2:10 pm, Monday, 2 November 2026
মাগুরায় গণমাধ্যমকর্মীদের

মাগুরায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে গুজব ও অপতথ্যরোধ বিয়ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:14:30 pm, Wednesday, 30 April 2025
  • 71 Time View

 

মোঃ শামীম হোসেন : খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের (পিআইডি) আয়োজনে ‘গুজব ও অপতথ্যরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (বুধবার) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, গণ্যমাধ্যমকর্মীরা সমাজের আয়না। সত্যকে বিকৃত করলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর, যেমনটি দেখা যায় সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। মিথ্যা, অপতথ্য ও গুজবের কারণে অনেক সময় সমাজ ও ব্যক্তির জীবন, সম্পদ ও সম্মানের ক্ষতি হতে পারে। সঠিক তথ্যই সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা উচিৎ।

গুজব ও অপতথ্য সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তথ্য যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরো দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। গুজবের প্রচারবন্ধে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণ্যমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সভাপতির বক্তৃতায় খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অপার বিস্ময় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিশ্ব।

এখন তথ্যই হলো শক্তি। আর তথ্যের সঠিক ব্যবহার যারা করতে পারবেন, তারাই সফল। আবার প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে গুজব বা অপতথ্যের বিস্তারের পথ তৈরি হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থা তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো হয়ে উঠেছে অপতথ্য বিস্তারের উর্বর ভূমি। অনিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়াগুলো সহজেই ছাড়াতে পারে মিথ্যার অপপ্রলাপ। এর প্রভাব পড়ছে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর, ফলে বিবর্তিত হচ্ছে মানুষের ভাবনার ইতিবাচক জগতটি। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সমাজের আয়না। কোন কোন ক্ষেত্রে গণমাধ্যমই হয়ে ওঠে নাগরিকের বিবেকবোধের বহি:প্রকাশের জায়গা।

তাই প্রধানত অনলাইন বা ইন্টারনেটভিত্তিক গুজবের বিস্তার প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান মুফতি। সেমিনারে মাগুরা জেলা তথ্য অফিসের তথ্য অফিসার পাভেল দাসসহ গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে সাংবাদিকদের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি গুজব ও অপতথ্যের বিস্তাররোধে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তি কোন বিশেষ উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত হলে তার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। মূলধারার সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। এই পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেশাগত সুরক্ষার কথাও সরকারকে ভাবতে হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অবাধে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। এতে অপতথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসবে। সেমিনারে মাগুরা জেলার ৪০ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

মাগুরায় গণমাধ্যমকর্মীদের

মাগুরায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে গুজব ও অপতথ্যরোধ বিয়ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

Update Time : 09:14:30 pm, Wednesday, 30 April 2025

 

মোঃ শামীম হোসেন : খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের (পিআইডি) আয়োজনে ‘গুজব ও অপতথ্যরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (বুধবার) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, গণ্যমাধ্যমকর্মীরা সমাজের আয়না। সত্যকে বিকৃত করলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর, যেমনটি দেখা যায় সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। মিথ্যা, অপতথ্য ও গুজবের কারণে অনেক সময় সমাজ ও ব্যক্তির জীবন, সম্পদ ও সম্মানের ক্ষতি হতে পারে। সঠিক তথ্যই সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা উচিৎ।

গুজব ও অপতথ্য সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তথ্য যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরো দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। গুজবের প্রচারবন্ধে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণ্যমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সভাপতির বক্তৃতায় খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অপার বিস্ময় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিশ্ব।

এখন তথ্যই হলো শক্তি। আর তথ্যের সঠিক ব্যবহার যারা করতে পারবেন, তারাই সফল। আবার প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে গুজব বা অপতথ্যের বিস্তারের পথ তৈরি হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থা তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো হয়ে উঠেছে অপতথ্য বিস্তারের উর্বর ভূমি। অনিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়াগুলো সহজেই ছাড়াতে পারে মিথ্যার অপপ্রলাপ। এর প্রভাব পড়ছে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর, ফলে বিবর্তিত হচ্ছে মানুষের ভাবনার ইতিবাচক জগতটি। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সমাজের আয়না। কোন কোন ক্ষেত্রে গণমাধ্যমই হয়ে ওঠে নাগরিকের বিবেকবোধের বহি:প্রকাশের জায়গা।

তাই প্রধানত অনলাইন বা ইন্টারনেটভিত্তিক গুজবের বিস্তার প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান মুফতি। সেমিনারে মাগুরা জেলা তথ্য অফিসের তথ্য অফিসার পাভেল দাসসহ গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে সাংবাদিকদের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি গুজব ও অপতথ্যের বিস্তাররোধে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তি কোন বিশেষ উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত হলে তার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। মূলধারার সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। এই পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেশাগত সুরক্ষার কথাও সরকারকে ভাবতে হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অবাধে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। এতে অপতথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসবে। সেমিনারে মাগুরা জেলার ৪০ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।