8:12 am, Monday, 2 November 2026

ভৈরবে রঙ্গিন ফুলকপি’র আবাদ করে লাভবান স্কুল শিক্ষক

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:28:04 pm, Monday, 5 February 2024
  • 48 Time View

নূরুন্নাহার নূর, কিশোরগঞ্জ থেকে : ভৈরবে রঙ্গিন ফুলকপি’র আবাদ করে লাভবান স্কুল শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম শাহিন। পেশায় তিনি একটি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সফল কৃষকও। রবি মৌশুম এলেই তিনি চিন্তা করেন বিরল জাতীয় কিছু চাষাবাদ করার।

এ বছর তিনি ২ হাজার রঙ্গিন ফুল কপি চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার জমিতে হলুদ বেগুনি রংয়ের ফুলকপি দেখতে প্রতিদিনই মানুষ আসছেন। রং বেরংয়ের ফুল কপি চাষ করে অনেক টাকা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী কৃষক সহিদুল ইসলাম শাহিন। রঙ্গিন কপি চাষাবাদে লাভবান হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা বলছেন কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম।

ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদা ইউনিয়নের আদর্শপাড়া গ্রামের সহিদুল ইসলাম শাহিন তার ১৭ শতক জমিতে এই প্রথম আবাদ করেছেন হলুদ আর বেগুনী রংয়ের ফুলকপি। ফলন আসা পর্যন্ত খরছ হয়েছে তার মাত্র ১০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ৭৫ দিনের মাথায় বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে রঙ্গিন এ ফুলকপি।

এ কৃষক এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। যে পরিমান ফুলকপি জমিতে রয়েছে সেগুলো বিক্রি করতে পারবে প্রায় ১ লাখ টাকার মত। সমস্থ খরছ বাদ দিয়ে তার আয় হবে কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এই কপি চাষে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

এলাকাতে নতুন ফসল হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই এটার চাহিদা অনেক বেশি। এ ফুলকপিগুলো তার জমি থেকেই বেশির ভাগ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানিয় বাজারগুলোতে বিক্রি করেও পাশর্^বর্তী বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারেও বিক্রি করছেন। আগামীতে এখানকার অনেক কৃষক অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বাহারী রংয়ের ফুলকপি চাষ করবেন বলে ইচ্ছা পোষন করছেন। রঙ্গিন ফুল কপির বীজ পাওয়াটা সহজলভ্য হলে আগামীতে এর চাষাবাদা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, সহিদুল ইসলাম শাহিন একজন শিক্ষক হয়েও তার নিজের জমিতে সব সময় উন্নৎ জাতের কিছু একটা সবজি চাষ করে থাকেন। গত বছর এ জমিতেই তিনি ক্যাপসিকাম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ বছরও তিনি প্রথম বারের মত আবাদ করেছেন হলুদ আর বেগুনী রংয়ের ফুল কপি।

অন্যান্য ফুল কপির তুলনায় এগুলো কালার ফুল হওয়াতে মানুষের কাছে এটা খুব আকর্ষনী এবং বাজারে এর চাহিদাও খুব বেশি। এ ফুলকপি পুষ্টিগুন মানসম্মত হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ফুলকপি চাষাবাদে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা আশা করছি আগামী রবি মৌশুমে এর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। হলুদ ও বেগুনী রংয়ের এ ফুলকপিতে ভিটামিন আর ফলিগ এসিড থাকার কারণে এন্টি অক্সিজেনেরও কাজ করে শরীরে এবং এটা খুব পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ।

কৃষকদের জন্য দুষ্প্রাপ্য রঙ্গিন ফুল কপির বীজগুলো যদি কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রনোদনা দেয়া হয় তাহলে এ অঞ্চলে রঙ্গিন কপির চাষাবাদে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়বে মিটবে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা এমনটাই মনে করছেন স্থানিয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

ভৈরবে রঙ্গিন ফুলকপি’র আবাদ করে লাভবান স্কুল শিক্ষক

Update Time : 03:28:04 pm, Monday, 5 February 2024

নূরুন্নাহার নূর, কিশোরগঞ্জ থেকে : ভৈরবে রঙ্গিন ফুলকপি’র আবাদ করে লাভবান স্কুল শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম শাহিন। পেশায় তিনি একটি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সফল কৃষকও। রবি মৌশুম এলেই তিনি চিন্তা করেন বিরল জাতীয় কিছু চাষাবাদ করার।

এ বছর তিনি ২ হাজার রঙ্গিন ফুল কপি চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার জমিতে হলুদ বেগুনি রংয়ের ফুলকপি দেখতে প্রতিদিনই মানুষ আসছেন। রং বেরংয়ের ফুল কপি চাষ করে অনেক টাকা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী কৃষক সহিদুল ইসলাম শাহিন। রঙ্গিন কপি চাষাবাদে লাভবান হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা বলছেন কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম।

ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদা ইউনিয়নের আদর্শপাড়া গ্রামের সহিদুল ইসলাম শাহিন তার ১৭ শতক জমিতে এই প্রথম আবাদ করেছেন হলুদ আর বেগুনী রংয়ের ফুলকপি। ফলন আসা পর্যন্ত খরছ হয়েছে তার মাত্র ১০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ৭৫ দিনের মাথায় বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে রঙ্গিন এ ফুলকপি।

এ কৃষক এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। যে পরিমান ফুলকপি জমিতে রয়েছে সেগুলো বিক্রি করতে পারবে প্রায় ১ লাখ টাকার মত। সমস্থ খরছ বাদ দিয়ে তার আয় হবে কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এই কপি চাষে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

এলাকাতে নতুন ফসল হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই এটার চাহিদা অনেক বেশি। এ ফুলকপিগুলো তার জমি থেকেই বেশির ভাগ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানিয় বাজারগুলোতে বিক্রি করেও পাশর্^বর্তী বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারেও বিক্রি করছেন। আগামীতে এখানকার অনেক কৃষক অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বাহারী রংয়ের ফুলকপি চাষ করবেন বলে ইচ্ছা পোষন করছেন। রঙ্গিন ফুল কপির বীজ পাওয়াটা সহজলভ্য হলে আগামীতে এর চাষাবাদা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, সহিদুল ইসলাম শাহিন একজন শিক্ষক হয়েও তার নিজের জমিতে সব সময় উন্নৎ জাতের কিছু একটা সবজি চাষ করে থাকেন। গত বছর এ জমিতেই তিনি ক্যাপসিকাম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ বছরও তিনি প্রথম বারের মত আবাদ করেছেন হলুদ আর বেগুনী রংয়ের ফুল কপি।

অন্যান্য ফুল কপির তুলনায় এগুলো কালার ফুল হওয়াতে মানুষের কাছে এটা খুব আকর্ষনী এবং বাজারে এর চাহিদাও খুব বেশি। এ ফুলকপি পুষ্টিগুন মানসম্মত হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ফুলকপি চাষাবাদে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা আশা করছি আগামী রবি মৌশুমে এর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। হলুদ ও বেগুনী রংয়ের এ ফুলকপিতে ভিটামিন আর ফলিগ এসিড থাকার কারণে এন্টি অক্সিজেনেরও কাজ করে শরীরে এবং এটা খুব পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ।

কৃষকদের জন্য দুষ্প্রাপ্য রঙ্গিন ফুল কপির বীজগুলো যদি কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রনোদনা দেয়া হয় তাহলে এ অঞ্চলে রঙ্গিন কপির চাষাবাদে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়বে মিটবে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা এমনটাই মনে করছেন স্থানিয়রা।