7:32 am, Monday, 2 November 2026

ফরিদপুরে সিজারের সময় শিশুর হাত ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:30:53 pm, Wednesday, 19 January 2022
  • 48 Time View

মহসিন মুন্সী, ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে সিজারের সময় শিশুর হাত ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ। ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের বেসরকারী ক্লিনিক ‘আরামবাগ হাসপাতাল’ এ সিজার করার সময় শিশুর হাত ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক অবিভাবক। এ বিষয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বুধবার দুপরে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা আরিফুল আলম সজলের অভিযোগ ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মুক্তাকে ওই হাসপাতালে সিজার করলে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির জন্মের পর তার হাতে সমস্যা আছে জানিয়ে ম্যাসেজ করতে বলেন চিকিৎসক। এরপর ১৫ ডিসেম্বর ছাড়পত্র দেয়ার পর শিশুটিকে বাসায় নিয়ে গেলেও তার অস্বাভাবিক কান্নার কারনে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেয়া হয়। এসময় ওই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এক্সরে করানো হলে হাত ভাঙ্গার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। পরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তিনি দাবী করেন, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও তারা বিষয়টি কর্ণপাত হরেনি।

শিশুটির পিতা জানান বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসায় যে খরচ প্রয়োজন তা জোগান দেওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।অতঃপর গত কয়েকদিন আগে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করা হয়।

ইতিপুর্বেও এই প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছিল উল্লেখ করে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আসাদুর রহমান জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে ইতিপুর্বে অবহিত করাও হয়েছে।

এদিকে বুধবার সিভিল সার্জন মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় এবং নানা অনিয়মের কারণে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়। তিনি জানান, তিনজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একজন, ছয়জন নার্সের স্থলে রয়েছে তিনজন। এয়াড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম থাকায় আপাতত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণ করতে না পারলে স্থায়ীভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় ঐ রোগী যখন হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয় তখন ঐ বাচ্চা সুস্থ ছিল। তারা বাড়িতে যাওয়ার কয়েক দিন পরে এসে এই অভিযোগ জানায় যে বাচ্চার হাত ভাঙা। তাদের অভিযোগ হাত হাসপাতালে সিজার করার সময় ভেঙেছে যা সঠিক নয় বলে তাদের দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

ফরিদপুরে সিজারের সময় শিশুর হাত ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

Update Time : 10:30:53 pm, Wednesday, 19 January 2022

মহসিন মুন্সী, ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে সিজারের সময় শিশুর হাত ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ। ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের বেসরকারী ক্লিনিক ‘আরামবাগ হাসপাতাল’ এ সিজার করার সময় শিশুর হাত ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক অবিভাবক। এ বিষয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বুধবার দুপরে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা আরিফুল আলম সজলের অভিযোগ ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মুক্তাকে ওই হাসপাতালে সিজার করলে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির জন্মের পর তার হাতে সমস্যা আছে জানিয়ে ম্যাসেজ করতে বলেন চিকিৎসক। এরপর ১৫ ডিসেম্বর ছাড়পত্র দেয়ার পর শিশুটিকে বাসায় নিয়ে গেলেও তার অস্বাভাবিক কান্নার কারনে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেয়া হয়। এসময় ওই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এক্সরে করানো হলে হাত ভাঙ্গার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। পরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তিনি দাবী করেন, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও তারা বিষয়টি কর্ণপাত হরেনি।

শিশুটির পিতা জানান বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসায় যে খরচ প্রয়োজন তা জোগান দেওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।অতঃপর গত কয়েকদিন আগে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করা হয়।

ইতিপুর্বেও এই প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছিল উল্লেখ করে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আসাদুর রহমান জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে ইতিপুর্বে অবহিত করাও হয়েছে।

এদিকে বুধবার সিভিল সার্জন মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় এবং নানা অনিয়মের কারণে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়। তিনি জানান, তিনজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একজন, ছয়জন নার্সের স্থলে রয়েছে তিনজন। এয়াড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম থাকায় আপাতত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণ করতে না পারলে স্থায়ীভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় ঐ রোগী যখন হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয় তখন ঐ বাচ্চা সুস্থ ছিল। তারা বাড়িতে যাওয়ার কয়েক দিন পরে এসে এই অভিযোগ জানায় যে বাচ্চার হাত ভাঙা। তাদের অভিযোগ হাত হাসপাতালে সিজার করার সময় ভেঙেছে যা সঠিক নয় বলে তাদের দাবি।