
মোজাম্মেল হক লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ অন্যান্য উপজেলার মত চাটখিলে একটি সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেব-খোরশেদ আলম। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নোয়াখালী জেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। গৃহিত প্রদক্ষেপের অংশ হিসাবে সোমবার বিকেল ৪টায় চাটখিল উপজেলা হল রুমে, প্রার্থীদের সাথে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ খোরশেদ আলম, এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম। মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নোয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ রবিউল আলম।
আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চাটখিল উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি উজ্জ্বল রায়, চাটখিল সোনাইমুড়ি জোনের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ জহির উদ্দিন, চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের। চাটখিল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের ইভু এতে অংশ গ্রহন করেন।ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীগন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মোহাম্মদপুর, বদলকোট, রামনারায়নপুর, নোয়াখলা, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তাদেরকে বিভিন্ন রকম হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান বাহালুল উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির ও পৌর মেয়রের নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন। নোয়াখলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ রানা তার উপহার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তুলে ধরেন এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অভিহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
রামনারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুনুর রশিদ বাহার তার উপর বিভিন্ন রকম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এগুলোর বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।বদলকোট ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী সালমান আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এগুলোর এখনই বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রার্থীরা মেয়র নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, তিনি বিভিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছেন এবং জোর করে ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো হুমকি ও তার পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে।
প্রার্থীরা বলেন, পৌর মেয়র সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচন অফিসার রবিউল আলম বলেন, তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবেনা, তবে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন।
আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, আমরা নোয়াখালীর আরো অনেক উপজেলা নির্বাচন করেছি। প্রতিটি উপজেলায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য আমরা এখানে এসেছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি লংঘন কিংবা নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের করার কোনো সুযোগ নেই। পোলিং এজেন্টগন সকাল আটটায় কেন্দ্রে ঢুকবে এবং ফলাফল নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হবেন। যদি কোনো এজেন্ট একবার কেন্দ্র থেকে বের হয়, সে আর ঢুকতে পারবে না। তিনি বলেন, এ নির্বাচনকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ২২জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। প্রতিটি ইউনিয়নের এক থেকে দুই জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে কারো কথায় কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে কেউ মেসেজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা করেন করে থাকি।
Reporter Name 








