8:39 am, Monday, 2 November 2026

কান্না আর চোখের জলে বিদায় জানালেন লক্ষ্মীপুরের এএসপি স্পীনা রানীকে

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:44:44 pm, Friday, 25 June 2021
  • 59 Time View

এস এম আওলাদ হোসেন : কান্না আর চোখের জলে বিদায় জানালেন লক্ষ্মীপুরের এএসপি স্পীনা রানীকে। লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) স্পীনা রানী প্রামানিকের ভালোবাসা ও চোখের জলে বিদায় জানালেন সহকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় (২৪ জুন) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও শুক্রবার সকালে (২৬ জুন) এএসপি নীজের কার্যালয়, রামগঞ্জ থানায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের। এ সময় সাধারণ মানুষও আবেগাপ্লুত হন। পাশাপাশি থানার সামনে অসহায় এক নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন স্পীনা রানী।

সম্প্রতি এএসপি স্পীনা রানীকে লক্ষ্মীপুর থেকে বদলি করে কুমিল্লা ও হোমনা থানার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে বিদায় দেয়া হয়।। বৃহস্পতিবার রাতে (২৪ জুন) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরীর কার্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় বিদায়ে জড়ো হন সহকর্মিরা।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাতে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এএসপি স্পীনা রানী প্রামানিক। পরে তার স্ট্যাটাসটি অনেকেই শেয়ার করে অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান।

থানা ও নীজের কার্যালয়ে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের —‘প্রিয় রায়পুর ও রামগঞ্জ, ৭৮৬ দিনের গল্প ফুরোলো আজ। “শেষ বিউগলে ফিরে যাচ্ছি “শিরোনামে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসপি স্পীনা রানী লিখেছেন, ‘বৃহস্পতিবার ৭’ ৪৫ মিনিটে।

২০১৯ সালে আমার ব্যস্তবাগীশ ঢাকার নাগরিক সভ্যতা ছেড়ে যেদিন প্রথম এসেছিলাম তোমার কাছে, সেদিন অট্টালিকা আর রশনাই-বিহীন তোমাকে মনে হয়েছিলো ভীষণ ম্লান আর নিস্তরঙ্গ। নীরবতা আর অন্ধকারের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সুপুরি-বাগান আর এর ফাঁক গলিয়ে আসা আলো দেখে মনে হতো যেন একেকটি বারকোড, যাকে ডিকোড করা প্রায় অসম্ভব। আজ বিদায় বেলায় সেই বারকোডকে ডিসাইফার করে জানলাম, প্রথম বেলায় তোমায় নিছক বুনোফুল ভেবে সত্যিই বড় ভুল করেছিলাম। বড় শহরের চোখ ধাঁধানো জৌলুস না থাকলেও রূপে-গুণে-ভালোবাসায়-মুগ্ধতায় তুমি অনন্য।

“বুঝিলাম আজ উদ্যানলতা সৌন্দর্য-গুণে বনলতার নিকট পরাজিত হইলো” বড় বেশি নিভৃতে চলে যাচ্ছি। তবে হাজারো রহিমা বানু আর হোসেন আলিদের ভালোবাসা, মেঘনার উন্মত্ত জলরাশি, নারকেল-সুপারির নিশ্ছিদ্র ঘন সবুজ- সারাজীবন গেঁথে রবে স্মৃতিতে। আর তোমার কাছে রেখে গেলাম আমার অনিঃশেষ ভালোবাসা !

রায়পুর ও রামগঞ্জবাসী, শুক্রবার (২৫ জুন) আমার শেষ কর্মদিবস। দুই বছরের অধিক সময় এই সার্কেলে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও মামলা তদারকির পাশাপাশি সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সমস্যার কথা শুনে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করেছি। সবসময়ই যে সফল হয়েছি, সেটি দাবি করার মতো দুঃসাহস দেখাবো না। তবে চেষ্টা ও আন্তরিকতার কোন কমতি ছিলো না- এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আমার কোন আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ আহত হলে আমি অবনত মস্তকে ক্ষমা চাইছি।

