11:22 am, Monday, 2 November 2026

খুলনার দাকোপে আমন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমনে কৃষক দিশেহারা

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:42:36 pm, Sunday, 19 November 2023
  • 36 Time View

মোঃ শামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি:খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন আমন ধানের ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। ঔষধ প্রয়োগ করেও সুফল পাচ্ছে না আমন চাষীরা বলে অভিযোগ কৃষকদের।

অধিকাংশ ধান ক্ষেতে এখন ধানের শীষ বেরিয়েছে আবার কোথাও কোথাও ধানে পাক ধরেছে এমন অবস্থায় দেখা দিয়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। দিনের বেলা যে ধান ভালো দেখা যাচ্ছে রাতারাতি হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে কিছু অংশের ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ার মত রঙ ধারণ করছে।এর থেকে ধান রক্ষা করার জন্য কৃষকরা ছুটছেন স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে এবং সেখান থেকে দোকানদারের ইচ্ছে মতো  কীটনাশক নিয়ে ধান খেতে ছিটাচ্ছেন কিন্তু পোকার আক্রমন কম না হয়ে বরং বেশি হচ্ছে।কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ধোপাদি গ্রামে অবসর প্রাপ্ত পশু অধিদপ্তরের বাগেরহাট জেলার কর্মকর্তা ড.শুকেন্দু শেখর রায় জানান, তার নিজের চাষকৃত আমন জমির ফসলেও কারেন্ট পোকায় আক্রমণ করেছিলো।

একই ইউনিয়নের আমন চাষী প্রশান্ত রায় জানান তার জমির ধানও কারেন্ট পোকায় নষ্ট করে দিয়েছে বিষ দিয়ে রক্ষা হয়নি। উপজেলার বাজুয়া, কৈলাশগঞ্জ, দাকোপ, লাউডোব, বানিশান্তা, তিলডাঙ্গস, কামারখোলা, সুতারখালি, পানখালিসহ সকল ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় কম বেশি প্রত্যেকের জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ করেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এলাকার বিভিন্ন ধানক্ষেতে পোকার আক্রমনের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিস পোকা দমনের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

যেমন- মাসব্যাপী প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমান কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। কৃষক দের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন করে উপসহকারী কৃষি অফিসার সার্বক্ষনিক অবস্থান করছেন। পোকার উপরে আলোকচিত্র প্রদর্শনি ও উঠান বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কীটনাশকের  দোকানে পর্যাপ্ত পরিমানে কারেন্ট পোকার ঔষধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায় পোকা দমনে এসব ব্যবস্থা গ্রহন করার পর পোকার আক্রমন কমেছে। দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা একটু ভুল করেছেন।

তাঁরা পোকার আক্রমন হওয়ার কথা ইউনিয়ন ভিত্তিক নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি অফিসারকে না জানিয়ে সরাসরি দোকানদারের কাছ থেকে সিনথেটিক পাইরিথ্রয়েড জাতিয় ঔষধ ব্যবহার করার কারণে কারেন্ট পোকার আক্রমণ না কমে বরং বেড়ে যায়।
খবর শুনে আমরা সরাসরি কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করি এবং পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহার করে কারেন্ট পোকার আক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রনে এসেছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

খুলনার দাকোপে আমন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমনে কৃষক দিশেহারা

Update Time : 08:42:36 pm, Sunday, 19 November 2023

মোঃ শামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি:খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন আমন ধানের ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। ঔষধ প্রয়োগ করেও সুফল পাচ্ছে না আমন চাষীরা বলে অভিযোগ কৃষকদের।

অধিকাংশ ধান ক্ষেতে এখন ধানের শীষ বেরিয়েছে আবার কোথাও কোথাও ধানে পাক ধরেছে এমন অবস্থায় দেখা দিয়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। দিনের বেলা যে ধান ভালো দেখা যাচ্ছে রাতারাতি হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে কিছু অংশের ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ার মত রঙ ধারণ করছে।এর থেকে ধান রক্ষা করার জন্য কৃষকরা ছুটছেন স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে এবং সেখান থেকে দোকানদারের ইচ্ছে মতো  কীটনাশক নিয়ে ধান খেতে ছিটাচ্ছেন কিন্তু পোকার আক্রমন কম না হয়ে বরং বেশি হচ্ছে।কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ধোপাদি গ্রামে অবসর প্রাপ্ত পশু অধিদপ্তরের বাগেরহাট জেলার কর্মকর্তা ড.শুকেন্দু শেখর রায় জানান, তার নিজের চাষকৃত আমন জমির ফসলেও কারেন্ট পোকায় আক্রমণ করেছিলো।

একই ইউনিয়নের আমন চাষী প্রশান্ত রায় জানান তার জমির ধানও কারেন্ট পোকায় নষ্ট করে দিয়েছে বিষ দিয়ে রক্ষা হয়নি। উপজেলার বাজুয়া, কৈলাশগঞ্জ, দাকোপ, লাউডোব, বানিশান্তা, তিলডাঙ্গস, কামারখোলা, সুতারখালি, পানখালিসহ সকল ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় কম বেশি প্রত্যেকের জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ করেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এলাকার বিভিন্ন ধানক্ষেতে পোকার আক্রমনের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিস পোকা দমনের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

যেমন- মাসব্যাপী প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমান কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। কৃষক দের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন করে উপসহকারী কৃষি অফিসার সার্বক্ষনিক অবস্থান করছেন। পোকার উপরে আলোকচিত্র প্রদর্শনি ও উঠান বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কীটনাশকের  দোকানে পর্যাপ্ত পরিমানে কারেন্ট পোকার ঔষধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায় পোকা দমনে এসব ব্যবস্থা গ্রহন করার পর পোকার আক্রমন কমেছে। দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা একটু ভুল করেছেন।

তাঁরা পোকার আক্রমন হওয়ার কথা ইউনিয়ন ভিত্তিক নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি অফিসারকে না জানিয়ে সরাসরি দোকানদারের কাছ থেকে সিনথেটিক পাইরিথ্রয়েড জাতিয় ঔষধ ব্যবহার করার কারণে কারেন্ট পোকার আক্রমণ না কমে বরং বেড়ে যায়।
খবর শুনে আমরা সরাসরি কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করি এবং পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহার করে কারেন্ট পোকার আক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রনে এসেছে।