10:16 am, Monday, 2 November 2026

প্রতিপক্ষের হামলায় পুরুষশূন্য গ্রামে,আতঙ্কে নারী-শিশু, লুটপাট-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:20:28 am, Thursday, 21 August 2025
  • 657 Time View

কৃপা বিশ্বাস, নড়াইল থেকেঃপ্রতিপক্ষের হামলা ও হুমকির মুখে নড়াইল সদরের চর শালিখা গ্রামে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।পুরুষ শুন্য হয়ে পড়া পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছে।

হামলা ও হুমকি দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

যানাগেছে, গত দুই মাস আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দক্ষিণ পাড়ার আজিজার শেখ সমর্থকরা এলাকা ছাড়া হন। চলতি মাসে পুলিশ, রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মধ্যস্থতায় আপোষ-মীমাংসার পর তারা গ্রামে ফেরেন।তবে এরই মধ্যে মশিয়ার শেখ গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। গত ১৫ আগস্ট সদরের সীতারামপুর ব্রিজের ওপর মশিয়ার গ্রুপের মুরাদ শেখকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এর পরদিন মশিয়ার গ্রুপের সদস্য মুরাদের উপর হামলার সূত্র ধরে মশিয়ার নবীর গ্রুপের  সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষে আজিজার গ্রুপের সদস্যদের  ওপর হামলা  চালায়। বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাল্টা আক্রমণে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৩০ জন আহত হয়।

পরবর্তীতে মারামারির ঘটনায়  নড়াইল সদর থানায় মামলা হলে গ্রেফতার আতংকে গ্রাম ছাড়া হয়ে যায় আজিজার শেখের সমর্থকরা। এই সুযোগে মশিয়ার গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষের কমলা বেগম, তরিকুল ইসলাম, আলী মিয়া,সিহাব,চান মিয়া,চিলু, বিলু, মিরফুল,উজ্জল,সোহেল,শামিম,রাসেল, রবিউল, আক্তার,জসিম, রুবায়েলসহ ১৬ টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন আজিজার শেখের সমর্থকের পরিবারের নারী সদস্যরা।

বুধবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একাধিক দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি দোকানের টিনের বেড়া চৌচির হয়ে আছে, ভেতরে ভাঙা ফ্রিজ, টিভি ও আলমারি পড়ে আছে এলোমেলো। রান্নাঘরের হাড়ি-পাতিলও রক্ষা পায়নি।

চর শালিখা গ্রামের জসীমের স্ত্রী রিয়া বেগম বলেন,”পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাট বাজারে ছিল। তারা ঘরের ভিতর ডুকে যা নিয়ে যাওয়ার তা নিছে। টাকা পয়সা যা ছিল নিয়ে গেছে  আর ভাংচুর করে রেখে গেছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকার কোন পরিবেশ নাই।রাত হলে তো বাড়ি থাকতেই পারি না। দিনের বেলায় একটু ঘুরে বেড়ায়। আর রাত হলে এখান থেকে সেখানে পলায় বেড়ায়। এই গ্রামে থাকার আর কোন পরিবেশ নেই। ”

ক্ষতিগ্রস্ত রোকেয়া বেগম জানান, “মশিয়ারের গ্রুপ এক হয়ে এসে আমার ছেলেটার দোকান ভাংচুর করেছে। আমার ছেলে এক জন নিরপেক্ষ। তার দোকানে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ছিল। সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমার একটা জা ছিল। সে ঠেকাতে গিয়েছিল তাকে কুপায় কাটে ফেলেছে। আমার বংশের কারো কিছু নাই। আমাদের রাস্তা ঘাটে উঠতে দিচ্ছে না। প্রতিপক্ষের লোকজন সব সময় রাস্তায় থাকছে। আমাদের দাবড়ায়ে উঠায় দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মশিয়ার শেখের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ভাইপো মেহেদি ফোন রুটি করে বলেন,দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষ মামলা করেছেন। প্রতিপক্ষের লোক নিজেদের ঘর বাড়ি নিজেরা ভাঙচুর করে  মশিয়ার চাচার লোকজনে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে৷

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, চরশালিখা গ্রামের হামলার ঘঠনায় দুই পক্ষ দুইটি মামলা করেছেন।তবে বাড়ি ঘর ভাংচুর বিষয় কোন অভিযোগ করা হয়নি।অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

