6:48 am, Monday, 2 November 2026

নড়াইলে এনজিওর জালিয়াতি-মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:45:40 am, Thursday, 11 September 2025
  • 166 Time View

কৃপা বিশ্বাস, নড়াইল প্রতিনিধিঃনড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নলদীতে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে গ্রাহকদের সঙ্গে হওয়া জালিয়াতি এবং এ ঘটনায় মাঠকর্মী দিতি খানমের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার একটি বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করেন এনজিওটি মাঠকর্মী দিতি খানম। এসময় তাঁর পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দিতি খানম বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমি আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার নলদী শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠান অভিযোগ তুলেছেন যে, আমি নকল সদস্য সাজিয়ে প্রতারণা করে লোন উত্তোলন এবং সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায় করে অফিসে না দিয়ে ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৪ টাকা আত্মসাৎ করেছি। এই টাকা ফেরত দিতে আমাকে আইনি নোটিশও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো কাজ আমি করিনি।

দিতি বলেন, আমি একজন মাঠকর্মী। আমার দায়িত্ব শুধু গ্রাহকের নাম প্রস্তাব করা। এরপর সেই গ্রাহকের বাড়িতে  গিয়ে যাচাই-বাছাই করেন আঞ্চলিক ও শাখা ব্যস্থাপকেরা।  তারপর ঋণ নিতে গ্রাহক অফিসে এলে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক এবং হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা   আরেকদফায় যাচাই-বাছাইয়ের পর গ্রাহকের নিজের হাতে ঋণের টাকা বুঝিয়ে দেন। এখানে জালিয়াতি করলে, তাঁদের করার সুযোগ আছে। মাঠকর্মীর কোনো ভূমিকাই থাকে না।  মাঠকর্মী যদি নকল সদস্য সাজিয়েও আনে, তাহলে সেটা যাচাই-বাছাইয়ে অবশ্যই ধরা পড়ার কথা। অন্যদিকে সঞ্চয়ের টাকা জমা না দিলেই তো আঞ্চলিক ও শাখা ব্যবস্থাপক ওই গ্রাহকের বাড়িতে চলে যায়। তাহলে সেটাও মাসের পর মাস গোপন থাকার কথা না।

দিতির দাবি, মূলত আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ, তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক এ এইচ এম কামাল  ও হিসাবরক্ষক উম্মে হাবীবা মিলে গ্রাহকদের অজান্তে তাঁদের বই থেকে টাকা উত্তোলন করেন। তাঁরা গোপনে গ্রাহকদের বই নিজেদের কাছে রেখে কিস্তিও চালিয়েছেন। বিষয়টি যখন আমি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর এ ঘটনায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সরেজমিন এসে শাখা ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষককে বহিষ্কার করে। কিন্তু আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের কিছুই হয়নি। কিছুদিন পর বহিষ্কৃত হিসাবরক্ষক আবারও এসে অফিসে যোগ দিয়েছেন। এরপর নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে  আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ষড়যন্ত্র করে সংস্থার চোখে আমাকে অপরাধী বানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে।

দিতি বলেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের কথামতো আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, দায় চাপানো হচ্ছে। আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আমার ওপর ক্ষিপ্ত। আমি চাই, সংস্থার নিরপেক্ষ কাউকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। তাছাড়া আমাকে অন্যায়ভাবে কোনো শাস্তি দিলে আমি দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হারুন অর-রশীদ বলেন, তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষককে কোনো কারণেই বহিষ্কার করা হয় নি। শাখা ব্যবস্থায় অবসরে গিয়েছেন। আর হিসাব রক্ষক একটু ভুল করেছিল। সে নিজেই চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল। কিন্তু এখনো সে চাকুরিরত। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দিতির করা অন্যান্য সকল অভিযোগও মিথ্যা। আমরা কেউই গ্রহকের অজান্তে ঋণ নেওয়ার ঘটনায় জড়িত নয়। দিতির ওপর আমাদের আস্থা ছিল, এ কারণে সে যেসব ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে, কাগজপত্র এনে দিয়েছে তার ওপর ঋণ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু, প্রতি সপ্তাহে অনেক ছোট ঋণ দিতে হয়। অনেকসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবগুলো ঋণ যাচাই-বাছাই সম্ভব হয় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিতি জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাত করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

