8:12 am, Monday, 2 November 2026

কোটচাঁদপুরে রঙ্গিন ফুলকপি চাষে কলেজ ছাত্র মুস্তাকের সফলতা

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:49:00 pm, Tuesday, 6 February 2024
  • 51 Time View

মো: রমজান আলী : যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মুস্তাক হোসেন (২৫) । তিনি পড়াশোনা পাশাপাশি একজন সফল কৃষকও। রবি মৌসুম এলেই তিনি চিন্তা করেন বিরল জাতীয় কিছু চাষাবাদ করার।

এ বছর নিজের জমিতে ২ হাজার রঙ্গিন ফুল কপি চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার জমিতে হলুদ, বেগুনি ও সবুজ রংয়ের ফুলকপি দেখতে প্রতিদিনই মানুষ আসছেন। তাদের কেউ ফুলকপি কিনছেন, কেউ চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।

রং বেরংয়ের ফুল কপি চাষ করে অনেক টাকা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মুস্তাক হোসেন। রঙ্গিন কপি ভ্যালেনটিনা ও ক্যারোটিনা চাষাবাদে লাভবান হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। রঙিন ফুলকপি চাষ এটা যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্পসারন প্রকল্প ও নিরাপদ উচ্চমূল্য সজীব উৎপাদন উপজেলা কৃষি অফিসের প্রদর্শনী বলছেন কৃষি সম্পসারন অফিসার হুমায়ূন কবির।

কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের মৃত সেলিম হোসেনের ছোট ছেলে মুস্তাক হোসেন তার ২০ শতক জমিতে এই প্রথম আবাদ করেছেন হলুদ, বেগুনী ও সবুজ রংয়ের ফুলকপি। ফলন আসা পর্যন্ত খরচ হয়েছে তার মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

চারা রোপনের ৮০ দিনের মাথায় বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে রঙ্গিন এ ফুলকপি। এ কৃষক এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। যে পরিমান ফুলকপি জমিতে রয়েছে সেগুলো বিক্রি করতে পারবে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মত। সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হবে ৬৫ হাজার টাকা। এই কপি চাষে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এলাকাতে নতুন ফসল হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই এটার চাহিদা অনেক বেশি।

এলাকার মানুষ আগ্রহী হয়ে ভালো দাম দিয়ে খেত থেকেই এই ফুলকপি কিনে নিচ্ছেন। বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এসব রঙিন ফুলকপি। একেকটি ফুলকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে এখানকার অনেক কৃষক অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বাহারী রংয়ের ফুলকপি চাষ করবেন বলে ইচ্ছা পোষন করছেন। রঙ্গিন ফুল কপির বীজ পাওয়াটা সহজলভ্য হলে আগামীতে এর চাষাবাদা আরো বৃদ্ধি পাবে।

লক্ষিপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, মুস্তাক হোসেনের রঙিন ফুলকপি দেখেছি। এর চাষপদ্ধতি সম্পর্কে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েছি। আগামীতে আমিও এই রঙিন ফুলকপি চাষ করব আশা করছি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন,স্বাদ কেমন তা দেখতে জমি থেকেই ৬০ টাকা দিয়ে একটি সবুজ রঙের ফুলকপি কিনেছি। দুপুরে রান্না করবো।

কৃষকদের জন্য দুষ্প্রাপ্য রঙ্গিন ফুল কপির বীজগুলো যদি কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রনোদনা দেয়া হয় তাহলে এ অঞ্চলে রঙ্গিন কপির চাষাবাদে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়বে মিটবে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা এমনটাই মনে করছেন স্থানিয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্পসারন অফিসার হুমায়ূন কবির বলেন, মুস্তাক হোসেন একজন ছাত্র হয়েও তার নিজের জমিতে সব সময় উন্নত জাতের কিছু একটা সবজি চাষ করে থাকেন। গত বছর এ জমিতেই বিভিন্ন সজীব চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ বছরও তিনি প্রথম বারের মত আবাদ করেছেন হলুদ আর বেগুনী ও সবুজ রংয়ের ফুল কপি। ফুল কপির চারা,সার,কীটনাশক সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছে কৃষি অফিস।

অন্যান্য ফুল কপির তুলনায় এগুলো কালার ফুল হওয়াতে মানুষের কাছে এটা খুব আকর্ষনী এবং বাজারে এর চাহিদাও খুব বেশি। এ ফুলকপি পুষ্টিগুন মানসম্মত হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ফুলকপি চাষাবাদে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে।

আমরা আশা করছি আগামী রবি মৌশুমে এর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। হলুদ,সবুজ ও বেগুনী রংয়ের এ ফুলকপিতে ভিটামিন আর ফলিগ এসিড থাকার কারণে এন্টি অক্সিজেনেরও কাজ করে শরীরে এবং এটা খুব পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। যার কারণে এর চাহিদা বেশি। সকল প্রকার চাষিদের সার,বীজ সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করছে কৃষি অফিস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