প্রতিপক্ষের হামলায় পুরুষশূন্য গ্রামে,আতঙ্কে নারী-শিশু, লুটপাট-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

Update Time : 11:20:28 am, Thursday, 21 August 2025

কৃপা বিশ্বাস, নড়াইল থেকেঃপ্রতিপক্ষের হামলা ও হুমকির মুখে নড়াইল সদরের চর শালিখা গ্রামে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।পুরুষ শুন্য হয়ে পড়া পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছে।

হামলা ও হুমকি দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

যানাগেছে, গত দুই মাস আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দক্ষিণ পাড়ার আজিজার শেখ সমর্থকরা এলাকা ছাড়া হন। চলতি মাসে পুলিশ, রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মধ্যস্থতায় আপোষ-মীমাংসার পর তারা গ্রামে ফেরেন।তবে এরই মধ্যে মশিয়ার শেখ গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। গত ১৫ আগস্ট সদরের সীতারামপুর ব্রিজের ওপর মশিয়ার গ্রুপের মুরাদ শেখকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এর পরদিন মশিয়ার গ্রুপের সদস্য মুরাদের উপর হামলার সূত্র ধরে মশিয়ার নবীর গ্রুপের  সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষে আজিজার গ্রুপের সদস্যদের  ওপর হামলা  চালায়। বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাল্টা আক্রমণে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৩০ জন আহত হয়।

পরবর্তীতে মারামারির ঘটনায়  নড়াইল সদর থানায় মামলা হলে গ্রেফতার আতংকে গ্রাম ছাড়া হয়ে যায় আজিজার শেখের সমর্থকরা। এই সুযোগে মশিয়ার গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষের কমলা বেগম, তরিকুল ইসলাম, আলী মিয়া,সিহাব,চান মিয়া,চিলু, বিলু, মিরফুল,উজ্জল,সোহেল,শামিম,রাসেল, রবিউল, আক্তার,জসিম, রুবায়েলসহ ১৬ টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন আজিজার শেখের সমর্থকের পরিবারের নারী সদস্যরা।

বুধবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একাধিক দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি দোকানের টিনের বেড়া চৌচির হয়ে আছে, ভেতরে ভাঙা ফ্রিজ, টিভি ও আলমারি পড়ে আছে এলোমেলো। রান্নাঘরের হাড়ি-পাতিলও রক্ষা পায়নি।

চর শালিখা গ্রামের জসীমের স্ত্রী রিয়া বেগম বলেন,”পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাট বাজারে ছিল। তারা ঘরের ভিতর ডুকে যা নিয়ে যাওয়ার তা নিছে। টাকা পয়সা যা ছিল নিয়ে গেছে  আর ভাংচুর করে রেখে গেছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকার কোন পরিবেশ নাই।রাত হলে তো বাড়ি থাকতেই পারি না। দিনের বেলায় একটু ঘুরে বেড়ায়। আর রাত হলে এখান থেকে সেখানে পলায় বেড়ায়। এই গ্রামে থাকার আর কোন পরিবেশ নেই। ”

ক্ষতিগ্রস্ত রোকেয়া বেগম জানান, “মশিয়ারের গ্রুপ এক হয়ে এসে আমার ছেলেটার দোকান ভাংচুর করেছে। আমার ছেলে এক জন নিরপেক্ষ। তার দোকানে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ছিল। সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমার একটা জা ছিল। সে ঠেকাতে গিয়েছিল তাকে কুপায় কাটে ফেলেছে। আমার বংশের কারো কিছু নাই। আমাদের রাস্তা ঘাটে উঠতে দিচ্ছে না। প্রতিপক্ষের লোকজন সব সময় রাস্তায় থাকছে। আমাদের দাবড়ায়ে উঠায় দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মশিয়ার শেখের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ভাইপো মেহেদি ফোন রুটি করে বলেন,দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষ মামলা করেছেন। প্রতিপক্ষের লোক নিজেদের ঘর বাড়ি নিজেরা ভাঙচুর করে  মশিয়ার চাচার লোকজনে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে৷

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, চরশালিখা গ্রামের হামলার ঘঠনায় দুই পক্ষ দুইটি মামলা করেছেন।তবে বাড়ি ঘর ভাংচুর বিষয় কোন অভিযোগ করা হয়নি।অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।