1:27 pm, Monday, 2 November 2026

অসহায় নারীকে সাংবাদিকতায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ, টাকার শোকে বাবার মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:13:34 pm, Monday, 4 December 2023
  • 51 Time View

আনিছুর রহমান,জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে এক অসহায় নারীকে সাংবাদিকতায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে মোঃ নিজাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধার-দেনা করে আনা ৫০ হাজার টাকার শোকে ওই নারীর পিতার মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। এমন অভিযোগের পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত নিজাম নোয়াখালী সদর উপজেলার ভাটিয়ার টেক গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবদুর রবের ছেলে। তবে কাজের সন্ধানে নিজামের বর্তমান ঠিকানা চট্টগ্রাম বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকা।

এই বিষয়ে আইনি সহযোগিতা চেয়ে গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা বরাবর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী রাফিকা আক্তার।

এ অভিযোগপত্রে ঘটনার বর্ণনা করে রাফিকা বলেন, তিনি গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে টেক্সটাইল এলাকার সুমনের চায়ের দোকানে বিবাদীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে উপস্থাপন করেন। এক পর্যায়ে আমার পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটের কথা বললে তিনি আমাকে সাংবাদিকতায় চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন। প্রথম মাসে বেতন ধরা হবে ১৬ হাজার টাকা। তারপর প্রতিমাসে ১০০০ করে বেতন বাড়ানো হবে। তবে এ চাকরিটি পেতে হলে আমাকে অগ্রিম ৫০,০০০ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় চাকরিটি আমি পাব না। তাই সরল বিশ্বাসে গত ২১ মার্চ ধার দেনা করে টেক্সটাইল মোড়ে উপরোক্ত সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাদীর হাতে আমি নগদ ৫০, ০০০ টাকা বুঝিয়ে দিই। তিনি পরের দিন আমাকে ‘দৈনিক একাত্তর সংবাদ’ নামের একটি প্রেস কার্ড প্রদান করে বলেন, তুমি আজ থেকে ক্রাইমের সন্ধান করবে। ক্রাইম পেলেই আমি কাটিং ফিটিং দিব। প্রতি মাসে তোমার বেতন পরিশোধ করা হবে।

তিনি যে কার্ড দিয়েছে তাতে অফিসের নাম্বারটি ঘষা-মাজা ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তোমাকে সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে না। তোমার বেতন তো আমি দিব।’ তারপর থেকে অফিসও চেনায়নি আর কাজের কথাও বলেনি। শিখতে চাইলেও শেখায়নি। এভাবে ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বেতন চাইলে তিনি গড়িমসি করেন। এক পর্যায়ে আমার ৫০,০০০ টাকা ফেরত দিয়ে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু- এভাবে নয় মাস অতিবাহিত হলে তার কর্মকান্ডে আমার সন্দেহ হয়। তখন আমি প্রেস কার্ডটি পরিচিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে দেখাই। সাংবাদিকরা বলেন, এ নামের কোন পত্রিকা ও অফিস নেই। আমি আরও জানতে পারি, বিবাদী নিজামের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। সে বাংলা রিডিং পড়তে পারে না। গুগল থেকে নিউজ কপি করে নিজের নামে ছাপিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। আর সাংবাদিক পরিচয়টাকে পুঁজি করে এভাবেই মানুষদের সাথে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছে।
পরে এ ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমাদের কাছে আসে, দুজনের মধ্যে টাকা লেনদেনের কথোপকথন ও ভিডিও। একাধিকবার তাকে টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নিজাম। পরে ওই মহিলার পিতা মারা গেলে এ বিষয়েও নিজামকে কথা বলতে শোনা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিজামকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয়ে এসে ঘটনার বর্ণনা উপস্থাপন করতে বললে, তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আসেননি।

ভুক্তিভোগী ওই নারী বলেন, ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে আমি মানবেতর জীবন যাপন করছি। নিয়মিত ঋণধাররা আমার বাসায় আসছেন। এ টাকার শোকে কিছুদিন আগে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