রায়পুর ও রামগঞ্জের প্রতিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা, সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহ অন্যান্য পেশাজীবীবৃন্দ, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী, সমাজ ও রাজনেতাবৃন্দ, প্রিয় সাংবাদিকগণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আমার কাছে সেবা নিতে আসা সম্মানিত সেবাপ্রর্থীগণ, আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আমাকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছে। বিদায় বেলায় যে উষ্ণ আবেগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন, নিশ্চিতভাবেই তার যোগ্য আমি নই; এটি আপনাদের বদান্যতা ও মহানুভবতা।

সারাজীবনের জন্যে জুড়ে রইলো আত্মিক এবন্ধন।
পরিশেষে বলতে চাই,
করোনা সংক্রমণ আবারো বেড়েছে।
তাই মাস্ক পরুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
নিরাপদ থাকুন, ভালো থাকুন।
শুভ কামনা নিরন্তর এ’ লিখে স্ট্যাটাস শেষ করেন এএসপি স্পীনা রানী প্রামানিক।

রায়পুর থানার সামনে অসহায় রোকেয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, এএসপি স্যার রায়পুর থেকে চলে যাচ্ছেন। খুব কষ্ট লাগছে তার জন্য। করোনা পরিস্থিতিতে তার কার্যালয়ে আমাকে খাবার দিয়েছেন, শীতবস্ত্র দিয়েছেন। তার মতো আর কেউ আমার খোঁজ নেবে না।

পুলিশ সদস্য মোঃ কাইয়ুম বলেন, এএসপি স্পীনা রানী স্যারের সঙ্গে ৭৮৭ দিন রায়পুর ও রামগঞ্জে চাকরি করার সৌভাগ্য হয়। স্যারের মতো ভালো পুলিশ অফিসার ১৫ বছরেও পাইনি। স্যার ছিলেন দুই উপজেলার পুলিশ এবং সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার ব্যক্তি। সাধারণ মানুষের অনেক উপকার করেছেন। এজন্যই স্যারের বিদায়ে কেঁদেছেন অনেক মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

কান্না আর চোখের জলে বিদায় জানালেন লক্ষ্মীপুরের এএসপি স্পীনা রানীকে

Update Time : 05:44:44 pm, Friday, 25 June 2021

এস এম আওলাদ হোসেন : কান্না আর চোখের জলে বিদায় জানালেন লক্ষ্মীপুরের এএসপি স্পীনা রানীকে। লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) স্পীনা রানী প্রামানিকের ভালোবাসা ও চোখের জলে বিদায় জানালেন সহকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় (২৪ জুন) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও শুক্রবার সকালে (২৬ জুন) এএসপি নীজের কার্যালয়, রামগঞ্জ থানায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের। এ সময় সাধারণ মানুষও আবেগাপ্লুত হন। পাশাপাশি থানার সামনে অসহায় এক নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন স্পীনা রানী।

সম্প্রতি এএসপি স্পীনা রানীকে লক্ষ্মীপুর থেকে বদলি করে কুমিল্লা ও হোমনা থানার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে বিদায় দেয়া হয়।। বৃহস্পতিবার রাতে (২৪ জুন) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরীর কার্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় বিদায়ে জড়ো হন সহকর্মিরা।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাতে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এএসপি স্পীনা রানী প্রামানিক। পরে তার স্ট্যাটাসটি অনেকেই শেয়ার করে অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান।

থানা ও নীজের কার্যালয়ে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের —‘প্রিয় রায়পুর ও রামগঞ্জ, ৭৮৬ দিনের গল্প ফুরোলো আজ। “শেষ বিউগলে ফিরে যাচ্ছি “শিরোনামে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসপি স্পীনা রানী লিখেছেন, ‘বৃহস্পতিবার ৭’ ৪৫ মিনিটে।