কোটচাঁদপুরে রঙ্গিন ফুলকপি চাষে কলেজ ছাত্র মুস্তাকের সফলতা

Update Time : 07:49:00 pm, Tuesday, 6 February 2024

মো: রমজান আলী : যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মুস্তাক হোসেন (২৫) । তিনি পড়াশোনা পাশাপাশি একজন সফল কৃষকও। রবি মৌসুম এলেই তিনি চিন্তা করেন বিরল জাতীয় কিছু চাষাবাদ করার।

এ বছর নিজের জমিতে ২ হাজার রঙ্গিন ফুল কপি চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার জমিতে হলুদ, বেগুনি ও সবুজ রংয়ের ফুলকপি দেখতে প্রতিদিনই মানুষ আসছেন। তাদের কেউ ফুলকপি কিনছেন, কেউ চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।

রং বেরংয়ের ফুল কপি চাষ করে অনেক টাকা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মুস্তাক হোসেন। রঙ্গিন কপি ভ্যালেনটিনা ও ক্যারোটিনা চাষাবাদে লাভবান হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। রঙিন ফুলকপি চাষ এটা যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্পসারন প্রকল্প ও নিরাপদ উচ্চমূল্য সজীব উৎপাদন উপজেলা কৃষি অফিসের প্রদর্শনী বলছেন কৃষি সম্পসারন অফিসার হুমায়ূন কবির।

কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের মৃত সেলিম হোসেনের ছোট ছেলে মুস্তাক হোসেন তার ২০ শতক জমিতে এই প্রথম আবাদ করেছেন হলুদ, বেগুনী ও সবুজ রংয়ের ফুলকপি। ফলন আসা পর্যন্ত খরচ হয়েছে তার মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

চারা রোপনের ৮০ দিনের মাথায় বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে রঙ্গিন এ ফুলকপি। এ কৃষক এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। যে পরিমান ফুলকপি জমিতে রয়েছে সেগুলো বিক্রি করতে পারবে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মত। সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হবে ৬৫ হাজার টাকা। এই কপি চাষে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এলাকাতে নতুন ফসল হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই এটার চাহিদা অনেক বেশি।

এলাকার মানুষ আগ্রহী হয়ে ভালো দাম দিয়ে খেত থেকেই এই ফুলকপি কিনে নিচ্ছেন। বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এসব রঙিন ফুলকপি। একেকটি ফুলকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে এখানকার অনেক কৃষক অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বাহারী রংয়ের ফুলকপি চাষ করবেন বলে ইচ্ছা পোষন করছেন। রঙ্গিন ফুল কপির বীজ পাওয়াটা সহজলভ্য হলে আগামীতে এর চাষাবাদা আরো বৃদ্ধি পাবে।

লক্ষিপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, মুস্তাক হোসেনের রঙিন ফুলকপি দেখেছি। এর চাষপদ্ধতি সম্পর্কে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েছি। আগামীতে আমিও এই রঙিন ফুলকপি চাষ করব আশা করছি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন,স্বাদ কেমন তা দেখতে জমি থেকেই ৬০ টাকা দিয়ে একটি সবুজ রঙের ফুলকপি কিনেছি। দুপুরে রান্না করবো।

কৃষকদের জন্য দুষ্প্রাপ্য রঙ্গিন ফুল কপির বীজগুলো যদি কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রনোদনা দেয়া হয় তাহলে এ অঞ্চলে রঙ্গিন কপির চাষাবাদে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়বে মিটবে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা এমনটাই মনে করছেন স্থানিয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্পসারন অফিসার হুমায়ূন কবির বলেন, মুস্তাক হোসেন একজন ছাত্র হয়েও তার নিজের জমিতে সব সময় উন্নত জাতের কিছু একটা সবজি চাষ করে থাকেন। গত বছর এ জমিতেই বিভিন্ন সজীব চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ বছরও তিনি প্রথম বারের মত আবাদ করেছেন হলুদ আর বেগুনী ও সবুজ রংয়ের ফুল কপি। ফুল কপির চারা,সার,কীটনাশক সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছে কৃষি অফিস।

অন্যান্য ফুল কপির তুলনায় এগুলো কালার ফুল হওয়াতে মানুষের কাছে এটা খুব আকর্ষনী এবং বাজারে এর চাহিদাও খুব বেশি। এ ফুলকপি পুষ্টিগুন মানসম্মত হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ফুলকপি চাষাবাদে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে।

আমরা আশা করছি আগামী রবি মৌশুমে এর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। হলুদ,সবুজ ও বেগুনী রংয়ের এ ফুলকপিতে ভিটামিন আর ফলিগ এসিড থাকার কারণে এন্টি অক্সিজেনেরও কাজ করে শরীরে এবং এটা খুব পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। যার কারণে এর চাহিদা বেশি। সকল প্রকার চাষিদের সার,বীজ সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করছে কৃষি অফিস।