11:21 am, Monday, 2 November 2026

মহররম মাসের তাৎপর্য, আমল ও ফজিলত : মাওলানা আবু সাঈদ

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:23:30 pm, Monday, 16 August 2021
  • 72 Time View

মহররম মাসের তাৎপর্য, আমল ও ফজিলত : মাওলানা আবু সাঈদ
মহররম মাসের তাৎপর্যঃ মহররম হিজরী সনের প্রথম মাস। মহররম শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নিষিদ্ধ অথবা সম্মানিত।

১) নিষিদ্ধ, অর্থ্যাৎ মহানবী (সঃ) এর পূর্বের যুগ থেকেই মহাররম সহ চারটি মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি, কাটাকাটি বিশেষ ভাবে নিষিদ্ধ ছিলো এবং ইসলাম ধর্মেও প্রাথমিক ভাবে সে নিষেধআজ্ঞা বহাল ছিলো। কিন্তু কাফেরদের পক্ষ থেকে এর অবমাননা ও বাড়াবাড়ির কারণে পরবর্তিতে ইসলামেও এ নিষেধআজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই চারটি মাস হচ্ছে যিলকদ, যিলহজ্ব, মহররম ও রজব। এ হলো মহররম নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য।

২) মহররম অর্থ সম্মানিত। এ কথা কোরআনে কারীমে আল্লাহ তা’আলা ঘোষনা করেছেন “ নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনার মাস বারটি আসমান সমূহ ও পৃথীবি সৃষ্টির দিন থেকে তার মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সু-প্রতিষ্ঠিত বিধান’’ (সূরা- তাওবাঃ ৩৬)
আমল ও ফজিলাতঃ
১) উম্মুল মুমিনিন হযরত হাফসা (রাঃ) থেকে বণির্ত, তিনি বলেন হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চারটি আমল কখনো ত্যাগ করেন নি।

ক) আশুরার রোজা
খ) যিলহজ্ব মাসের নয় তারিখের রোজা
গ) প্রতি চান্দ্র (আরবি) মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে আইয়্যামে বীযের রোজা। আইয়্যামে বীয অর্থ উজ্জল রাতের দিন গুলো।
ঘ) ফজরের নামাজের সুন্নত নামাজ। (নাসায়ী শরিফ)।

২) পুরো মাসে যে কোন দিন রোজা রাখা, তাহলে অন্য মাসে নফল রোজা রাখলে যে সওয়াব তার চেয়ে বেশি সওয়াব লাভ করা যাবে। যেমন- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, রমজান মাসের রোজার পর সর্বশ্রেষ্ট রোজা আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। (মুসলিম শরিফ)

৩) ১০ তারিখে (আশুরার) রোজা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, আমি আল্লাহ তা’আলার দরবারে আশা রাখি যে, ১০ মহররমের রোজা তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ’র কাফফারা হবে।(মুসলিম শরিফ)
নবীজি (সঃ) অন্যত্র ইরশাদ করেন, আশুরার দিবসে রোজা রাখো এবং এতে ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধাচরণ করো। তারা মাত্র এক দিন রোজা রাখে তোমরা তাদের পূর্বের দিন বা পরের দিন রোজা রাখো। (সহীহ্ ইবনে খুযাইমাহ)
সুতারং আশুরা তথা মহাররমের দশ তারিখে রোজা রাখা এবং তার আগে পরেও একটি, ৯/১০ অথবা ১০/১১ তারিখে রোজা রাখা মোস্তাহাব।

৪) দশ তারিখে তথা আশুরার দিন নিজ নিজ পরিবার পরিজনের খাদ্য খোরাকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু মুক্ত হস্ত হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে বেক্তি আশুরার দিবসে পরিবার পরিজনের জন্য মুক্ত হস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে সারা বছর সচ্ছলতা দান করবেন” (বায়হাকী শরিফ)

আল্লাহ তা’আলা নিজ দয়ায় আমদেরকে আশুরার পবিত্রতা ও তাৎপর্য থেকে উপকৃত হওয়ার এবং তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী দিনটি অতিবাহিত কারার তাওফিক দান করুন। (আমিন)

মাওলানা আবু সাঈদ
মোহতামিম : বাগডাঙ্গা ছাগলছিড়া কওমী মাদ্রাসা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