২০১৯ সালে আমার ব্যস্তবাগীশ ঢাকার নাগরিক সভ্যতা ছেড়ে যেদিন প্রথম এসেছিলাম তোমার কাছে, সেদিন অট্টালিকা আর রশনাই-বিহীন তোমাকে মনে হয়েছিলো ভীষণ ম্লান আর নিস্তরঙ্গ। নীরবতা আর অন্ধকারের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সুপুরি-বাগান আর এর ফাঁক গলিয়ে আসা আলো দেখে মনে হতো যেন একেকটি বারকোড, যাকে ডিকোড করা প্রায় অসম্ভব। আজ বিদায় বেলায় সেই বারকোডকে ডিসাইফার করে জানলাম, প্রথম বেলায় তোমায় নিছক বুনোফুল ভেবে সত্যিই বড় ভুল করেছিলাম। বড় শহরের চোখ ধাঁধানো জৌলুস না থাকলেও রূপে-গুণে-ভালোবাসায়-মুগ্ধতায় তুমি অনন্য।

“বুঝিলাম আজ উদ্যানলতা সৌন্দর্য-গুণে বনলতার নিকট পরাজিত হইলো” বড় বেশি নিভৃতে চলে যাচ্ছি। তবে হাজারো রহিমা বানু আর হোসেন আলিদের ভালোবাসা, মেঘনার উন্মত্ত জলরাশি, নারকেল-সুপারির নিশ্ছিদ্র ঘন সবুজ- সারাজীবন গেঁথে রবে স্মৃতিতে। আর তোমার কাছে রেখে গেলাম আমার অনিঃশেষ ভালোবাসা !

রায়পুর ও রামগঞ্জবাসী, শুক্রবার (২৫ জুন) আমার শেষ কর্মদিবস। দুই বছরের অধিক সময় এই সার্কেলে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও মামলা তদারকির পাশাপাশি সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সমস্যার কথা শুনে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করেছি। সবসময়ই যে সফল হয়েছি, সেটি দাবি করার মতো দুঃসাহস দেখাবো না। তবে চেষ্টা ও আন্তরিকতার কোন কমতি ছিলো না- এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আমার কোন আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ আহত হলে আমি অবনত মস্তকে ক্ষমা চাইছি।

রায়পুর ও রামগঞ্জের প্রতিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা, সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহ অন্যান্য পেশাজীবীবৃন্দ, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী, সমাজ ও রাজনেতাবৃন্দ, প্রিয় সাংবাদিকগণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আমার কাছে সেবা নিতে আসা সম্মানিত সেবাপ্রর্থীগণ, আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আমাকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছে। বিদায় বেলায় যে উষ্ণ আবেগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন, নিশ্চিতভাবেই তার যোগ্য আমি নই; এটি আপনাদের বদান্যতা ও মহানুভবতা।

সারাজীবনের জন্যে জুড়ে রইলো আত্মিক এবন্ধন।
পরিশেষে বলতে চাই,
করোনা সংক্রমণ আবারো বেড়েছে।
তাই মাস্ক পরুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
নিরাপদ থাকুন, ভালো থাকুন।
শুভ কামনা নিরন্তর এ’ লিখে স্ট্যাটাস শেষ করেন এএসপি স্পীনা রানী প্রামানিক।

রায়পুর থানার সামনে অসহায় রোকেয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, এএসপি স্যার রায়পুর থেকে চলে যাচ্ছেন। খুব কষ্ট লাগছে তার জন্য। করোনা পরিস্থিতিতে তার কার্যালয়ে আমাকে খাবার দিয়েছেন, শীতবস্ত্র দিয়েছেন। তার মতো আর কেউ আমার খোঁজ নেবে না।

পুলিশ সদস্য মোঃ কাইয়ুম বলেন, এএসপি স্পীনা রানী স্যারের সঙ্গে ৭৮৭ দিন রায়পুর ও রামগঞ্জে চাকরি করার সৌভাগ্য হয়। স্যারের মতো ভালো পুলিশ অফিসার ১৫ বছরেও পাইনি। স্যার ছিলেন দুই উপজেলার পুলিশ এবং সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার ব্যক্তি। সাধারণ মানুষের অনেক উপকার করেছেন। এজন্যই স্যারের বিদায়ে কেঁদেছেন অনেক মানুষ।