
মোঃ শামীম হোসেন,খুলনা প্রতিনিধি: পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্চ থেকে এবারের মৌসুমের গোলপাতা সংগ্রহের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পাস-পারমিট নিয়ে বনে যাত্রা শুরু করেছেন বাওয়ালিরা। তবে গোলপাতার ব্যবহার কমে যাওয়াতে জীবিকার শঙ্কায় আছেন তারা।
সুন্দরবন থেকে গোলপাতা আহরণ শুরু করেছেন বাওয়ালিরা। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে পাতা আহরণে যাত্রা শুরু করেন তারা, যা চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান শেখ জানান, ছোটবড় মিলিয়ে এবার ২৮টি নৌকার আবেদন পাওয়া গেছে। অনেক বাওয়ালী সোমবার থেকেই গোলপাতা সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের প্রবেশ করেছেন।
তারা এই সময়ের জন্য আগে থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। বাকিরাও কয়েকদিনের মধ্যে বনে প্রবেশ করবেন। বাওয়ালিরা যাতে সুন্দরবনে নির্বিঘ্নে গোলপাতা আহরণ করতে পারেন এজন্য বনবিভাগ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে গোলপাতা আহরণের প্রস্তুতি এবারের গোলপাতা সংগ্রহকারীর ভ্যাট প্রতি কুইন্টালে নেয়া হচ্ছে প্রায় ৭১ টাকা। তবে দিনদিন গোলপাতার ব্যবহার কমে আসা ও রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় গোলপাতা আহরণের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে আসছে। ফলে হাজার হাজার কুইন্টাল পাতা নষ্ট হচ্ছে সুন্দরবনে।
যেসব স্থানে গোলপাতার কূপ (প্রজনন ক্ষেত্র) রয়েছে, সেসব স্থানে এক জায়গায় অধিক গাছ হওয়ায় পাতা নষ্ট হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, আগে গোলপাতা দিয়ে এক ধরনের ছাতা, ঝুড়ি, মাদুর, থলে, খেলনা তৈরি করা হতো। এছাড়া ঘরের চাল ও বেড়ার কাজে ব্যবহার হতো এ পাতা। কালের বিবর্তনে সেগুলো হারাতে বসেছে। প্রাকৃতিক এ সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। সুন্দরবন থেকে পাচার হচ্ছে গোলপাতা।
চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, একসময় ১০ লাখ টন গোলপাতা আহরণ করা হতো। এখন তা কমে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। তাই গোলপাতা সংগ্রহের জন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। তা বাস্তবায়ন করা হবে শিগগিরই।