অসহায় নারীকে সাংবাদিকতায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ, টাকার শোকে বাবার মৃত্যু

Update Time : 04:13:34 pm, Monday, 4 December 2023

আনিছুর রহমান,জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে এক অসহায় নারীকে সাংবাদিকতায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে মোঃ নিজাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধার-দেনা করে আনা ৫০ হাজার টাকার শোকে ওই নারীর পিতার মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। এমন অভিযোগের পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত নিজাম নোয়াখালী সদর উপজেলার ভাটিয়ার টেক গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবদুর রবের ছেলে। তবে কাজের সন্ধানে নিজামের বর্তমান ঠিকানা চট্টগ্রাম বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকা।

এই বিষয়ে আইনি সহযোগিতা চেয়ে গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা বরাবর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী রাফিকা আক্তার।

এ অভিযোগপত্রে ঘটনার বর্ণনা করে রাফিকা বলেন, তিনি গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে টেক্সটাইল এলাকার সুমনের চায়ের দোকানে বিবাদীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে উপস্থাপন করেন। এক পর্যায়ে আমার পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটের কথা বললে তিনি আমাকে সাংবাদিকতায় চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন। প্রথম মাসে বেতন ধরা হবে ১৬ হাজার টাকা। তারপর প্রতিমাসে ১০০০ করে বেতন বাড়ানো হবে। তবে এ চাকরিটি পেতে হলে আমাকে অগ্রিম ৫০,০০০ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় চাকরিটি আমি পাব না। তাই সরল বিশ্বাসে গত ২১ মার্চ ধার দেনা করে টেক্সটাইল মোড়ে উপরোক্ত সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাদীর হাতে আমি নগদ ৫০, ০০০ টাকা বুঝিয়ে দিই। তিনি পরের দিন আমাকে ‘দৈনিক একাত্তর সংবাদ’ নামের একটি প্রেস কার্ড প্রদান করে বলেন, তুমি আজ থেকে ক্রাইমের সন্ধান করবে। ক্রাইম পেলেই আমি কাটিং ফিটিং দিব। প্রতি মাসে তোমার বেতন পরিশোধ করা হবে।

তিনি যে কার্ড দিয়েছে তাতে অফিসের নাম্বারটি ঘষা-মাজা ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তোমাকে সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে না। তোমার বেতন তো আমি দিব।’ তারপর থেকে অফিসও চেনায়নি আর কাজের কথাও বলেনি। শিখতে চাইলেও শেখায়নি। এভাবে ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বেতন চাইলে তিনি গড়িমসি করেন। এক পর্যায়ে আমার ৫০,০০০ টাকা ফেরত দিয়ে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু- এভাবে নয় মাস অতিবাহিত হলে তার কর্মকান্ডে আমার সন্দেহ হয়। তখন আমি প্রেস কার্ডটি পরিচিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে দেখাই। সাংবাদিকরা বলেন, এ নামের কোন পত্রিকা ও অফিস নেই। আমি আরও জানতে পারি, বিবাদী নিজামের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। সে বাংলা রিডিং পড়তে পারে না। গুগল থেকে নিউজ কপি করে নিজের নামে ছাপিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। আর সাংবাদিক পরিচয়টাকে পুঁজি করে এভাবেই মানুষদের সাথে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছে।
পরে এ ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমাদের কাছে আসে, দুজনের মধ্যে টাকা লেনদেনের কথোপকথন ও ভিডিও। একাধিকবার তাকে টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নিজাম। পরে ওই মহিলার পিতা মারা গেলে এ বিষয়েও নিজামকে কথা বলতে শোনা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিজামকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয়ে এসে ঘটনার বর্ণনা উপস্থাপন করতে বললে, তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আসেননি।

ভুক্তিভোগী ওই নারী বলেন, ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে আমি মানবেতর জীবন যাপন করছি। নিয়মিত ঋণধাররা আমার বাসায় আসছেন। এ টাকার শোকে কিছুদিন আগে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে।