8:09 am, Monday, 2 November 2026

নোয়াখালীতে কোন সরকারি কর্মকর্তার আসার সময় কাঁদেন, আবার যাবার সময়ও কাঁদেন

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:24:32 pm, Wednesday, 19 January 2022
  • 69 Time View

মোজাম্মেল হক লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীতে কোন সরকারি কর্মকর্তার আসার সময় কাঁদেন, আবার যাবার সময়ও কাঁদেন। নোয়াখালী জেলা এক বৈচিত্র্যময় জেলা। দেশের বিভিন্ন জেলায় নোয়াখালীতে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখানকার ভাষা ও মানুষদের নিয়ে গল্প কবিতার শেষ নেই। বাংলাদেশের গন্ডি অতিক্রম করে বহিঃবিশ্ব নোয়াখালী জেলার রয়েছে পরিচিতি। কোথায় ভালো রূপে আবার কোথায় ভিন্নরূপে।

নোয়াখালী এমন একটি জেলা যেখানে সরকারের কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে, তিনি নোয়াখালী জেলার নাম শুনে কেঁদে ফেলেন। আক্ষেপ করে বলে থাকেন, আল্লাহ কি পাপ না-জানি আমি করেছিলাম, যার কারণে আমাকে নোয়াখালী যেতে হচ্ছে। যখনই কর্মকর্তা নোয়াখালীতে যোগদান করেন, বাহির থেকে নোয়াখালীবাসীর সম্পর্কে যে ধরনের মন্তব্য শুনে ছিলেন। এখানে আসার পর তার চিত্র সম্পূর্ণরূপে ভিন্নরূপে দেখতে পান।

নোয়াখালীর মানুষের আবেগ ভালোবাসায় ওই সরকারি কর্মকর্তা অতি সহজে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন। আর নোয়াখালীবাসী ঐ কর্মকর্তাকে সাদরে গ্রহণ করে থাকেন। মেহমান হিসেবে দেখে থাকেন। নোয়াখালী বাসীর আবেগ ভালোবাসা এবং আতিথিয়তায় মুগ্ধ হয়ে যান, এখানে আসা যে কোনো কর্মকর্তা। নোয়াখালীর ভাষা সংস্কৃতি ও জনজীবনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় কাটাতে পারেন এখানে আসা কর্মকর্তা।

এমনকি নোয়াখালীতে এসে বহু কর্মকর্তা স্থায়ীভাবে, নোয়াখালীর পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। অনেকে বাড়িঘর করে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এমন নজির ও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা জন্য তখনই এক দুঃখ বেদনা দায়ক সময় আসে, যখন নোয়াখালী থেকে তাকে অন্যত্রে বদলির আদেশ আসে। চেষ্টার কমতি থাকে না এখান থেকে না যাওয়ার জন্য। তা কি আর সম্ভব, সরকারি কর্মকর্তারা কোথায়ও স্থায়ীভাবে থাকতে পারেন না।

একটা নির্ধারিত সময় তাদেরকে তাদের কর্মস্থলে থাকতে হয়। নোয়াখালীতে বদলি করার পর তিনি যতটুকু কেঁদেছিলেন। এখন নোয়াখালী থেকে অন্যত্র বদলি করার পর ওই কর্মকর্তা আরো কয়েকগুণ বেশি কেঁদে ফেললেন। অর্থাৎ তিনি নোয়াখালী বাসিদের ছেড়ে আর যেতে চান না। নোয়াখালীতেই থেকে যেতে চান, এই ধরনের অনেক নজির রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

নোয়াখালীতে কোন সরকারি কর্মকর্তার আসার সময় কাঁদেন, আবার যাবার সময়ও কাঁদেন

Update Time : 05:24:32 pm, Wednesday, 19 January 2022

মোজাম্মেল হক লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীতে কোন সরকারি কর্মকর্তার আসার সময় কাঁদেন, আবার যাবার সময়ও কাঁদেন। নোয়াখালী জেলা এক বৈচিত্র্যময় জেলা। দেশের বিভিন্ন জেলায় নোয়াখালীতে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখানকার ভাষা ও মানুষদের নিয়ে গল্প কবিতার শেষ নেই। বাংলাদেশের গন্ডি অতিক্রম করে বহিঃবিশ্ব নোয়াখালী জেলার রয়েছে পরিচিতি। কোথায় ভালো রূপে আবার কোথায় ভিন্নরূপে।

নোয়াখালী এমন একটি জেলা যেখানে সরকারের কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে, তিনি নোয়াখালী জেলার নাম শুনে কেঁদে ফেলেন। আক্ষেপ করে বলে থাকেন, আল্লাহ কি পাপ না-জানি আমি করেছিলাম, যার কারণে আমাকে নোয়াখালী যেতে হচ্ছে। যখনই কর্মকর্তা নোয়াখালীতে যোগদান করেন, বাহির থেকে নোয়াখালীবাসীর সম্পর্কে যে ধরনের মন্তব্য শুনে ছিলেন। এখানে আসার পর তার চিত্র সম্পূর্ণরূপে ভিন্নরূপে দেখতে পান।

নোয়াখালীর মানুষের আবেগ ভালোবাসায় ওই সরকারি কর্মকর্তা অতি সহজে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন। আর নোয়াখালীবাসী ঐ কর্মকর্তাকে সাদরে গ্রহণ করে থাকেন। মেহমান হিসেবে দেখে থাকেন। নোয়াখালী বাসীর আবেগ ভালোবাসা এবং আতিথিয়তায় মুগ্ধ হয়ে যান, এখানে আসা যে কোনো কর্মকর্তা। নোয়াখালীর ভাষা সংস্কৃতি ও জনজীবনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় কাটাতে পারেন এখানে আসা কর্মকর্তা।

এমনকি নোয়াখালীতে এসে বহু কর্মকর্তা স্থায়ীভাবে, নোয়াখালীর পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। অনেকে বাড়িঘর করে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এমন নজির ও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা জন্য তখনই এক দুঃখ বেদনা দায়ক সময় আসে, যখন নোয়াখালী থেকে তাকে অন্যত্রে বদলির আদেশ আসে। চেষ্টার কমতি থাকে না এখান থেকে না যাওয়ার জন্য। তা কি আর সম্ভব, সরকারি কর্মকর্তারা কোথায়ও স্থায়ীভাবে থাকতে পারেন না।

একটা নির্ধারিত সময় তাদেরকে তাদের কর্মস্থলে থাকতে হয়। নোয়াখালীতে বদলি করার পর তিনি যতটুকু কেঁদেছিলেন। এখন নোয়াখালী থেকে অন্যত্র বদলি করার পর ওই কর্মকর্তা আরো কয়েকগুণ বেশি কেঁদে ফেললেন। অর্থাৎ তিনি নোয়াখালী বাসিদের ছেড়ে আর যেতে চান না। নোয়াখালীতেই থেকে যেতে চান, এই ধরনের অনেক নজির রয়েছে।