7:15 pm, Monday, 2 November 2026

পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:14:31 am, Tuesday, 13 June 2023
  • 33 Time View

মোঃ শামীম হোসেন : পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। অসহনীয় ভ্যাপসা গরম আর সেই সাথে একের পর এক পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে খুলনার দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দিনে ও রাতে ৮ থেকে ১০ বার ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকায় মিল কলকারখানা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত গুলোতে সেবা নিতে আসা অসংখ্য মানুষ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদুতের লুকোচুরি খেলায় বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে।

এলাকার স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানান,পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের লুকোচুরিতে সম্পূর্ণ ভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

আকাশে একটু মেঘ জমলেই বিদ্যুত চলে যায়। আর একটু ঝড়ো হাওয়া হলে তো কথা নেই, তখন দুই/তিন দিনেও এলাকায় বিদ্যুৎ আসে না। বিদ্যুত পাওয়ার বিষয়ে তখন কোন গ্রাহক বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় নানান অজুহাত। দীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যুতের এ বিভ্রাটের কারণে এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল, কলকারখানা আজ বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দিনে ও রাতে সমান তালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে।

সন্ধার পর বিদ্যুত না থাকায় তখন রাস্তা ঘাট ভুঁতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়, তখন রাস্তা ঘাট দিয়ে চলাফেরা করাও দায় হয়ে পড়ে। প্রতিদিন দিনে ও রাতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাকোপ সাব জোনাল অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ১১টি ফিডারের মাধ্যমে দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে ৪৩ হাজার এবং পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার কিছু অংশের ৫ হাজার মোট ৪৮ হাজার গ্রাহককে এ সাব ষ্টেশন থেকে ৯ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা রয়েছে।

এর মধ্যে পিক আওয়ার সন্ধা কালিন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা রয়েছে ৯ মেঘা ওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি সেখানে ৬ মেঘা ওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে চাহিদা রয়েছে ৬ মেঘা ওয়াট,পাচ্ছি ৪ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদা অনুযায়ী ৫ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ সন্তোষ কুমার মজুমদার বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বড় ধরণের কোন অপারেশন করা সম্ভব হয় না।

বিশেষ করে সিজারিয়ান রোগীরা এ কারণে বেশী অসহায় হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটিতে সিজারিয়ান কাজ চলাকালিন সময়ে বিদ্যুত চলে গেলে তখন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সে রোগীর সিজারিয়ান কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তখন রোগী ও রোগীর পরিবারকে দুশ্চিন্তিায় পড়তে হয়।

বাজুয়া খুটাখালি বাজারের রাইস মিল চালক গৌতম দে বলেন, বিদ্যুতের উপর নির্ভর করেই আমাকে ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে মিলে ধান মাড়াই করে চাউল তৈরী করতে পারছি না। বিদ্যুত চলে যায় ঘন্টা পর ঘন্টা। তখন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে তারা নানা অজুহাত বলতে থাকে। তাই মাঝে মিল এখন বন্ধ রাখি এবং বিকল্প ব্যবসা করার চিন্তা করছি।

চালনা পৌরসভার পোল্ট্রি মুরগী ব্যবসায়ী পলাশ রায় জানান, ঘন ঘন পল্লী বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারনে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগীর বাচ্চার দাম বৃদ্ধিসহ মুরগীর খাবারের মুল্যে বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে । তার পর লোডশেডিংয়ের কারণে আমার তিনটি ফার্মে সাড়ে ৫ হাজার মুরগীর বাচ্চার পরিচর্যা সঠিক ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ওই ফার্ম গুলিতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ করে মুরগীর বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এতো লোকসান করে আর পারা যাচ্ছে না, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীতে আর এ ব্যবসা পরিচালনা করবো না।

খলিসা গ্রামের অটো ভ্যান চালক খোকন রায় জানান, আমার ৫ সদস্যর পরিবার আমার উপর নির্ভর। ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্যানের ব্যাটারীতে প্রয়োজনীয় চার্জ দিতে না পারায় তখন কিছু সময় চলার পর ব্যাটারীতে আর চার্জ খাকে না। তখন এমনিতেই ভ্যান চলা বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন আর আয় করতে পারি না।

চালনা পৌরসভার লন্ড্রী ব্যবসায়ী ছোট্র বৈরাগী বলেন, আমাকে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে ৬ সদস্যর পরিবারকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা আর আগেরমত নেই। বিদ্যুৎ থাকলে ব্যবসা হয় আর না থাকলে ওই দিন আর ব্যবসা হয় না। তখন মনে হয় এ ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প কোন ব্যবসা করি।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসে জমির মিউটেশন করতে আসা গুনারী গ্রামের আব্দুল মজিদ মীর জানান, গত দুইদিন ধরে অফিসে ঘোরা ঘুরি করছি জমির নাম জারি কেস বা মিউটেশন করতে। কিন্তু বিদ্যুতের বিভ্রাটের কারণে অফিস তা করতে পারছেন না।

চালনা বাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন রাতে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমত লেখা পড়া করতে পারছি না। এ কারণে হয়তো আমাদের আসানুরুপ রেজাল্টও হবে না। সরকারের কাছে দাবী বিদ্যুৎ বিভাগ জেন এ পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন।

থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ উজ্জল কুমার দত্ত জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারণে মানুষকে সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছি না। কারণ এখন অনলাইনের মাধ্যমে জিডি ও মামলা এন্ট্রি করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ কর্ম গুলির রিপোর্ট যথা সমায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো সম্ভব হয়ে উঠে না।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাকোপ সাব জোনাল অফিসের সহ-জোনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিন ৩ ঘন্টা পর পর ১ ঘন্টা করে মোট ৮ ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ

