10:01 pm, Monday, 2 November 2026

নীলফামারীতে ওসিকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা মোঃ সামিউল আলম সায়মন

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:01:13 pm, Wednesday, 25 October 2023
  • 19 Time View

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসন জেলার প্রত্যেক উপজেলায় অফিসার ইনচার্জ দিয়েছেন। যাতে কোন রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে বিরোধী শক্তিরা।

সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে নীলফামারীর জেলা পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু এক সার্থন্বেশী মহল সরকারের এই সফলতা বিনাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর ডিমলা থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমানসহ পুলিশ প্রশাসনকে হেনস্তা করতে সাজানো ও মিথ্যা নাটক রচনা এবং অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাই তদন্ত সাপেক্ষে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবী জানান সচেতন মহল। অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের জেলে পাড়ার ওবায়দুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই এলাকার আব্দুল হকের বখাটে ছেলে নুর আলম আমার সপ্তম শ্রেণীর কন্যাকে শারীরিক হেনস্তা করে মর্মে ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

পরবর্তীতে স্থানীয় ভাবে সালিশের চেষ্টায় ব্যার্থ হলে আদালতে মামলা করি। ওসির বিরুদ্ধে উৎকোচ চাওয়ার বিষয় মোঃ ওবায়দুল ইসলামের স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওসি আমাদের কাছে কোন টাকা চায় নাই। অপরদিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের উত্তর কাঁকড়া মান্নান চেয়ারম্যান পাড়ার সামিকুল ইসলামের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ওই এলাকার তমিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আসামী গ্রেফতার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু সেখানে অপপ্রচার চালানো হয় অফিসার ইনচার্জ মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেছেন।

তবে ওসির উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে সামিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ওসি সাহেব আমাদেরকে মামলার বিষয় ডেকেছিল তিনি আমাদের কাছে কোন টাকা চায় নাই। তবে ডিমলার এক ব্যক্তি বলে আমি মামলা রেকর্ড করে দিব টাকা লাগবে। তখন আমরা তাকে টাকা দেই। ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানি না।

একই ইউনিয়নের নিজ পাড়ার জামাল উদ্দিনের স্ত্রী বিউটি বেগম জমি সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন। তার জমি অবৈধভাবে একই এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে সফিকুল ইসলাম গং দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। মামলা রেকর্ড বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি আমার কাছে কোন টাকা চায় নাই।

আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তেল খরচের জন্য কিছু টাকা দিয়েছি। এবিষয়ে এলাকার সুধী জনরা বলেন, ঘটনাটি শুনার পর আমরা অবাক হই, ডিমলা থানা অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান একজন ভালো মনের মানুষ। তিনি ডিমলা থানায় যোগদানের পর থেকে অপরাধ একবারে কমিয়ে গেছে।

ডিমলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজার রহমান বলেন, অফিসার হিসেবে উনি খুবই ভালো। তিনি সব বিষয়কে সুন্দর ভাবে সমাধান করেন। ডিমলা থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ মোঃ লাইছুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট এবং সাজানো। বিধি মোতাবেক তিনটি মামলা রুজু করা হয় এবং দুটি মামলা সিএস জারি করা হয়েছে আর একটি তদন্তাধীন রয়েছে।

জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম সবুর পিপিএম সেবা বলেন, এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, সকল ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধান করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

নীলফামারীতে ওসিকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা মোঃ সামিউল আলম সায়মন

Update Time : 12:01:13 pm, Wednesday, 25 October 2023

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসন জেলার প্রত্যেক উপজেলায় অফিসার ইনচার্জ দিয়েছেন। যাতে কোন রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে বিরোধী শক্তিরা।

সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে নীলফামারীর জেলা পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু এক সার্থন্বেশী মহল সরকারের এই সফলতা বিনাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর ডিমলা থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমানসহ পুলিশ প্রশাসনকে হেনস্তা করতে সাজানো ও মিথ্যা নাটক রচনা এবং অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাই তদন্ত সাপেক্ষে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবী জানান সচেতন মহল। অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের জেলে পাড়ার ওবায়দুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই এলাকার আব্দুল হকের বখাটে ছেলে নুর আলম আমার সপ্তম শ্রেণীর কন্যাকে শারীরিক হেনস্তা করে মর্মে ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

পরবর্তীতে স্থানীয় ভাবে সালিশের চেষ্টায় ব্যার্থ হলে আদালতে মামলা করি। ওসির বিরুদ্ধে উৎকোচ চাওয়ার বিষয় মোঃ ওবায়দুল ইসলামের স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওসি আমাদের কাছে কোন টাকা চায় নাই। অপরদিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের উত্তর কাঁকড়া মান্নান চেয়ারম্যান পাড়ার সামিকুল ইসলামের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ওই এলাকার তমিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আসামী গ্রেফতার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু সেখানে অপপ্রচার চালানো হয় অফিসার ইনচার্জ মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেছেন।

তবে ওসির উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে সামিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ওসি সাহেব আমাদেরকে মামলার বিষয় ডেকেছিল তিনি আমাদের কাছে কোন টাকা চায় নাই। তবে ডিমলার এক ব্যক্তি বলে আমি মামলা রেকর্ড করে দিব টাকা লাগবে। তখন আমরা তাকে টাকা দেই। ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানি না।

একই ইউনিয়নের নিজ পাড়ার জামাল উদ্দিনের স্ত্রী বিউটি বেগম জমি সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন। তার জমি অবৈধভাবে একই এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে সফিকুল ইসলাম গং দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। মামলা রেকর্ড বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি আমার কাছে কোন টাকা চায় নাই।

আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তেল খরচের জন্য কিছু টাকা দিয়েছি। এবিষয়ে এলাকার সুধী জনরা বলেন, ঘটনাটি শুনার পর আমরা অবাক হই, ডিমলা থানা অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান একজন ভালো মনের মানুষ। তিনি ডিমলা থানায় যোগদানের পর থেকে অপরাধ একবারে কমিয়ে গেছে।

ডিমলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজার রহমান বলেন, অফিসার হিসেবে উনি খুবই ভালো। তিনি সব বিষয়কে সুন্দর ভাবে সমাধান করেন। ডিমলা থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ মোঃ লাইছুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট এবং সাজানো। বিধি মোতাবেক তিনটি মামলা রুজু করা হয় এবং দুটি মামলা সিএস জারি করা হয়েছে আর একটি তদন্তাধীন রয়েছে।

জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম সবুর পিপিএম সেবা বলেন, এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, সকল ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধান করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।