6:50 pm, Monday, 2 November 2026

১৯৭১ সালে আজকের দিনে নোয়াখালী মুক্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:54:35 pm, Thursday, 7 December 2023
  • 25 Time View

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার:

৭ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বৃহত্তম নোয়াখালী মুক্ত হয়েছে। মুক্তিসেনারা জেলা শহর মাইজদীর পিটিআইতে রাজাকারদের সর্বশেষ ও প্রধান ঘাঁটির পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উড়িয়েছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নোয়াখালীকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। বহু বাধা অতিক্রম করে পাকিস্তানি সেনারা ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী দখলে নেয়। চালাতে থাকে জেলা সদরের সোনাপুর-শ্রীপুর, রামহরিতালুক, বেগমগঞ্জের কুরিপাড়া, গোপালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। এ সময় হানাদাররা গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুকে।

কোম্পানীগঞ্জের বামনী, তালমাহমুদের হাট, ১২ নম্বর স্লুইসগেট, সদরের ওদারহাট, করমবক্স বাজার, বেগমগঞ্জের ফেনাকাটা পুল, রাজগঞ্জ, বগাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন অনেক মুক্তিযোদ্ধা।

নভেম্বর মাস থেকে মুক্তিসেনারা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিসেনাদের প্রবল আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ৬ ডিসেম্বর গভীর রাত থেকে বিভিন্ন ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যেতে থাকে পাক আর্মি ও মিলিশিয়ারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান জানান, ৭ ডিসেম্বর বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল হাইস্কুলের রাজাকার ক্যাম্প, মাইজদী কোর্ট স্টেশন, জিলা স্কুল, দত্তের হাটের নাহার মঞ্জিল রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের একে একে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে। এরপর পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ (পিটিআই) শহরে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। এ আক্রমণে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (বিএলএফ) বৃহত্তর নোয়াখালীর( মজিব বাহিনীর) অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণ যুদ্ধ করে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় সন্ধ্যার আগেই নোয়াখালীকে পাক হানাদার মুক্ত করা সম্ভব হয়।

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবসে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পিটিআই সংলগ্ন মুক্তমঞ্চের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পরে বিজয় শোভাযাত্রা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সন্ধ্যায় বিজয় মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

১৯৭১ সালে আজকের দিনে নোয়াখালী মুক্ত

Update Time : 12:54:35 pm, Thursday, 7 December 2023

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার:

৭ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বৃহত্তম নোয়াখালী মুক্ত হয়েছে। মুক্তিসেনারা জেলা শহর মাইজদীর পিটিআইতে রাজাকারদের সর্বশেষ ও প্রধান ঘাঁটির পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উড়িয়েছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নোয়াখালীকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। বহু বাধা অতিক্রম করে পাকিস্তানি সেনারা ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী দখলে নেয়। চালাতে থাকে জেলা সদরের সোনাপুর-শ্রীপুর, রামহরিতালুক, বেগমগঞ্জের কুরিপাড়া, গোপালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। এ সময় হানাদাররা গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুকে।

কোম্পানীগঞ্জের বামনী, তালমাহমুদের হাট, ১২ নম্বর স্লুইসগেট, সদরের ওদারহাট, করমবক্স বাজার, বেগমগঞ্জের ফেনাকাটা পুল, রাজগঞ্জ, বগাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন অনেক মুক্তিযোদ্ধা।

নভেম্বর মাস থেকে মুক্তিসেনারা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিসেনাদের প্রবল আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ৬ ডিসেম্বর গভীর রাত থেকে বিভিন্ন ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যেতে থাকে পাক আর্মি ও মিলিশিয়ারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান জানান, ৭ ডিসেম্বর বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল হাইস্কুলের রাজাকার ক্যাম্প, মাইজদী কোর্ট স্টেশন, জিলা স্কুল, দত্তের হাটের নাহার মঞ্জিল রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের একে একে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে। এরপর পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ (পিটিআই) শহরে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। এ আক্রমণে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (বিএলএফ) বৃহত্তর নোয়াখালীর( মজিব বাহিনীর) অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণ যুদ্ধ করে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় সন্ধ্যার আগেই নোয়াখালীকে পাক হানাদার মুক্ত করা সম্ভব হয়।

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবসে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পিটিআই সংলগ্ন মুক্তমঞ্চের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পরে বিজয় শোভাযাত্রা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সন্ধ্যায় বিজয় মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।