12:17 pm, Monday, 2 November 2026

সরকারি বই বিক্রি : আটক করলো সাধারণ জনতা

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:40:54 pm, Sunday, 28 January 2024
  • 50 Time View

শাকিল হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি : সরকারি বই বিক্রি : আটক করলো সাধারণ জনতা। নওগাঁর পত্নীতলার চকনোদবাটি সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রি করে নিয়ে যাবার পথে শিমুলিয়া বাজার এলাকায় ভ্যান কে জব্দ করেন স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন স্থানীয়রা। এঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় লোকজন।

এবিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি চকনোদবাটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বই কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এমন তথ্যেও ভিত্তিতে আমরা শিমুলিয়া বাজারে এসে দেখি একটি চার্জার ভ্যানে করে বইগুলো ক্রেতা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে চার্জার ভ্যান কে আটক করে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে জানাই।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের বলেন, আপনারা বই গুলো নিয়ে উপজেলায় আসেন। ওনার কথা মতো আমরা বইগুলো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেই। বই জমা দেবার পূর্বে আমরা বইগুলো ওজন করে দেখি ৬ মন ২৫ কেজি হয়েছে।

তারা আরো বলেন, এই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। তারা কাগজ কলমে শিক্ষার্থী ঠিক রেখেছে কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় প্রতিদিন ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসে। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই দিচ্ছে তার তারা ভূয়া শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা দিয়ে বই তুলে কেজি দরে দরে বিক্রি করছে। আমরা এই জঘন্য কাজের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

চকনোদবাটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মনোয়ারা বেগম বলেন, আমি সকালে জানতে পারি আমার এবতেদায়ি প্রধান মো: আব্দুর রহমান শাহ্ বইগুলো বিক্রি করছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানে এসে দেখি তিনি বই বিক্রি করেছেন এবং সেই বইগুলো শিমুলিয়া বাজারে স্থানীয় লোকজন জব্দ করেছে। তবে এবতেদায়ী প্রদান মো: আব্দুর রহমান শাহ্ বলছেন অন্য কথা, তিনি বলেন, আমার ভারপ্রাপ্ত সুপারসহ প্রতিষ্ঠানের সকলের অনুমতিতেই এবং তাদের সামনেই বইগুলো আমি বিক্রি করেছি। বই বিক্রির বিষয়ে কোন রেজুলেশন করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা উভয়ে বলেন, মাদ্রাসায় কমিটি না থাকায় কোন প্রকার রেজুলেশন করা হয়নি।

পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টুকটুক তালুকদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পাবার সােেথ সাথেই বইগুলো জব্দ করি। পরবতীতে তদন্তের মাধ্যমে বই বিক্রির সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

সরকারি বই বিক্রি : আটক করলো সাধারণ জনতা

Update Time : 07:40:54 pm, Sunday, 28 January 2024

শাকিল হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি : সরকারি বই বিক্রি : আটক করলো সাধারণ জনতা। নওগাঁর পত্নীতলার চকনোদবাটি সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রি করে নিয়ে যাবার পথে শিমুলিয়া বাজার এলাকায় ভ্যান কে জব্দ করেন স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন স্থানীয়রা। এঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় লোকজন।

এবিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি চকনোদবাটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বই কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এমন তথ্যেও ভিত্তিতে আমরা শিমুলিয়া বাজারে এসে দেখি একটি চার্জার ভ্যানে করে বইগুলো ক্রেতা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে চার্জার ভ্যান কে আটক করে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে জানাই।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের বলেন, আপনারা বই গুলো নিয়ে উপজেলায় আসেন। ওনার কথা মতো আমরা বইগুলো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেই। বই জমা দেবার পূর্বে আমরা বইগুলো ওজন করে দেখি ৬ মন ২৫ কেজি হয়েছে।

তারা আরো বলেন, এই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। তারা কাগজ কলমে শিক্ষার্থী ঠিক রেখেছে কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় প্রতিদিন ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসে। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই দিচ্ছে তার তারা ভূয়া শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা দিয়ে বই তুলে কেজি দরে দরে বিক্রি করছে। আমরা এই জঘন্য কাজের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

চকনোদবাটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মনোয়ারা বেগম বলেন, আমি সকালে জানতে পারি আমার এবতেদায়ি প্রধান মো: আব্দুর রহমান শাহ্ বইগুলো বিক্রি করছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানে এসে দেখি তিনি বই বিক্রি করেছেন এবং সেই বইগুলো শিমুলিয়া বাজারে স্থানীয় লোকজন জব্দ করেছে। তবে এবতেদায়ী প্রদান মো: আব্দুর রহমান শাহ্ বলছেন অন্য কথা, তিনি বলেন, আমার ভারপ্রাপ্ত সুপারসহ প্রতিষ্ঠানের সকলের অনুমতিতেই এবং তাদের সামনেই বইগুলো আমি বিক্রি করেছি। বই বিক্রির বিষয়ে কোন রেজুলেশন করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা উভয়ে বলেন, মাদ্রাসায় কমিটি না থাকায় কোন প্রকার রেজুলেশন করা হয়নি।

পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টুকটুক তালুকদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পাবার সােেথ সাথেই বইগুলো জব্দ করি। পরবতীতে তদন্তের মাধ্যমে বই বিক্রির সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।