8:10 am, Monday, 2 November 2026

ভারতের স্যাটেলাইট বসানো কচ্ছপ মোংলায়

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:21:08 pm, Monday, 28 February 2022
  • 78 Time View

মোঃ আল-মুকিদ মাহি : ভারতের স্যাটেলাইট বসানো কচ্ছপ মোংলায়। খুলনার দিঘলিয়ার স্থানীয় এক জেলের জালে ধরা পড়া ভারতের গবেষণা কাজে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো বিলুপ্ত প্রজাতির বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিঘলিয়া উপজেলার কাজীরহাট এলাকা থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করে গাজীরহাট ক্যাম্প পুলিশ বনবিভাগকে খবর দিলে রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেটিকে উদ্ধার করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যান।

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, খুলনার দিঘলিয়ার গাজীরহাটে স্থানীয় এক জেলের জালে কচ্ছপটি ধরা পড়লে সেটি প্রথমে পুলিশ উদ্ধার করে পরবর্তীতে বনবিভাগের খুলনাঞ্চলের সিএফ মিহির কুমার দো খবর পেয়ে আমাদেরকে জানালে আমরা সেটি সেখান থেকে এনে করমজলে রেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

প্রজনন কেন্দ্রের বাটাগুরবাস্কা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আঃ রব বলেন, এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারে বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিলো। যা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে এসব দেশের উপকূলীয় এলাকায় দুই একটির অস্তিত্ব রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করেই এ গবেষণার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণ, প্রজনন, গতি ও আচরণ বিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, পানিতে ডুবে ও ভেসে থাকার সময় নির্ণয়সহ নানা কার্যক্রম জানতে বাংলাদেশ বনবিভাগ, অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা, আমেরিকার টিএসএ ও ঢাকার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মূলত বিলুপ্ত প্রজাতির এ বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, খাদ্যভাস এবং প্রজনন সম্পর্কে জানতে ভারতের টাইগার প্রজেক্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সেদেশের সজনেখালী এলাকার কুলতলীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো ১০টি পুরুষ কচ্ছপ অবমুক্ত করে। ১১ দিনের মাথায় এর একটি নদী-সাগর পেরিয়ে এদেশের খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে চলে আসে।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এ প্রকল্পের অবকাঠামোর কাজ শুরু হয়। ২০১৮, ১৯ ও ২০ সালে দফায় দফায় ১৫টি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সমৃদ্ধ কচ্ছপ সুন্দরবন ও সাগর মোহনায় অবমুক্ত করা হয়।

কচ্ছপের পিঠে বসানো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের কার্যক্ষমতা এক বছরের। এরপর এমনিতেই এটি খসে পড়ে যায়। এক বছরেই এর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকেন অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা ও আমেরিকার টিএসএ’র গবেষকেরা।

মোট ১৫টি নিয়ে কাজ শুরু হলেও এখন করমজলে এর সংখ্যা সাড়ে ৪শ’। সেই সাথে এ প্রজেক্টে ব্যাপক সফলতা এসেছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের এ ধরণের আরও একটি কচ্ছপ পূর্ব সুন্দরবনের বলেশ্বর ও সাউথখালীর নদীতে বিচরণ করছে বলেও জানান প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আঃ রব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

ভারতের স্যাটেলাইট বসানো কচ্ছপ মোংলায়

Update Time : 01:21:08 pm, Monday, 28 February 2022

মোঃ আল-মুকিদ মাহি : ভারতের স্যাটেলাইট বসানো কচ্ছপ মোংলায়। খুলনার দিঘলিয়ার স্থানীয় এক জেলের জালে ধরা পড়া ভারতের গবেষণা কাজে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো বিলুপ্ত প্রজাতির বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিঘলিয়া উপজেলার কাজীরহাট এলাকা থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করে গাজীরহাট ক্যাম্প পুলিশ বনবিভাগকে খবর দিলে রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেটিকে উদ্ধার করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যান।

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, খুলনার দিঘলিয়ার গাজীরহাটে স্থানীয় এক জেলের জালে কচ্ছপটি ধরা পড়লে সেটি প্রথমে পুলিশ উদ্ধার করে পরবর্তীতে বনবিভাগের খুলনাঞ্চলের সিএফ মিহির কুমার দো খবর পেয়ে আমাদেরকে জানালে আমরা সেটি সেখান থেকে এনে করমজলে রেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

প্রজনন কেন্দ্রের বাটাগুরবাস্কা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আঃ রব বলেন, এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারে বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিলো। যা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে এসব দেশের উপকূলীয় এলাকায় দুই একটির অস্তিত্ব রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করেই এ গবেষণার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণ, প্রজনন, গতি ও আচরণ বিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, পানিতে ডুবে ও ভেসে থাকার সময় নির্ণয়সহ নানা কার্যক্রম জানতে বাংলাদেশ বনবিভাগ, অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা, আমেরিকার টিএসএ ও ঢাকার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মূলত বিলুপ্ত প্রজাতির এ বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, খাদ্যভাস এবং প্রজনন সম্পর্কে জানতে ভারতের টাইগার প্রজেক্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সেদেশের সজনেখালী এলাকার কুলতলীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো ১০টি পুরুষ কচ্ছপ অবমুক্ত করে। ১১ দিনের মাথায় এর একটি নদী-সাগর পেরিয়ে এদেশের খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে চলে আসে।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এ প্রকল্পের অবকাঠামোর কাজ শুরু হয়। ২০১৮, ১৯ ও ২০ সালে দফায় দফায় ১৫টি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সমৃদ্ধ কচ্ছপ সুন্দরবন ও সাগর মোহনায় অবমুক্ত করা হয়।

কচ্ছপের পিঠে বসানো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের কার্যক্ষমতা এক বছরের। এরপর এমনিতেই এটি খসে পড়ে যায়। এক বছরেই এর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকেন অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা ও আমেরিকার টিএসএ’র গবেষকেরা।

মোট ১৫টি নিয়ে কাজ শুরু হলেও এখন করমজলে এর সংখ্যা সাড়ে ৪শ’। সেই সাথে এ প্রজেক্টে ব্যাপক সফলতা এসেছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের এ ধরণের আরও একটি কচ্ছপ পূর্ব সুন্দরবনের বলেশ্বর ও সাউথখালীর নদীতে বিচরণ করছে বলেও জানান প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আঃ রব।