8:13 am, Monday, 2 November 2026

খুলনার দাকোপে গোবর থেকে নুড়ি বানিয়ে স্বাবলম্বী শতাধিক নারী

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:38:38 pm, Tuesday, 19 December 2023
  • 44 Time View

মোঃশামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি: একটা নুড়ি দুই টাকা। একশো নুড়ি দুইশো টাকা। নিজেদের গরু আছে, গরুর গোবর দিয়ে নুড়ি তৈরি করে বিক্রি করি। নুড়ি বিক্রির এই টাকায় সংসারে উপকার হয়। নিজের কিছু খরচ রেখে বাকি টাকা তুলে দিই স্বামীর হাতে। ছেলে-মেয়েদেরও চাহিদা মেটানো যায়। এভাবেই কথাগুলো বললেন দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বোর্টবাড়ি গ্রামের শবরি রায় (৪৫)। শুধু তিনি একা নন, তার মতো আরও অনেক নারী গোবর দিয়ে নুড়ি বানিয়ে বিক্রি করছেন। নুড়ি বিক্রির টাকায় নিজের হাতখরচ আর পরিবারের ছোটখাটো নানা চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। বর্ষার সময় ছাড়া বছরের প্রায় ৮ মাস এই কাজই করেন খুলনার দাকোপ উপজেলার সকল এলাকার নারীরা।এতে একদিকে যেমন তাদের আয় হচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির জন্য গাছপালার ওপর চাপ কমছে। নির্বিচারে নিধনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে অক্সিজেনের আধার।

খুলনা শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে দাকোপ উপজেলার ১ নম্বর বাজুয়া ইউনিয়ন। খুলনার দাকোপ উপজেলার এই ইউনিয়নে প্রায় ২০হাজার লোকের বসবাস। এক সময় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার করণে এখানকার মানুষ চাষাবাদকেই তাদের প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই চাষাবাদের সঙ্গে যোগ হয় মাছচাষও। ধান, তরমুজ, শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য সবজিও উৎপাদন হয় এই ইউনিয়নে। বছরের একটা বড় সময় বিলে কোনো ফসল উৎপাদন না হওয়ায় সেখানে বাধাহীনভাবে চরে বেড়ায় গরু। যে কারণে প্রতিটি পরিবারেই গরুসহ কমবেশি অন্যান্য গবাদি পশু রয়েছে। বাজুয়ার গ্রামের গৃহবধূ রিতা রানী বিশ্বাস বলেন, প্রতি মাসে তিনি এক থেকে দেড় হাজার নুড়ি বানাতে পারেন। সেগুলো রাস্তার পাশে অথবা বাড়ির মধ্যেই শুকিয়ে বিক্রি করেন। খরচ বলতে শুধু পাটকাঠি কিনতে হয়।

সে করণে একটা নুড়ি বিক্রি করতে পারেন দুই টাকায়। তিনি বলেন, সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় নুড়ি রেখে বাকিটা বিক্রি করেন ফঁড়িয়াদের কাছে। ফঁড়িয়ারা বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে নেওয়া নুড়ি অন্য এলাকায় বিক্রি হয় তিন টাকায়। মাসে দেড় হাজার নুড়ি বিক্রি করতে পারলে তিন হাজার টাকা হয়। যা তিনি নিজে কিছু রেখে বাকিটা তুলে দেন স্বামীর হাতে। ছেলে মেয়েদের আবদার মেটাতেও পারেন তিনি। বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্যামা প্রসাদ গাইন বলেন, এই গ্রামের অধিকাংশ নারী নুড়ি তৈরি করেন। এতে করে তারা অনেকটা স্বাবলম্বী হয়েছেন। জ্বালানি হিসেবে নুড়ি ব্যবহার করায় গ্রামে এখনও প্রচুর গাছপালা রয়েছে। যা আমাদের অক্সিজেন ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।

চেয়ারম্যান মানস কুমার রায় বলেন, গোবর দিয়ে নুড়ি বানিয়ে ইউনিয়নের অধিকাংশ নারী নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সংসারের নানা কাজে সহায়তা করতে পারছেন। নিজেদের পারিবারিক কাজের জন্য যেটুকু জ্বালানি প্রয়োজন তা রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন সবাই। তবে এই কাজের জন্য কাউকে সরকারি বা বেরসারকারিভাবে সহায়তা করা হয় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

