7:31 am, Monday, 2 November 2026

খাজা মোল্যা হত্যা: আসামিদের  গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ 

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:04:54 pm, Monday, 26 May 2025
  • 81 Time View

নড়াইল থেকেঃ নড়াইলের লোহাগড়ায় কৃষক খাজা মোল্যা হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ শেখসহ সব আসামিদের গ্রেফতার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। আর একই ঘটনায় এলাকাবাসী করেছেন ঝাড়ু মিছিল।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা বাজারে স্থানীয় বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে ইতনা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করেন নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে ইতনা ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবদলের  সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি রইচ উদ্দিন পলু, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পান্নু মুন্সি, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. রাকিব হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্যা আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিরো সহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে লোহাগড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি রইচ উদ্দিন পলু বলেন, বিএনপি এক বৃহৎ ঐক্যের দল। এ দলে স্থানীয় পর্যায়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ শেখ, তাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। খাজা মোল্যা নিরীহ একজন মানুষ ছিলেন, তাকে হত্যা করার মাধ্যমে পলাশ ও তার বাহিনী নিজেদের সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। নিরীহ মানুষদের ওপর জুলুম, নির্যাতনে তুষ্ট না হতে পেরেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার দাবি করি।

দলীয় নেতাকর্মীরা নিহত খাজা মোল্যাকে তাদের কর্মী দাবি করে বক্তব্যে আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ইতনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই পলাশ শেখ। চাঁদাবাজি, জমি দখল সবই করেছেন তার অনুসারী আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা তথা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির অনুসারী নব্য কথিত বিএনপি কর্মীদের নিয়ে। তার (পলাশ শেখ) অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত করে নাই।

দলের ভাবমূর্তি বাঁচাতে এমন চরিত্রের মানুষদের দল থেকে বহিষ্কার দাবি করছি। সাথে বিএনপি কর্মী খাজা মোল্যা হত্যায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

এর আগে একই দিন বিকাল সাড়ে ৪ টায় ইতনা ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে পার-ইছাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই এলাকার কয়েকশত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। খাজা মোল্যা হত্যায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

মানববন্ধনকারীরা বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের জেরে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহাদুল শেখের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও ইতনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ শেখের বিরোধ চলে আসছিল।

একপর্যায়ে গত বুধবার (১৪ মে) সকালে পার-ইছাখালী থেকে পার্শ্ববর্তী কুমারডাঙ্গা বাজারে চা খেতে যান শাহাদুল মেম্বার সমর্থিত খাজা মোল্যা। সেখানে খাজা মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ পলাশ শেখ ও তার লোকজন।পরে তারাই আবার খাজার মরদেহ লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

কাকতালীয়ভাবে ওই সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাজার ছোট বোন সুমি এক আত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত খাজার মরদেহের কাছে ছুটে যান ছোট বোন সুমি। তখন হত্যাকারীরা সুমির কাছে খাজার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান।

মানববন্ধনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় গত ১৭ মে সকালে লোহাগড়া থানায় খাজাকে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন তার ভাই আলী হায়দার মোল্যা। মামলায় ইতনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ শেখসহ আরও ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত শেখ নিয়ামুল ইসলাম ও হোসাইন শেখ নামের দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

নিহত খাজার ভাই আলি হায়দার ও ভাবি রুমা খানম বলেন, খাজা একজন নিরীহ কৃষক ছিলেন। কোনো দল-দরিয়াত করতেন না। নির্মমভাবে তাকে হত্যার ১০ দিন পার হলেও বড় কোনো আসামিরা গ্রেফতার হয় নি। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। আমরা আসামিদের ফাঁসি চাই।

মামলার পর থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশসহ আসামিরা পলাতক রয়েছে। আর ঘটনার পর থেকে মুঠোফোনে একাধিকবার পলাশসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

লোহাগড়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খাজা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

খাজা মোল্যা হত্যা: আসামিদের  গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ 

Update Time : 04:04:54 pm, Monday, 26 May 2025

নড়াইল থেকেঃ নড়াইলের লোহাগড়ায় কৃষক খাজা মোল্যা হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ শেখসহ সব আসামিদের গ্রেফতার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। আর একই ঘটনায় এলাকাবাসী করেছেন ঝাড়ু মিছিল।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা বাজারে স্থানীয় বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে ইতনা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করেন নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে ইতনা ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবদলের  সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি রইচ উদ্দিন পলু, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পান্নু মুন্সি, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. রাকিব হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্যা আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিরো সহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে লোহাগড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি রইচ উদ্দিন পলু বলেন, বিএনপি এক বৃহৎ ঐক্যের দল। এ দলে স্থানীয় পর্যায়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ শেখ, তাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। খাজা মোল্যা নিরীহ একজন মানুষ ছিলেন, তাকে হত্যা করার মাধ্যমে পলাশ ও তার বাহিনী নিজেদের সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। নিরীহ মানুষদের ওপর জুলুম, নির্যাতনে তুষ্ট না হতে পেরেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার দাবি করি।

দলীয় নেতাকর্মীরা নিহত খাজা মোল্যাকে তাদের কর্মী দাবি করে বক্তব্যে আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ইতনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই পলাশ শেখ। চাঁদাবাজি, জমি দখল সবই করেছেন তার অনুসারী আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা তথা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির অনুসারী নব্য কথিত বিএনপি কর্মীদের নিয়ে। তার (পলাশ শেখ) অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত করে নাই।

দলের ভাবমূর্তি বাঁচাতে এমন চরিত্রের মানুষদের দল থেকে বহিষ্কার দাবি করছি। সাথে বিএনপি কর্মী খাজা মোল্যা হত্যায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

এর আগে একই দিন বিকাল সাড়ে ৪ টায় ইতনা ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে পার-ইছাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই এলাকার কয়েকশত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। খাজা মোল্যা হত্যায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

মানববন্ধনকারীরা বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের জেরে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহাদুল শেখের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও ইতনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ শেখের বিরোধ চলে আসছিল।

একপর্যায়ে গত বুধবার (১৪ মে) সকালে পার-ইছাখালী থেকে পার্শ্ববর্তী কুমারডাঙ্গা বাজারে চা খেতে যান শাহাদুল মেম্বার সমর্থিত খাজা মোল্যা। সেখানে খাজা মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ পলাশ শেখ ও তার লোকজন।পরে তারাই আবার খাজার মরদেহ লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

কাকতালীয়ভাবে ওই সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাজার ছোট বোন সুমি এক আত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত খাজার মরদেহের কাছে ছুটে যান ছোট বোন সুমি। তখন হত্যাকারীরা সুমির কাছে খাজার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান।

মানববন্ধনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় গত ১৭ মে সকালে লোহাগড়া থানায় খাজাকে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন তার ভাই আলী হায়দার মোল্যা। মামলায় ইতনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ শেখসহ আরও ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত শেখ নিয়ামুল ইসলাম ও হোসাইন শেখ নামের দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

নিহত খাজার ভাই আলি হায়দার ও ভাবি রুমা খানম বলেন, খাজা একজন নিরীহ কৃষক ছিলেন। কোনো দল-দরিয়াত করতেন না। নির্মমভাবে তাকে হত্যার ১০ দিন পার হলেও বড় কোনো আসামিরা গ্রেফতার হয় নি। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। আমরা আসামিদের ফাঁসি চাই।

মামলার পর থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশসহ আসামিরা পলাতক রয়েছে। আর ঘটনার পর থেকে মুঠোফোনে একাধিকবার পলাশসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

লোহাগড়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খাজা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।