8:57 am, Monday, 2 November 2026

ধোঁয়া ওঠা পিঠায় শীতের আগমনী বার্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:17:11 pm, Monday, 2 December 2024
  • 162 Time View

মোঃ শামীম হোসেন, খুলনা : খুলনার দাকোপের বাজুয়ায় ভাপা পিঠা বানিয়ে ক্রেতাদের জন্য সাজিয়ে রাখছেন ফাতেমা বেগম নামের এই নারী বিক্রেতা। হেমন্তের সোনালি ধানের চোখ ভোলানো প্রকৃতি পেরিয়ে আসে পাতা ঝরা শীত। আর শীতের সকাল মানেই কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতি আর বাড়ির উঠানে ধোঁয়া ওঠা চুলায় পিঠা তৈরির প্রস্তুতি।

বাংলার শীত যেন পিঠা-পুলির উৎসবকে কেন্দ্র করে আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে। বাঙালির এই পিঠার সংস্কৃতি প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই শীতকালে পিঠার বিশেষ স্থান রয়েছে। কিন্তু কর্মব্যস্ততার কারণে শীতকালে শহরের জীবনে পিঠার এক আলাদা আবেদন থাকে। গ্রামবাংলার উঠানে পিঠার ধোঁয়া আর সরল আয়োজন হয়তো শহরের ব্যস্ত জীবনে অনুপস্থিত, কিন্তু শহুরে মানুষের শীতকালীন পিঠার প্রতি ভালোবাসা কোনও অংশেই কম নয়।

সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার মধ্যেও শহুরে শীতের পিঠা বাঙালির ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। শহরে শীতের পিঠা মানেই রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা চিতই পিঠার ঘ্রাণ বা গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে আড্ডা, অফিসফেরত মানুষের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করে। আবার শীতের সকালে বাসায় নারকেল কুঁচি আর খেজুরের গুড় দিয়ে মায়ের তৈরি পিঠার স্বাদ শহুরে জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

রাস্তার পাশে পিঠা বানানোতে ব্যস্ত এক বিক্রেতা কর্মব্যস্ত মানুষকে কেন্দ্র করে শহরের ফুটপাতগুলো চলে শীতকালীন পিঠাসহ নানান খাবারের দোকান। শহরের বিভিন্ন জনাকীর্ণ মোড়ে বসে এসব দোকান। শহরের কিছু দূর যেতে চোখে পড়ে ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা ও মোমোর দোকান। এছাড়া শীতকালে ভাজাপোড়ার রয়েছে বিশেষ চাহিদা, পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নকশী পিঠা ও সিদ্ধ হাঁসের ডিম। কর্মব্যস্ত অফিস ফেরত মানুষ, শীতের ক্লান্ত বিকালে বিষণ্ণতা কাটাতে ঘুরতে বের হওয়া দম্পতি, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, দিনমজুরসহ সব শ্রেণির মানুষ এসব দোকানের ক্রেতা।

এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহুরে শীত জমতে শুরু করেছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।অফিস শেষ করে ঘুরতে বেরিয়েছেন সাজিয়া-শাহজাহান দম্পতি। তারা এসেছেন ভাপা পিঠার দোকানে। তারা জানান, গরম গরম পিঠা খাওয়ার মজাটাই আলাদা। ‘শীতের পিঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি। শৈশবে মা-দাদুর হাতের পিঠার স্বাদ, গ্রামবাংলার পিঠা উৎসব, সব কিছু মনে পড়ে যায় শীতের এসব পিঠা হাতে নিলে। পিঠা ছাড়া যেন ঠিক শীত শীত অনুভূতি কাজ করে না। শহরের ব্যস্ত মানুষের জন্য এই ধরনের আয়োজন (ফুটপাতে পিঠার দোকান)।

ভাপা পিঠার দোকানে বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খাচ্ছিলেন রায়হান শিকদার। তিনি বলেন, ‘শীতকাল মানেই খাওয়ার আয়োজন। সেটার মধ্যে অবশ্যই পিঠা চাই, সেটি না হলে জমে না। আমাদের শীতকে উপভোগ্য করতে যারা এসব আয়োজন করছেন তাদের ধন্যবাদ।’ বিভিন্ন রকম হাতে বানানো সস দিয়ে পরিবেশন করা হয় বলে একটু বেশিই ভালো লাগে তাদের। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পিঠাপুলির চাহিদা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতাদের।

এলাকায় ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন সাথী আক্তার। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মে লেবুর শরবত আর শীতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে আমার সংসার চলে। আর বর্ষায় তেমন কিছু করি না। এখন প্রতিদিন সব খরচ শেষে দৈনিক পাঁচশ টাকা আয় হয়। শীত বাড়লে এই চাহিদা আরও বাড়বে আশা করি। সে সময় হাজার টাকার ওপরে আয় হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

