
খোলা মাঠে / খোলা চিঠি / খোলা কলাম/ খোলা জানালা / মতামত / পরামর্শ / অভিমত
এস. হোসেন মোল্লা: আঁতশবাজি বা পটকাবাজি মূলত: তিন ধরণের ক্ষতি করে। তা হলো জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক,শব্দ ও বায়ু দুষক । এগুলো ফুটানোর সাথে সাথে অপ্রিয় ও অশোভন ভাবে বিকট শব্দ হয় যা আমাদের চারিদিকে শব্দ দূষণ ঘটায়। এটা শিশু, বৃদ্ধসহ অসুস্থ্য রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে হার্ট এটাকের সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়াও এর কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যু বরণ করে। আশেপাশে থাকা কুকুর-বিড়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি ভয়ে ছুটাছুটি করে ।
জানা গেছে, এগুলো পুড়ে বা ফেঁটে গেলে এর ধুঁয়া থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক বায়ু দূষণ ঘটায় যা ফুসফুসের নানা রোগের কারণ হয়। এছাড়াও এই পটকাতে আঁতশ কাগজ, ছোট ছোট পাথরের টুকরা ও বিস্ফোরক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় যা বিস্ফোরণের সাথে সাথে মাটিতে পড়ে কঠিন বর্জ্যে পরিণত হয় ও পরিবেশ দূষণ ঘটায়। এতে শুধু মানুষ ও প্রাণী নয়,গাছ-পালারও নানান ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং সবাই অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে । এখনকার মতো উন্নত ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে এমন কাজ অবশ্যই নিন্দনীয়, আপত্তিকর, বেহায়ামি এবং রাষ্ট্রীয়-সামাজিক অপরাধ বটেই!
বিবিধ ঘটনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, এই পটকাবাজির মতো কাজ কোন দিনই কল্যাণময়ী হিসেবে পরিগনিত না হলেও ক্ষতিকর ও দু:খজনক হিসেবে চিরকাল তিক্ত, বিদঘুটে ও ঘৃনিত হয়ে থেকেছে। তাই আগত থার্টি ফার্স্ট নাইট, অন্য যে কোন অযুহাতে বা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই পটকা বা আঁতশবাজির মতো অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত। এর পাশাপাশি যে কোন বিনোদন কেন্দ্র বা পার্টি সেন্টারগুলো যেন রাত ১০ টার মধ্যে কিংবা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ করা হয় এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।এসবের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করতে এবং এটি বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাবধানতা বজায় রাখা আমাদের সকলেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব । তাছাড়াও প্রভাবশালী মহল সহ স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি একান্ত জরুরি ভাবে জোরদার করা উচিত ।
Reporter Name 