খুলনার দাকোপে গোবর থেকে নুড়ি বানিয়ে স্বাবলম্বী শতাধিক নারী

Update Time : 09:38:38 pm, Tuesday, 19 December 2023

মোঃশামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি: একটা নুড়ি দুই টাকা। একশো নুড়ি দুইশো টাকা। নিজেদের গরু আছে, গরুর গোবর দিয়ে নুড়ি তৈরি করে বিক্রি করি। নুড়ি বিক্রির এই টাকায় সংসারে উপকার হয়। নিজের কিছু খরচ রেখে বাকি টাকা তুলে দিই স্বামীর হাতে। ছেলে-মেয়েদেরও চাহিদা মেটানো যায়। এভাবেই কথাগুলো বললেন দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বোর্টবাড়ি গ্রামের শবরি রায় (৪৫)। শুধু তিনি একা নন, তার মতো আরও অনেক নারী গোবর দিয়ে নুড়ি বানিয়ে বিক্রি করছেন। নুড়ি বিক্রির টাকায় নিজের হাতখরচ আর পরিবারের ছোটখাটো নানা চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। বর্ষার সময় ছাড়া বছরের প্রায় ৮ মাস এই কাজই করেন খুলনার দাকোপ উপজেলার সকল এলাকার নারীরা।এতে একদিকে যেমন তাদের আয় হচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির জন্য গাছপালার ওপর চাপ কমছে। নির্বিচারে নিধনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে অক্সিজেনের আধার।

খুলনা শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে দাকোপ উপজেলার ১ নম্বর বাজুয়া ইউনিয়ন। খুলনার দাকোপ উপজেলার এই ইউনিয়নে প্রায় ২০হাজার লোকের বসবাস। এক সময় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার করণে এখানকার মানুষ চাষাবাদকেই তাদের প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই চাষাবাদের সঙ্গে যোগ হয় মাছচাষও। ধান, তরমুজ, শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য সবজিও উৎপাদন হয় এই ইউনিয়নে। বছরের একটা বড় সময় বিলে কোনো ফসল উৎপাদন না হওয়ায় সেখানে বাধাহীনভাবে চরে বেড়ায় গরু। যে কারণে প্রতিটি পরিবারেই গরুসহ কমবেশি অন্যান্য গবাদি পশু রয়েছে। বাজুয়ার গ্রামের গৃহবধূ রিতা রানী বিশ্বাস বলেন, প্রতি মাসে তিনি এক থেকে দেড় হাজার নুড়ি বানাতে পারেন। সেগুলো রাস্তার পাশে অথবা বাড়ির মধ্যেই শুকিয়ে বিক্রি করেন। খরচ বলতে শুধু পাটকাঠি কিনতে হয়।

সে করণে একটা নুড়ি বিক্রি করতে পারেন দুই টাকায়। তিনি বলেন, সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় নুড়ি রেখে বাকিটা বিক্রি করেন ফঁড়িয়াদের কাছে। ফঁড়িয়ারা বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে নেওয়া নুড়ি অন্য এলাকায় বিক্রি হয় তিন টাকায়। মাসে দেড় হাজার নুড়ি বিক্রি করতে পারলে তিন হাজার টাকা হয়। যা তিনি নিজে কিছু রেখে বাকিটা তুলে দেন স্বামীর হাতে। ছেলে মেয়েদের আবদার মেটাতেও পারেন তিনি। বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্যামা প্রসাদ গাইন বলেন, এই গ্রামের অধিকাংশ নারী নুড়ি তৈরি করেন। এতে করে তারা অনেকটা স্বাবলম্বী হয়েছেন। জ্বালানি হিসেবে নুড়ি ব্যবহার করায় গ্রামে এখনও প্রচুর গাছপালা রয়েছে। যা আমাদের অক্সিজেন ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।

চেয়ারম্যান মানস কুমার রায় বলেন, গোবর দিয়ে নুড়ি বানিয়ে ইউনিয়নের অধিকাংশ নারী নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সংসারের নানা কাজে সহায়তা করতে পারছেন। নিজেদের পারিবারিক কাজের জন্য যেটুকু জ্বালানি প্রয়োজন তা রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন সবাই। তবে এই কাজের জন্য কাউকে সরকারি বা বেরসারকারিভাবে সহায়তা করা হয় না।