নড়াইলে এনজিওর জালিয়াতি-মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

Update Time : 09:45:40 am, Thursday, 11 September 2025

কৃপা বিশ্বাস, নড়াইল প্রতিনিধিঃনড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নলদীতে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে গ্রাহকদের সঙ্গে হওয়া জালিয়াতি এবং এ ঘটনায় মাঠকর্মী দিতি খানমের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার একটি বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করেন এনজিওটি মাঠকর্মী দিতি খানম। এসময় তাঁর পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দিতি খানম বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমি আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার নলদী শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠান অভিযোগ তুলেছেন যে, আমি নকল সদস্য সাজিয়ে প্রতারণা করে লোন উত্তোলন এবং সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায় করে অফিসে না দিয়ে ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৪ টাকা আত্মসাৎ করেছি। এই টাকা ফেরত দিতে আমাকে আইনি নোটিশও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো কাজ আমি করিনি।

দিতি বলেন, আমি একজন মাঠকর্মী। আমার দায়িত্ব শুধু গ্রাহকের নাম প্রস্তাব করা। এরপর সেই গ্রাহকের বাড়িতে  গিয়ে যাচাই-বাছাই করেন আঞ্চলিক ও শাখা ব্যস্থাপকেরা।  তারপর ঋণ নিতে গ্রাহক অফিসে এলে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক এবং হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা   আরেকদফায় যাচাই-বাছাইয়ের পর গ্রাহকের নিজের হাতে ঋণের টাকা বুঝিয়ে দেন। এখানে জালিয়াতি করলে, তাঁদের করার সুযোগ আছে। মাঠকর্মীর কোনো ভূমিকাই থাকে না।  মাঠকর্মী যদি নকল সদস্য সাজিয়েও আনে, তাহলে সেটা যাচাই-বাছাইয়ে অবশ্যই ধরা পড়ার কথা। অন্যদিকে সঞ্চয়ের টাকা জমা না দিলেই তো আঞ্চলিক ও শাখা ব্যবস্থাপক ওই গ্রাহকের বাড়িতে চলে যায়। তাহলে সেটাও মাসের পর মাস গোপন থাকার কথা না।

দিতির দাবি, মূলত আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ, তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক এ এইচ এম কামাল  ও হিসাবরক্ষক উম্মে হাবীবা মিলে গ্রাহকদের অজান্তে তাঁদের বই থেকে টাকা উত্তোলন করেন। তাঁরা গোপনে গ্রাহকদের বই নিজেদের কাছে রেখে কিস্তিও চালিয়েছেন। বিষয়টি যখন আমি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর এ ঘটনায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সরেজমিন এসে শাখা ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষককে বহিষ্কার করে। কিন্তু আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের কিছুই হয়নি। কিছুদিন পর বহিষ্কৃত হিসাবরক্ষক আবারও এসে অফিসে যোগ দিয়েছেন। এরপর নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে  আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ষড়যন্ত্র করে সংস্থার চোখে আমাকে অপরাধী বানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে।

দিতি বলেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের কথামতো আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, দায় চাপানো হচ্ছে। আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আমার ওপর ক্ষিপ্ত। আমি চাই, সংস্থার নিরপেক্ষ কাউকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। তাছাড়া আমাকে অন্যায়ভাবে কোনো শাস্তি দিলে আমি দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হারুন অর-রশীদ বলেন, তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষককে কোনো কারণেই বহিষ্কার করা হয় নি। শাখা ব্যবস্থায় অবসরে গিয়েছেন। আর হিসাব রক্ষক একটু ভুল করেছিল। সে নিজেই চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল। কিন্তু এখনো সে চাকুরিরত। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দিতির করা অন্যান্য সকল অভিযোগও মিথ্যা। আমরা কেউই গ্রহকের অজান্তে ঋণ নেওয়ার ঘটনায় জড়িত নয়। দিতির ওপর আমাদের আস্থা ছিল, এ কারণে সে যেসব ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে, কাগজপত্র এনে দিয়েছে তার ওপর ঋণ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু, প্রতি সপ্তাহে অনেক ছোট ঋণ দিতে হয়। অনেকসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবগুলো ঋণ যাচাই-বাছাই সম্ভব হয় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিতি জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাত করেছে।