
মোঃ ইকরামুল হক রাজিব,স্পেশাল ক্রাইম রিপোর্টার: ১৩ ডিসেম্বর বৃহত্তর রামপাল (রামপাল- মোংলা) হানাদারমুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে শহীদ স্মৃতি বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টায় রামপাল উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ আব্দুল জলিল পাঠাগারের আয়োজনে স্মৃতি সৌধে এ শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এ উপলক্ষে আমাদের গ্রাম ক্যন্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারের সহযোগিতায় দিনব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্ভোদন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আমাদের গ্রাম ক্যন্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারে উপদেষ্টা শেখ বজলুর রহমান, প্রভাষক কল্লোল কুমার, রামপাল মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. মান্নান, শিক্ষিকা দিপুলা রানী, শিক্ষিকা রোজিনা খাতুন তানিয়া, সভাপতি রামপাল উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সরদার বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রামপাল উপজেলা ছাত্রলীগ শেখ সাদী,রামপাল সরকারি ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. আবির হোসেন, নাইমুল হক অনিক প্রমুখ।
১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই দিনে রামপাল ও মোংলা উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭ টায় ৫৫/৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা রামপাল মুক্ত করে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। যুদ্ধ জয়ের সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তি যুদ্ধকালীন কমান্ডার প্রয়াত শেখ আঃ জলিলের নেতৃত্বে এ অঞ্চলকে হানাদার মুক্ত করা হয়েছিল। তার পুত্র ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি শেখ সাদী বলেন, রামপাল মুক্ত দিবসটি ছিল স্বজন, সহযোদ্ধাদের হারানো দীর্ঘশ্বাস ও বিজয় উল্লাসের দিন। ডিসেম্বরের ৯ তারিখ আমার প্রয়াত বাবা মোংলাতে অপারেশনের আরও একটি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারা ওই সময় ৫৫ থেকে ৬০ জনের একটি দল মোংলার আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।
পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে বাবার সাথে থাকা ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, বাগেরহাটের চিতলমারীর নিজাম গুরুতর আহতসহ ৩৪ জন আহত হন। বাবারা পাল্টা আক্রমণ করলে ৯ তারিখ তারা পিছু হটে। ১২ তারিখ রাতে রামপাল থানাকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করতে থানার অপর পার পেড়িখালী বাজারে অবস্থান নেন। ১৩ তারিখ তারা থানায় গেলে ওসি আমিনুর রহমান আমাদের অভ্যর্থনা জানান। বাবা শেখ আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে লাল সবুজের পতাকা ওড়ানো হয়। ওই সময় সম্মুখ যোদ্ধা উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের টি আহমদ, বাহালুলসহ সকলে উপস্থিত ছিল। এরপর তারা হানাদার বাহিনীর ৪৫ জন দালাল ও তার দোসরদের ধরে নিয়ে আসেন। তাদের থানার কয়েকদিন আটকে রেখে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের শপথ পড়িয়ে ছেড়ে দেন।
Reporter Name 