Update Time : 11:14:31 am, Tuesday, 13 June 2023

মোঃ শামীম হোসেন : পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। অসহনীয় ভ্যাপসা গরম আর সেই সাথে একের পর এক পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে খুলনার দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দিনে ও রাতে ৮ থেকে ১০ বার ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকায় মিল কলকারখানা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত গুলোতে সেবা নিতে আসা অসংখ্য মানুষ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদুতের লুকোচুরি খেলায় বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে।

এলাকার স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানান,পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের লুকোচুরিতে সম্পূর্ণ ভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

আকাশে একটু মেঘ জমলেই বিদ্যুত চলে যায়। আর একটু ঝড়ো হাওয়া হলে তো কথা নেই, তখন দুই/তিন দিনেও এলাকায় বিদ্যুৎ আসে না। বিদ্যুত পাওয়ার বিষয়ে তখন কোন গ্রাহক বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় নানান অজুহাত। দীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যুতের এ বিভ্রাটের কারণে এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল, কলকারখানা আজ বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দিনে ও রাতে সমান তালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে।

সন্ধার পর বিদ্যুত না থাকায় তখন রাস্তা ঘাট ভুঁতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়, তখন রাস্তা ঘাট দিয়ে চলাফেরা করাও দায় হয়ে পড়ে। প্রতিদিন দিনে ও রাতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাকোপ সাব জোনাল অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ১১টি ফিডারের মাধ্যমে দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে ৪৩ হাজার এবং পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার কিছু অংশের ৫ হাজার মোট ৪৮ হাজার গ্রাহককে এ সাব ষ্টেশন থেকে ৯ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা রয়েছে।

এর মধ্যে পিক আওয়ার সন্ধা কালিন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা রয়েছে ৯ মেঘা ওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি সেখানে ৬ মেঘা ওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে চাহিদা রয়েছে ৬ মেঘা ওয়াট,পাচ্ছি ৪ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদা অনুযায়ী ৫ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ সন্তোষ কুমার মজুমদার বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বড় ধরণের কোন অপারেশন করা সম্ভব হয় না।

বিশেষ করে সিজারিয়ান রোগীরা এ কারণে বেশী অসহায় হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটিতে সিজারিয়ান কাজ চলাকালিন সময়ে বিদ্যুত চলে গেলে তখন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সে রোগীর সিজারিয়ান কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তখন রোগী ও রোগীর পরিবারকে দুশ্চিন্তিায় পড়তে হয়।

বাজুয়া খুটাখালি বাজারের রাইস মিল চালক গৌতম দে বলেন, বিদ্যুতের উপর নির্ভর করেই আমাকে ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে মিলে ধান মাড়াই করে চাউল তৈরী করতে পারছি না। বিদ্যুত চলে যায় ঘন্টা পর ঘন্টা। তখন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে তারা নানা অজুহাত বলতে থাকে। তাই মাঝে মিল এখন বন্ধ রাখি এবং বিকল্প ব্যবসা করার চিন্তা করছি।

চালনা পৌরসভার পোল্ট্রি মুরগী ব্যবসায়ী পলাশ রায় জানান, ঘন ঘন পল্লী বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারনে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগীর বাচ্চার দাম বৃদ্ধিসহ মুরগীর খাবারের মুল্যে বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে । তার পর লোডশেডিংয়ের কারণে আমার তিনটি ফার্মে সাড়ে ৫ হাজার মুরগীর বাচ্চার পরিচর্যা সঠিক ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ওই ফার্ম গুলিতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ করে মুরগীর বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এতো লোকসান করে আর পারা যাচ্ছে না, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীতে আর এ ব্যবসা পরিচালনা করবো না।

খলিসা গ্রামের অটো ভ্যান চালক খোকন রায় জানান, আমার ৫ সদস্যর পরিবার আমার উপর নির্ভর। ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্যানের ব্যাটারীতে প্রয়োজনীয় চার্জ দিতে না পারায় তখন কিছু সময় চলার পর ব্যাটারীতে আর চার্জ খাকে না। তখন এমনিতেই ভ্যান চলা বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন আর আয় করতে পারি না।

চালনা পৌরসভার লন্ড্রী ব্যবসায়ী ছোট্র বৈরাগী বলেন, আমাকে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে ৬ সদস্যর পরিবারকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা আর আগেরমত নেই। বিদ্যুৎ থাকলে ব্যবসা হয় আর না থাকলে ওই দিন আর ব্যবসা হয় না। তখন মনে হয় এ ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প কোন ব্যবসা করি।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসে জমির মিউটেশন করতে আসা গুনারী গ্রামের আব্দুল মজিদ মীর জানান, গত দুইদিন ধরে অফিসে ঘোরা ঘুরি করছি জমির নাম জারি কেস বা মিউটেশন করতে। কিন্তু বিদ্যুতের বিভ্রাটের কারণে অফিস তা করতে পারছেন না।

চালনা বাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন রাতে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমত লেখা পড়া করতে পারছি না। এ কারণে হয়তো আমাদের আসানুরুপ রেজাল্টও হবে না। সরকারের কাছে দাবী বিদ্যুৎ বিভাগ জেন এ পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন।

থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ উজ্জল কুমার দত্ত জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারণে মানুষকে সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছি না। কারণ এখন অনলাইনের মাধ্যমে জিডি ও মামলা এন্ট্রি করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ কর্ম গুলির রিপোর্ট যথা সমায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো সম্ভব হয়ে উঠে না।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাকোপ সাব জোনাল অফিসের সহ-জোনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিন ৩ ঘন্টা পর পর ১ ঘন্টা করে মোট ৮ ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।