
মোঃ শামীম হোসেন : খুলনার দাকোপে ইতোমধ্যেই রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে ধানের। সেই সাথে ধানের দামও ভালো থাকায় দারুণ খুশি কৃষকরা। এতে করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের আশা কৃষকদের। ফলে আগামীতে উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
এদিকে অন্যবারের তুলনায় ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হলেও চাহিদা মাফিক ধানের দাম না পাওয়ায় খুব একটা লাভ হবে না বলে দাবি বর্গাচাষিদের। শস্যভাণ্ডার খ্যাত দাকোপের বাজুয়া বর্তমানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সোনালি পাকা ধান। ধানের ভারে যেন নুয়ে পড়েছে বেশিরভাগ জমির ধান গাছ। ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ জমির ধান পেকে যাওয়ায় ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও রোগবালাই-পোকামাকড়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে।
বিঘা প্রতি ধানের ফলন হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ মণ করে। আর প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা দরে। এক বিঘা জমিতে ধান লাগানো থেকে কাটা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে আর ধান বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। তাতে করে ১০ হাজার টাকার উপরে লাভ থাকছে। তবে সার ও কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবারে উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। এতে জমির মালিককে দিয়ে কিছুই থাকছে না বর্গাচাষিদের। সারের দাম কমানো ও ধানের দাম বেশি হলে বর্গাচাষিরা লাভবান হবে বলে এলাকার কৃষকরা দাবি করেন।
এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখীর কারণে যে মজুরি মিলছে তা দিয়ে সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ধানকাটা শ্রমিকরা। কৈলাশগঞ্জের ধোপাধী বিলে আমন ধান কাটতে এসে ধান কাটা পরবাসীরা জানান বাজারে সব জিনিসপত্রের যে দাম তাতে এই আয় করে টিকে থাকা বড়ই কঠিন হয়ে দারিয়েছে। দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান এবার দাকোপে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া এখনও কৃষকদের অনুকূলে আছে বাকি দিনগুলি ঠিক থাকলে আমনে দাকোপের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশা করা যায়।
Reporter Name 








