7:12 pm, Monday, 2 November 2026

পেঁয়াজ বাজার নিয়ন্ত্রনে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ ডিসি

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:55:36 pm, Thursday, 14 December 2023
  • 22 Time View

মোা: মুজিবুর রহমান: ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধের পর অস্থিতিশীল হয়ে উঠে হবিগঞ্জ জেলার পেঁয়াজের বাজারগুলো। এতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে ক্রেতাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। যে কারনে সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিমে পড়েন। এক পর্যায়ে বাজারে দেখা দেয় অরাজকতা। এমন অবস্থায় জেলায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অভিনব পন্থার সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ। বাজারে যাতে কোন ক্রেতার কাছে এক কেজি উপর পেঁয়াজ বিক্রি না হয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ১২৫ টাকা ধরে বিক্রির নির্দেশনা দেন তিনি। আর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলার বাজার গুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রামম্যান আদালত নিয়মিত অভিযান চালান।

এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অভিযোগে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বাজারে উপস্থিত থেকে ক্রেতাদের মধ্যে ১২৫ টাকা দরে জনপ্রতি এক কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করে ভ্রাম্যমান আদালত। যে কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দু’ দিনের মধ্যেই জেলার বাজার গুলো নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। আর বাজারে ১২৫ টাকা কেজি ধরে পেঁয়াজ ক্রয় করতে পেরে খুশি হন ক্রেতারাও।

এতে করে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি নিয়ন্ত্রনে আসায় প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ। বাজার নিয়ন্ত্রনে এমন অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

তাছাড়া জেলা প্রশাসনের এক কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ায় ফলাও করে সংবাদ প্রচার ও সম্প্রচার করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে হবিগঞ্জের বাজার নিয়ন্ত্রনের বিষয়টি জেলার বাহিরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারাদেশের মধ্যে একমাত্র হবিগঞ্জ জেলার বাজার গুলো পেঁয়াজ বিক্রিতে নিয়ন্ত্রন ছিল বলে মন্তব্য করা হয়।

এ বিষয়ে অনেক ব্যাবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসক দেবী চন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর এমন সিদ্ধান্তের প্রতি সকলেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।
অনেক ক্রেতা বলেন, ‘কয়েকদিন পূর্বেও বাজারে পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৮০ ধরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পর ১২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করতে পারছেন তারা। বাজারে গেলে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম না চেয়ে ১২৫ টাকা ধরে তাদের কাছে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এতে ১২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করতে পেরে সাধারণ ক্রেতারা সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক দেবী চন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ বলেন, ‘যখন জানতে পারলাম ভারত থেকে দেশে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাবে তখনই সিলেট বিভাগীর কমিশনার স্যার আমাদেরকে নিয়ে মিটিং করেছেন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসন যাতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে। এ প্রেক্ষিতে আমরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন ও সংশ্লিষ্ট পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আমাদের প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করি।

এ সভার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারী ১২০ টাকা কেজি ধরে ১ থেকে ২ বস্তার বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা যাবে না এবং জনপ্রতি এক কেজি পেঁয়াজ ১২৫ টাকা মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি যথাযথ পালনে বাজার ব্যবসায়ী ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কঠোর ভূমিকা পালন করে। যে কারনে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

পেঁয়াজ বাজার নিয়ন্ত্রনে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ ডিসি

Update Time : 03:55:36 pm, Thursday, 14 December 2023

মোা: মুজিবুর রহমান: ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধের পর অস্থিতিশীল হয়ে উঠে হবিগঞ্জ জেলার পেঁয়াজের বাজারগুলো। এতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে ক্রেতাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। যে কারনে সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিমে পড়েন। এক পর্যায়ে বাজারে দেখা দেয় অরাজকতা। এমন অবস্থায় জেলায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অভিনব পন্থার সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ। বাজারে যাতে কোন ক্রেতার কাছে এক কেজি উপর পেঁয়াজ বিক্রি না হয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ১২৫ টাকা ধরে বিক্রির নির্দেশনা দেন তিনি। আর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলার বাজার গুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রামম্যান আদালত নিয়মিত অভিযান চালান।

এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অভিযোগে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বাজারে উপস্থিত থেকে ক্রেতাদের মধ্যে ১২৫ টাকা দরে জনপ্রতি এক কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করে ভ্রাম্যমান আদালত। যে কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দু’ দিনের মধ্যেই জেলার বাজার গুলো নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। আর বাজারে ১২৫ টাকা কেজি ধরে পেঁয়াজ ক্রয় করতে পেরে খুশি হন ক্রেতারাও।

এতে করে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি নিয়ন্ত্রনে আসায় প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ। বাজার নিয়ন্ত্রনে এমন অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

তাছাড়া জেলা প্রশাসনের এক কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ায় ফলাও করে সংবাদ প্রচার ও সম্প্রচার করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে হবিগঞ্জের বাজার নিয়ন্ত্রনের বিষয়টি জেলার বাহিরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারাদেশের মধ্যে একমাত্র হবিগঞ্জ জেলার বাজার গুলো পেঁয়াজ বিক্রিতে নিয়ন্ত্রন ছিল বলে মন্তব্য করা হয়।

এ বিষয়ে অনেক ব্যাবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসক দেবী চন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর এমন সিদ্ধান্তের প্রতি সকলেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।
অনেক ক্রেতা বলেন, ‘কয়েকদিন পূর্বেও বাজারে পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৮০ ধরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পর ১২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করতে পারছেন তারা। বাজারে গেলে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম না চেয়ে ১২৫ টাকা ধরে তাদের কাছে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এতে ১২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করতে পেরে সাধারণ ক্রেতারা সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক দেবী চন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ বলেন, ‘যখন জানতে পারলাম ভারত থেকে দেশে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাবে তখনই সিলেট বিভাগীর কমিশনার স্যার আমাদেরকে নিয়ে মিটিং করেছেন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসন যাতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে। এ প্রেক্ষিতে আমরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন ও সংশ্লিষ্ট পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আমাদের প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করি।

এ সভার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারী ১২০ টাকা কেজি ধরে ১ থেকে ২ বস্তার বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা যাবে না এবং জনপ্রতি এক কেজি পেঁয়াজ ১২৫ টাকা মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি যথাযথ পালনে বাজার ব্যবসায়ী ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কঠোর ভূমিকা পালন করে। যে কারনে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।