মহররম মাসের তাৎপর্য, আমল ও ফজিলত : মাওলানা আবু সাঈদ

Update Time : 09:23:30 pm, Monday, 16 August 2021

মহররম মাসের তাৎপর্য, আমল ও ফজিলত : মাওলানা আবু সাঈদ
মহররম মাসের তাৎপর্যঃ মহররম হিজরী সনের প্রথম মাস। মহররম শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নিষিদ্ধ অথবা সম্মানিত।

১) নিষিদ্ধ, অর্থ্যাৎ মহানবী (সঃ) এর পূর্বের যুগ থেকেই মহাররম সহ চারটি মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি, কাটাকাটি বিশেষ ভাবে নিষিদ্ধ ছিলো এবং ইসলাম ধর্মেও প্রাথমিক ভাবে সে নিষেধআজ্ঞা বহাল ছিলো। কিন্তু কাফেরদের পক্ষ থেকে এর অবমাননা ও বাড়াবাড়ির কারণে পরবর্তিতে ইসলামেও এ নিষেধআজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই চারটি মাস হচ্ছে যিলকদ, যিলহজ্ব, মহররম ও রজব। এ হলো মহররম নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য।

২) মহররম অর্থ সম্মানিত। এ কথা কোরআনে কারীমে আল্লাহ তা’আলা ঘোষনা করেছেন “ নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনার মাস বারটি আসমান সমূহ ও পৃথীবি সৃষ্টির দিন থেকে তার মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সু-প্রতিষ্ঠিত বিধান’’ (সূরা- তাওবাঃ ৩৬)
আমল ও ফজিলাতঃ
১) উম্মুল মুমিনিন হযরত হাফসা (রাঃ) থেকে বণির্ত, তিনি বলেন হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চারটি আমল কখনো ত্যাগ করেন নি।

ক) আশুরার রোজা
খ) যিলহজ্ব মাসের নয় তারিখের রোজা
গ) প্রতি চান্দ্র (আরবি) মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে আইয়্যামে বীযের রোজা। আইয়্যামে বীয অর্থ উজ্জল রাতের দিন গুলো।
ঘ) ফজরের নামাজের সুন্নত নামাজ। (নাসায়ী শরিফ)।

২) পুরো মাসে যে কোন দিন রোজা রাখা, তাহলে অন্য মাসে নফল রোজা রাখলে যে সওয়াব তার চেয়ে বেশি সওয়াব লাভ করা যাবে। যেমন- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, রমজান মাসের রোজার পর সর্বশ্রেষ্ট রোজা আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। (মুসলিম শরিফ)

৩) ১০ তারিখে (আশুরার) রোজা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, আমি আল্লাহ তা’আলার দরবারে আশা রাখি যে, ১০ মহররমের রোজা তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ’র কাফফারা হবে।(মুসলিম শরিফ)
নবীজি (সঃ) অন্যত্র ইরশাদ করেন, আশুরার দিবসে রোজা রাখো এবং এতে ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধাচরণ করো। তারা মাত্র এক দিন রোজা রাখে তোমরা তাদের পূর্বের দিন বা পরের দিন রোজা রাখো। (সহীহ্ ইবনে খুযাইমাহ)
সুতারং আশুরা তথা মহাররমের দশ তারিখে রোজা রাখা এবং তার আগে পরেও একটি, ৯/১০ অথবা ১০/১১ তারিখে রোজা রাখা মোস্তাহাব।

৪) দশ তারিখে তথা আশুরার দিন নিজ নিজ পরিবার পরিজনের খাদ্য খোরাকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু মুক্ত হস্ত হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে বেক্তি আশুরার দিবসে পরিবার পরিজনের জন্য মুক্ত হস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে সারা বছর সচ্ছলতা দান করবেন” (বায়হাকী শরিফ)

আল্লাহ তা’আলা নিজ দয়ায় আমদেরকে আশুরার পবিত্রতা ও তাৎপর্য থেকে উপকৃত হওয়ার এবং তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী দিনটি অতিবাহিত কারার তাওফিক দান করুন। (আমিন)

মাওলানা আবু সাঈদ
মোহতামিম : বাগডাঙ্গা ছাগলছিড়া কওমী মাদ্রাসা