ধোঁয়া ওঠা পিঠায় শীতের আগমনী বার্তা

Update Time : 06:17:11 pm, Monday, 2 December 2024

মোঃ শামীম হোসেন, খুলনা : খুলনার দাকোপের বাজুয়ায় ভাপা পিঠা বানিয়ে ক্রেতাদের জন্য সাজিয়ে রাখছেন ফাতেমা বেগম নামের এই নারী বিক্রেতা। হেমন্তের সোনালি ধানের চোখ ভোলানো প্রকৃতি পেরিয়ে আসে পাতা ঝরা শীত। আর শীতের সকাল মানেই কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতি আর বাড়ির উঠানে ধোঁয়া ওঠা চুলায় পিঠা তৈরির প্রস্তুতি।

বাংলার শীত যেন পিঠা-পুলির উৎসবকে কেন্দ্র করে আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে। বাঙালির এই পিঠার সংস্কৃতি প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই শীতকালে পিঠার বিশেষ স্থান রয়েছে। কিন্তু কর্মব্যস্ততার কারণে শীতকালে শহরের জীবনে পিঠার এক আলাদা আবেদন থাকে। গ্রামবাংলার উঠানে পিঠার ধোঁয়া আর সরল আয়োজন হয়তো শহরের ব্যস্ত জীবনে অনুপস্থিত, কিন্তু শহুরে মানুষের শীতকালীন পিঠার প্রতি ভালোবাসা কোনও অংশেই কম নয়।

সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার মধ্যেও শহুরে শীতের পিঠা বাঙালির ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। শহরে শীতের পিঠা মানেই রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা চিতই পিঠার ঘ্রাণ বা গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে আড্ডা, অফিসফেরত মানুষের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করে। আবার শীতের সকালে বাসায় নারকেল কুঁচি আর খেজুরের গুড় দিয়ে মায়ের তৈরি পিঠার স্বাদ শহুরে জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

রাস্তার পাশে পিঠা বানানোতে ব্যস্ত এক বিক্রেতা কর্মব্যস্ত মানুষকে কেন্দ্র করে শহরের ফুটপাতগুলো চলে শীতকালীন পিঠাসহ নানান খাবারের দোকান। শহরের বিভিন্ন জনাকীর্ণ মোড়ে বসে এসব দোকান। শহরের কিছু দূর যেতে চোখে পড়ে ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা ও মোমোর দোকান। এছাড়া শীতকালে ভাজাপোড়ার রয়েছে বিশেষ চাহিদা, পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নকশী পিঠা ও সিদ্ধ হাঁসের ডিম। কর্মব্যস্ত অফিস ফেরত মানুষ, শীতের ক্লান্ত বিকালে বিষণ্ণতা কাটাতে ঘুরতে বের হওয়া দম্পতি, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, দিনমজুরসহ সব শ্রেণির মানুষ এসব দোকানের ক্রেতা।

এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহুরে শীত জমতে শুরু করেছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।অফিস শেষ করে ঘুরতে বেরিয়েছেন সাজিয়া-শাহজাহান দম্পতি। তারা এসেছেন ভাপা পিঠার দোকানে। তারা জানান, গরম গরম পিঠা খাওয়ার মজাটাই আলাদা। ‘শীতের পিঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি। শৈশবে মা-দাদুর হাতের পিঠার স্বাদ, গ্রামবাংলার পিঠা উৎসব, সব কিছু মনে পড়ে যায় শীতের এসব পিঠা হাতে নিলে। পিঠা ছাড়া যেন ঠিক শীত শীত অনুভূতি কাজ করে না। শহরের ব্যস্ত মানুষের জন্য এই ধরনের আয়োজন (ফুটপাতে পিঠার দোকান)।

ভাপা পিঠার দোকানে বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খাচ্ছিলেন রায়হান শিকদার। তিনি বলেন, ‘শীতকাল মানেই খাওয়ার আয়োজন। সেটার মধ্যে অবশ্যই পিঠা চাই, সেটি না হলে জমে না। আমাদের শীতকে উপভোগ্য করতে যারা এসব আয়োজন করছেন তাদের ধন্যবাদ।’ বিভিন্ন রকম হাতে বানানো সস দিয়ে পরিবেশন করা হয় বলে একটু বেশিই ভালো লাগে তাদের। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পিঠাপুলির চাহিদা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতাদের।

এলাকায় ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন সাথী আক্তার। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মে লেবুর শরবত আর শীতে ভাপা পিঠা বিক্রি করে আমার সংসার চলে। আর বর্ষায় তেমন কিছু করি না। এখন প্রতিদিন সব খরচ শেষে দৈনিক পাঁচশ টাকা আয় হয়। শীত বাড়লে এই চাহিদা আরও বাড়বে আশা করি। সে সময় হাজার টাকার ওপরে আয় হতে পারে।