2:17 pm, Monday, 2 November 2026

খুলনার বটিয়াঘাটায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:05:46 pm, Monday, 4 December 2023
  • 30 Time View

মোঃশামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার বটিয়াঘাটায় আমন ধানের বাম্পার ফলন। এই উপজেলা ৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার বেশির ভাগ জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আমন ধানের ক্ষেতে সোনালী শীষ দেখে কৃষকের মুখের হাসি যেন থামছেই না।

খামার বাড়ি খুলনার উপ-পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেনের পরামর্শে এবং উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সরদার আব্দুল মান্নান, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত জীবনানন্দ রায়,দীপন কুমার হালদার,পিন্টু মল্লিক,অঞ্জন কুমার বিশ্বাস,মোস্তাফিজুর রহমানসহ ২১ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের দোর গোড়ায় যেয়ে তাদের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।

বর্তমান আমন ধানের মৌসুম। এখন খরিপ-২ মৌসুমে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১৭ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। তারমধ্যে হাইব্রিড ১শত ৫০, উপশী ৭ শত ৩০ ও স্হানীয় জাতের ১০ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ২১ ব্লকে নিয়মিত আলোক ফাঁদ স্হাপন করে ক্ষতিকর পোকা সনাক্তকরণ, ধানের রোগ ও পোকা মাকড় সম্পর্কে কৃষক সচেতনা বৃদ্ধি, লিফলেট বিতরণ,উঠান বৈঠক,দলীয় আলোচনা, স্কোয়াড টিম গঠন,ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, ভ্রাম্যমান কৃষি পরামর্শ ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধে বসে আছে কৃষকেরা। ইতি মধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েগেছে। ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

যদি তেমন কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়,তাহলে ৪০ হাজার ৮ শ ৯৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে, বা কোন রকম শিলা বৃষ্টি না হয় তাহলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেধে বসে আছে কৃষকরা। ধান পাকতে এখনও বেস সময় লাগবে। ধান ভালো দেখে কৃষকের মাঝে খুশির আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে অন্য বছরের তুলনায় বেশি ফসল ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা। সুখদাড়া গ্রামের নিখিল রায়, রায়পুর গ্রামের মান্নান শেখ, বারোআড়িয়া গ্রামের শেখর মন্ডল, নির্মল বাওয়ালী জানান, আমাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরদার আব্দুল মান্নান স্যারের পরামর্শে ও সহযোগীতায় রোগ ও পোকা থেকে আমন ধান বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। ফুলতলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপন কুমার হালদার বলেন, আমরা এবার আগাম কৃষকদের সচেতনার জন্য লিফলেট বিতরণ সহ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেছি। এবার আমন চাষে খরচ বাদে অধিক লাভজনক হবে বলে আশা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক জানান, চলতি বছরে বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। সঠিক বয়সে চারা রোপন, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, লাইন লোগো,পার্চিং ও আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করানো হয়েছে। যে কারণে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হওয়ায় ক্ষেতে ফসল ভালো দেখা যাচ্ছে। তবে কোন দুর্যোগ না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

খুলনার বটিয়াঘাটায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা

Update Time : 12:05:46 pm, Monday, 4 December 2023

মোঃশামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার বটিয়াঘাটায় আমন ধানের বাম্পার ফলন। এই উপজেলা ৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার বেশির ভাগ জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আমন ধানের ক্ষেতে সোনালী শীষ দেখে কৃষকের মুখের হাসি যেন থামছেই না।

খামার বাড়ি খুলনার উপ-পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেনের পরামর্শে এবং উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সরদার আব্দুল মান্নান, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত জীবনানন্দ রায়,দীপন কুমার হালদার,পিন্টু মল্লিক,অঞ্জন কুমার বিশ্বাস,মোস্তাফিজুর রহমানসহ ২১ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের দোর গোড়ায় যেয়ে তাদের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।

বর্তমান আমন ধানের মৌসুম। এখন খরিপ-২ মৌসুমে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১৭ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। তারমধ্যে হাইব্রিড ১শত ৫০, উপশী ৭ শত ৩০ ও স্হানীয় জাতের ১০ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ২১ ব্লকে নিয়মিত আলোক ফাঁদ স্হাপন করে ক্ষতিকর পোকা সনাক্তকরণ, ধানের রোগ ও পোকা মাকড় সম্পর্কে কৃষক সচেতনা বৃদ্ধি, লিফলেট বিতরণ,উঠান বৈঠক,দলীয় আলোচনা, স্কোয়াড টিম গঠন,ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, ভ্রাম্যমান কৃষি পরামর্শ ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধে বসে আছে কৃষকেরা। ইতি মধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েগেছে। ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

যদি তেমন কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়,তাহলে ৪০ হাজার ৮ শ ৯৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে, বা কোন রকম শিলা বৃষ্টি না হয় তাহলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেধে বসে আছে কৃষকরা। ধান পাকতে এখনও বেস সময় লাগবে। ধান ভালো দেখে কৃষকের মাঝে খুশির আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে অন্য বছরের তুলনায় বেশি ফসল ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা। সুখদাড়া গ্রামের নিখিল রায়, রায়পুর গ্রামের মান্নান শেখ, বারোআড়িয়া গ্রামের শেখর মন্ডল, নির্মল বাওয়ালী জানান, আমাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরদার আব্দুল মান্নান স্যারের পরামর্শে ও সহযোগীতায় রোগ ও পোকা থেকে আমন ধান বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। ফুলতলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপন কুমার হালদার বলেন, আমরা এবার আগাম কৃষকদের সচেতনার জন্য লিফলেট বিতরণ সহ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেছি। এবার আমন চাষে খরচ বাদে অধিক লাভজনক হবে বলে আশা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক জানান, চলতি বছরে বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। সঠিক বয়সে চারা রোপন, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, লাইন লোগো,পার্চিং ও আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করানো হয়েছে। যে কারণে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হওয়ায় ক্ষেতে ফসল ভালো দেখা যাচ্ছে। তবে কোন দুর্যোগ না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।