্তার কাজের অনিয়মের জন্য ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনগণ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অত্যাধিকারী আবুল খায়ের বলেন, নিয়মানুযায়ী রাস্তার কাজ করা হয়েছে। খালের মাটি ধসে যাওয়ায় সড়ক ধসে গেছে।
‎
‎পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ‎বলেন, রাস্তার নিচে মাটি সরে যাওয়ায় ধসে গেছে। রাস্তাটির জয়েন্টে রডের মেচিংবার দেওয়া হয়নি। ডুয়েল বার থাকার কথা ছিল। আইটেমটা মিসটেক হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান বলেন, ঢাকা থেকে প্রকল্প অফিসের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে তদন্ত করে গেছেন। তারা প্রকল্প অফিসে তদন্ত রিপোর্ট দেবেন। এ ছাড়া তিনজন প্রকৌশলীর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন বলে জানা গেছে।