8:40 am, Monday, 2 November 2026

হাত-পা অবশ তবুও কাগজ কুড়িয়ে খাবার কিনে খাওয়ায় মাকে!

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:32:25 pm, Sunday, 8 October 2023
  • 35 Time View

রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রাম থেকে : ভিক্ষা নয় সংসার চলছে কাগজ কুড়িয়ে তাও আবার এক হাত ও এক পায়ে। জন্মের ছ’মাস পর সর্বনাশা টায়ফয়েডের ছোবলে প্রতিবন্ধীতার নিষ্ঠুর স্বাদ গ্রহন করতে হয় তাকে । তবুও দমে যাননি, কাগজ কুড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন আজ ৪০ বছর যাবত। সহোদর ভাই বোনরা প্রতিবন্ধী মাকে ছেড়ে গেলেও নিয়ম করে মায়ের মুখে দুবেলা দুমুঠো আহারের যোগান দেন তিনি। বলছিলাম প্রতিবন্ধী মহরম আলীর কথা।

বয়সটা ৫৩ ছুঁই ছুঁই, এই বয়সেও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে কাগজ কুড়াতে দেখা যায় তাকে। টায়ফয়েডের পরে সংসারে টানাপোড়েনের কারনে শৈশবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি তিনি। যে সমাজে অহরহর ঘটছে বাবা মাকে হত্যার মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রতিনিয়ত খবরের পাতায় ভেসে আসে সম্পত্তির লোভে আপনজনের নির্মমতার খবর। যেখানে সন্তানরা মায়ের বোঝা বইতে না পেরে রেখে আসছেন বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে এই প্রতিবন্ধী মহরম নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও সেবা করছেন প্রতিবন্ধী মায়ের। শুধু তাই না, মায়ের ভরনপোষণের সব দায়িত্ব নিয়েছেন এক হাত ও এক পায়ে।

জীবনযুদ্ধে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটা মহরম আলী যেন এক অনুপ্রেরণার নাম। আর তাইতো অন্যের সাহায্য ছাড়াই ভিক্ষা না নিয়ে মাথা উচুঁ করে বেঁচে আছেন তিনি। শুধু তাই না, মহরম আলী এত কষ্টের পরেও মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ আমায় ভালো রেখেছেন৷

কাগজের উপর নির্ভর করে আজ ৪০ বছর যাবত সংসার চলছে তার। কখনো ময়লা থেকে আবার কখনো ফুটপাতের ফলের দোকান, কাপরের দোকান থেকে কাগজ সংগ্রহ করে থাকেন। এসব কাগজ পলিথিনে ভরে রেখে দেন নগরীর আগ্রাবাদ লাকী প্লাজার সামনে। দুই তিনদিনের জমানো কাগজ একত্রে করে বিক্রি করেন এলাকার ভাঙ্গারীর দোকানে। কোন কোন কাগজ কেজিতে ৫ টাকা আবার কিছু কাগজ ১০ টাকা বিক্রি করেন। আর এভাবেই সংসার চলে তার। মহরম জানান, প্রতি দুই তিনদিন পর পর ৫০০ টাকার কাগজ বিক্রি করতে পারেন তিনি। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে কাগজ কুড়ান৷ মহরম বলেন, যদি সরকার কিংবা বিত্তশালীদের কাছ থেকে তিনি সাহায্য পান, তবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মত একটি ব্যবসা করবেন তিনি।

এক ছেলে এক মেয়েসহ  মহরম আলীর ৫ সদস্যের পরিবার। নিজ জেলা ফরিপুর হলেও প্রতিবন্ধী মাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন নগরীর আগ্রাবাদ মৌলভী পাড়ায়।

প্রতিবদেনটি দেখার পর সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসবেন, পাশে দাঁড়াবেন মহরম আলীর আর এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

হাত-পা অবশ তবুও কাগজ কুড়িয়ে খাবার কিনে খাওয়ায় মাকে!

Update Time : 12:32:25 pm, Sunday, 8 October 2023

রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রাম থেকে : ভিক্ষা নয় সংসার চলছে কাগজ কুড়িয়ে তাও আবার এক হাত ও এক পায়ে। জন্মের ছ’মাস পর সর্বনাশা টায়ফয়েডের ছোবলে প্রতিবন্ধীতার নিষ্ঠুর স্বাদ গ্রহন করতে হয় তাকে । তবুও দমে যাননি, কাগজ কুড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন আজ ৪০ বছর যাবত। সহোদর ভাই বোনরা প্রতিবন্ধী মাকে ছেড়ে গেলেও নিয়ম করে মায়ের মুখে দুবেলা দুমুঠো আহারের যোগান দেন তিনি। বলছিলাম প্রতিবন্ধী মহরম আলীর কথা।

বয়সটা ৫৩ ছুঁই ছুঁই, এই বয়সেও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে কাগজ কুড়াতে দেখা যায় তাকে। টায়ফয়েডের পরে সংসারে টানাপোড়েনের কারনে শৈশবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি তিনি। যে সমাজে অহরহর ঘটছে বাবা মাকে হত্যার মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রতিনিয়ত খবরের পাতায় ভেসে আসে সম্পত্তির লোভে আপনজনের নির্মমতার খবর। যেখানে সন্তানরা মায়ের বোঝা বইতে না পেরে রেখে আসছেন বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে এই প্রতিবন্ধী মহরম নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও সেবা করছেন প্রতিবন্ধী মায়ের। শুধু তাই না, মায়ের ভরনপোষণের সব দায়িত্ব নিয়েছেন এক হাত ও এক পায়ে।

জীবনযুদ্ধে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটা মহরম আলী যেন এক অনুপ্রেরণার নাম। আর তাইতো অন্যের সাহায্য ছাড়াই ভিক্ষা না নিয়ে মাথা উচুঁ করে বেঁচে আছেন তিনি। শুধু তাই না, মহরম আলী এত কষ্টের পরেও মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ আমায় ভালো রেখেছেন৷

কাগজের উপর নির্ভর করে আজ ৪০ বছর যাবত সংসার চলছে তার। কখনো ময়লা থেকে আবার কখনো ফুটপাতের ফলের দোকান, কাপরের দোকান থেকে কাগজ সংগ্রহ করে থাকেন। এসব কাগজ পলিথিনে ভরে রেখে দেন নগরীর আগ্রাবাদ লাকী প্লাজার সামনে। দুই তিনদিনের জমানো কাগজ একত্রে করে বিক্রি করেন এলাকার ভাঙ্গারীর দোকানে। কোন কোন কাগজ কেজিতে ৫ টাকা আবার কিছু কাগজ ১০ টাকা বিক্রি করেন। আর এভাবেই সংসার চলে তার। মহরম জানান, প্রতি দুই তিনদিন পর পর ৫০০ টাকার কাগজ বিক্রি করতে পারেন তিনি। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে কাগজ কুড়ান৷ মহরম বলেন, যদি সরকার কিংবা বিত্তশালীদের কাছ থেকে তিনি সাহায্য পান, তবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মত একটি ব্যবসা করবেন তিনি।

এক ছেলে এক মেয়েসহ  মহরম আলীর ৫ সদস্যের পরিবার। নিজ জেলা ফরিপুর হলেও প্রতিবন্ধী মাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন নগরীর আগ্রাবাদ মৌলভী পাড়ায়।

প্রতিবদেনটি দেখার পর সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসবেন, পাশে দাঁড়াবেন মহরম আলীর আর এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।