7:32 am, Monday, 2 November 2026

নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রক্ষকই যখন ভক্ষক

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:48:49 pm, Monday, 24 January 2022
  • 71 Time View

স্টাফ রিপোর্টার : নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রক্ষকই যখন ভক্ষক। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের হাতে ছাত্রীরা অহরহ যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে৷ বিচারহীনতার কারণেই কি যৌন হয়রানি এভাবে বেড়ে চলেছে? কিন্তু এমনটাই মনে করেন বানারীপাড়া বাসী।

সম্প্রতি বরিশাল বানারীপাড়ার একটি নাজিরপুর প্রাথমিক‌ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ক্লাসের মধ্যে যৌন হয়রানি করেন শিক্ষক নামে লম্পট আমিনুল ‌ ইসলাম রাসেল৷ এক মাসের ‌‌‌‌‌‌‌ম ত সাময়িকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হলেও, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷

বানারীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী ঘটনায় ১০ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বানারীপাড়া নাজির পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুর রহমান রাসেল নব নির্মিত ভবনে ৯ম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী ঘটায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করতে মরিয়া ঐ শিক্ষক।

জানা গেছে রাসেল’র বিরুদ্ধে ঐ মেয়ের পরিবার বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আবার কোন ইশারায় তা প্রত্যাখ্যান করে নেয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলের মান ও সন্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন এবং স্কুল শিক্ষক সাইফুর রহমান রাসেলকে ১ মাসের জন্য সাসপেন্ড করেন। পাশাপাশি বানারীপাড়া শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সাবেক সভাপতি বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, নাজির পুর স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি সহ ১০ জনের তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

তারা ১ মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এ প্রসংগে ঐ স্কুলের এক শিক্ষার্থী বলেন এ অপমান আমাদের সবার। এ লজ্জা আমাদের সবার। ঐ স্কুলের এক অভিভাবক বলেন ক্ষমতার জোরে ঐ শিক্ষক ঘটনাটি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে। তার ভয়কে প্রকাশ্যে কেহ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলের বলেন রাসেলের কারনে শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে। ঘঠনাটি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার হওয়া দরকার।

আর এক অভিভাবক জানান আমরা আমাদের মেয়েদের নিয়ে এখন সংকীর্ন। নিরাপত্ত্বাহীনতায় ভুগতেছি। রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কিভাবে আমাদের সন্তানদের ঐ বিদ্যালয়ে পড়াতে দিব। বর্তমানে বিদ্যালয়ে থম থম অবস্থা বিরাজ করছে। তবে সর্ব মহলের দাবী এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সঠিক বিচার হোক। আর যেন কোন শিক্ষক এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। আর নিভিঘ্নে যেন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করতে পারে।

দেশে আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই৷ তাই সুশীল সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রী বলেন‘আমার মতে এইরকম বিচার না চেয়ে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সকলে মিলে শাস্তি দেওয়া উচিত৷”

‘‘রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন জাতি এর থেকে কী আর আশা করতে পারে? আইন, বিচার, শাসন বিভাগের কাছ থেকে জাতি আজ দিশেহারা৷ নির্যাতনের শিকার ক্রমাগত বেড়েই চলছে৷” বাংলাদেশের ছাত্রীদের প্রতি যৌন হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় এই মন্তব্য পাঠক নাম না বলার সত্য ৷ সুশীল সমাজ বলেন বাংলাদেশের অপরাধীর শাস্তি বা বিচারের ব্যাপারে সত্যিই হতাশ৷

অপরাধমূলক অনেক ঘটনা নিরবে ঘটে যায়, যা কেউ জানেই না৷ তাই বিচারের তো কোনো প্রশ্নই আসে না৷ এক গৃহিণী বলেন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘কোনো ঘটনা মিডিয়াতে আসলে তার বিচার হয়৷ কিন্তু ক’টি ঘটনাই বা মিডিয়াতে আসে না? ফলে অধিকাংশ ঘটনারই কোনো বিচার হয় না৷ এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই যৌন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে৷ বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে স্কুল-কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হতো৷”

‘‘ঐ শিক্ষকগুলোকে ধরে সবার সামনে তাদের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া উচিত৷” যেসব শিক্ষকরা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন করেন, তাদের ও একজন ছাত্রীর মা বলেন এতটাই ক্ষিপ্ত যে তিনি এভাবেই তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রক্ষকই যখন ভক্ষক

