
মোঃশামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি: একটা নুড়ি দুই টাকা। একশো নুড়ি দুইশো টাকা। নিজেদের গরু আছে, গরুর গোবর দিয়ে নুড়ি তৈরি করে বিক্রি করি। নুড়ি বিক্রির এই টাকায় সংসারে উপকার হয়। নিজের কিছু খরচ রেখে বাকি টাকা তুলে দিই স্বামীর হাতে। ছেলে-মেয়েদেরও চাহিদা মেটানো যায়। এভাবেই কথাগুলো বললেন দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বোর্টবাড়ি গ্রামের শবরি রায় (৪৫)। শুধু তিনি একা নন, তার মতো আরও অনেক নারী গোবর দিয়ে নুড়ি বানিয়ে বিক্রি করছেন। নুড়ি বিক্রির টাকায় নিজের হাতখরচ আর পরিবারের ছোটখাটো নানা চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। বর্ষার সময় ছাড়া বছরের প্রায় ৮ মাস এই কাজই করেন খুলনার দাকোপ উপজেলার সকল এলাকার নারীরা।এতে একদিকে যেমন তাদের আয় হচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির জন্য গাছপালার ওপর চাপ কমছে। নির্বিচারে নিধনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে অক্সিজেনের আধার।
খুলনা শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে দাকোপ উপজেলার ১ নম্বর বাজুয়া ইউনিয়ন। খুলনার দাকোপ উপজেলার এই ইউনিয়নে প্রায় ২০হাজার লোকের বসবাস। এক সময় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার করণে এখানকার মানুষ চাষাবাদকেই তাদের প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই চাষাবাদের সঙ্গে যোগ হয় মাছচাষও। ধান, তরমুজ, শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য সবজিও উৎপাদন হয় এই ইউনিয়নে। বছরের একটা বড় সময় বিলে কোনো ফসল উৎপাদন না হওয়ায় সেখানে বাধাহীনভাবে চরে বেড়ায় গরু। যে কারণে প্রতিটি পরিবারেই গরুসহ কমবেশি অন্যান্য গবাদি পশু রয়েছে। বাজুয়ার গ্রামের গৃহবধূ রিতা রানী বিশ্বাস বলেন, প্রতি মাসে তিনি এক থেকে দেড় হাজার নুড়ি বানাতে পারেন। সেগুলো রাস্তার পাশে অথবা বাড়ির মধ্যেই শুকিয়ে বিক্রি করেন। খরচ বলতে শুধু পাটকাঠি কিনতে হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা
ঢাকা কার্যালয় : সেক্টর-০৫, রোড-০১, বাড়ি-৩৫ (২য় তলা), উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। মোবাইল : ০১৯৪৩-৬৮৩০২৭, ০১৯৪৬-৯৬২৭১৮, ই-মেইল: newsmanobadhikarprotidin@gmail.com, manobadhikarprotidin@gmail.com, ওয়েবসাইট : manobadhikarprotidin.com