
নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে হাসপাতালে পাঠানোর মত ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কাজুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রিদয় হোসেন কাজুপাড়া তার নানা-নানির বাসায় থেকে পড়াশোনা করত।
রিদয় হোসেনের পরিবার ও তার নানা নানিরা অসহায় হওয়ার কারণে স্কুল প্রধান শ্যামল কুমারের ভয়-ভীতি ও চাপাচাপিতে কোনভাবেই মুখ খুলতে পারছেন না। এমনকি ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি ও করতে পারেনি রিদয় হোসেনের পরিবার। ঘটনার শুরু গত মাসের ২৬ তারিখ। সেদিন স্কুলটির ৬ জন শিক্ষার্থী পড়া না পারায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার মারধর করেন। পরে এদের মধ্যে স্হানীয় রিদয় হোসেন নামের একজন ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রিদয়ের নান-নানি স্হানীয় গ্রাম প্রধান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে জানালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামক) হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আঘাতের স্থানে অপারেশন করা লাগবে বলে জানায় ডাক্তার। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেন। বর্তমানে রিদয় চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছে। স্বাভাবিক মারধরের কথা স্বীকার করলেও, গুরুতর ভাবে মারধর করার কথা অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার।
এ বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় গ্রাম প্রধান ওয়ারিশ আলী মৃধা জানান, শুধু ওই শিক্ষার্থী নয়, এর আগেও বহু শিক্ষার্থীকে সে মারধর করেছে। একবার আমরা বসে ফয়সালাও করে দিয়েছি। ওই একই স্কুলে কর্মরত
একজন নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, তিনি বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক বাচ্চাদের এর আগেও মারধর করেছেন, আমরা কেউ নিষেধ করার সাহস করতে পারি না। এতে করে অনেক বাচ্চারা তাকে দেখে খুব ভয়ে ও আতঙ্কে থাকে।
এ বিষয়ে কৌশল অবলম্বন করে জানতে চাইলে রিদয় হোসেনের নানা-নানি তারা বলেন, শিক্ষক শ্যামল সে আমাদের নাতিকে মারধর করে। প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি, কয়েকদিন পরে জায়গাটি ফুলে যায়। পরে রিদয় হাঁটাচলা করতে না পারলে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে হেডমাস্টার শ্যামল কুমার তাকে মারধর করেছে। তবে চিকিৎসা ও অপারেশনের সকল খরচ শ্যামল মাস্টার দিয়েছেন। আমরা গরিব মানুষ। আপনারা কিছু করবেন না। তাহলে শ্যামল মাস্টার চিকিৎসার সকল খরচ বন্ধ করে দিতে পারে। তখন আমরা বিপদে পড়ে যাব।
এ বিষয়ে আহত রিদয় হোসেন জানায়, হেডমাস্টার আমাকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মেরেছে। ম্যাডাম আর পিয়ন এসে আমার বাসায়, আমাকে মারধর করার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে গিয়েছিল। স্কুলের সকল বাচ্চাদের কেউ নিষেধ করে দিয়েছে আমাকে মারধর করার কথা কাউকে না বলার জন্য।
স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান তিনি বলেন, এই বিষয়ে রিদয়ের নানা-নানি আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদেরকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার অগ্রযাত্রাকে বলেন, সেদিন আমি ছয় থেকে সাত জন বাচ্চাকে নির্দেশিকা কাঠি দিয়ে পিঠে মেরেছি। রিদয় তারপরও ক্লাস করেছে। সাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। তার চিকিৎসা খরচ সবকিছুই আমি বহন করছি। এমনকি তার অপারেশনের খরচও আমি বহন করেছি।
Reporter Name 