Update Time : 05:48:49 pm, Monday, 24 January 2022

স্টাফ রিপোর্টার : নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রক্ষকই যখন ভক্ষক। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের হাতে ছাত্রীরা অহরহ যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে৷ বিচারহীনতার কারণেই কি যৌন হয়রানি এভাবে বেড়ে চলেছে? কিন্তু এমনটাই মনে করেন বানারীপাড়া বাসী।

সম্প্রতি বরিশাল বানারীপাড়ার একটি নাজিরপুর প্রাথমিক‌ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ক্লাসের মধ্যে যৌন হয়রানি করেন শিক্ষক নামে লম্পট আমিনুল ‌ ইসলাম রাসেল৷ এক মাসের ‌‌‌‌‌‌‌ম ত সাময়িকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হলেও, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷

বানারীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী ঘটনায় ১০ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বানারীপাড়া নাজির পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুর রহমান রাসেল নব নির্মিত ভবনে ৯ম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী ঘটায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করতে মরিয়া ঐ শিক্ষক।

জানা গেছে রাসেল’র বিরুদ্ধে ঐ মেয়ের পরিবার বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আবার কোন ইশারায় তা প্রত্যাখ্যান করে নেয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলের মান ও সন্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন এবং স্কুল শিক্ষক সাইফুর রহমান রাসেলকে ১ মাসের জন্য সাসপেন্ড করেন। পাশাপাশি বানারীপাড়া শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সাবেক সভাপতি বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, নাজির পুর স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি সহ ১০ জনের তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

তারা ১ মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এ প্রসংগে ঐ স্কুলের এক শিক্ষার্থী বলেন এ অপমান আমাদের সবার। এ লজ্জা আমাদের সবার। ঐ স্কুলের এক অভিভাবক বলেন ক্ষমতার জোরে ঐ শিক্ষক ঘটনাটি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে। তার ভয়কে প্রকাশ্যে কেহ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলের বলেন রাসেলের কারনে শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে। ঘঠনাটি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার হওয়া দরকার।

আর এক অভিভাবক জানান আমরা আমাদের মেয়েদের নিয়ে এখন সংকীর্ন। নিরাপত্ত্বাহীনতায় ভুগতেছি। রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কিভাবে আমাদের সন্তানদের ঐ বিদ্যালয়ে পড়াতে দিব। বর্তমানে বিদ্যালয়ে থম থম অবস্থা বিরাজ করছে। তবে সর্ব মহলের দাবী এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সঠিক বিচার হোক। আর যেন কোন শিক্ষক এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। আর নিভিঘ্নে যেন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করতে পারে।

দেশে আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই৷ তাই সুশীল সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রী বলেন‘আমার মতে এইরকম বিচার না চেয়ে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সকলে মিলে শাস্তি দেওয়া উচিত৷”

‘‘রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন জাতি এর থেকে কী আর আশা করতে পারে? আইন, বিচার, শাসন বিভাগের কাছ থেকে জাতি আজ দিশেহারা৷ নির্যাতনের শিকার ক্রমাগত বেড়েই চলছে৷” বাংলাদেশের ছাত্রীদের প্রতি যৌন হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় এই মন্তব্য পাঠক নাম না বলার সত্য ৷ সুশীল সমাজ বলেন বাংলাদেশের অপরাধীর শাস্তি বা বিচারের ব্যাপারে সত্যিই হতাশ৷

অপরাধমূলক অনেক ঘটনা নিরবে ঘটে যায়, যা কেউ জানেই না৷ তাই বিচারের তো কোনো প্রশ্নই আসে না৷ এক গৃহিণী বলেন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘কোনো ঘটনা মিডিয়াতে আসলে তার বিচার হয়৷ কিন্তু ক’টি ঘটনাই বা মিডিয়াতে আসে না? ফলে অধিকাংশ ঘটনারই কোনো বিচার হয় না৷ এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই যৌন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে৷ বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে স্কুল-কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হতো৷”

‘‘ঐ শিক্ষকগুলোকে ধরে সবার সামনে তাদের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া উচিত৷” যেসব শিক্ষকরা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন করেন, তাদের ও একজন ছাত্রীর মা বলেন এতটাই ক্ষিপ্ত যে তিনি এভাবেই তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