12:13 am, Tuesday, 3 November 2026

পা কাটা শরিফার ঘাতক ট্রাকটর ড্রাইভারের হুমকি-ধামকিতে দিশেহারা পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:44:55 pm, Sunday, 25 February 2024
  • 46 Time View

মোঃ সামিউল আলম সায়মন, নীলফামারী : নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী গ্রামের ছোট্ট মেয়ে শরিফা (৭) সেদিন সহপাঠীদের সাথে দৈনন্দিনের মতন স্কুল যাচ্ছিলো। যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া ট্রাক্টর সজোরে ধাক্কা দিলে সারাজীবনের জন্য হারাতে হলো তার একটি পা!

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য মতে জমিন চাষের ট্রাকটরের লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভার দ্বারা ধাক্কা দিলে সাথে সাথে পা টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবং তাকে নিয়ে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিমান যোগে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েও পা খানা রক্ষা হয়নি, চিরতরে পা হারাতে হয়েছে শিশু শরিফার। দীর্ঘ তিনমাস ধরে শিশুটির একটিবার খোঁজ নেয়নি ট্রাক্টর মালিক ভুপতি রায় কিংবা ড্রাইভার শাহিন (১৭)।

ঘটনার সরজমিনে এর সত্যতা পাওয়া যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী গ্রামের দিনমজুর শফিকুল ইসলামের কন্যা গত বছরের ১৪ অক্টোবরে শরিফা (৭) অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে স্কুল যাওয়ার পথে এই দূর্ঘটনার কবলে পরে ঘটনা ঘটে। কিন্তু জানা যায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা।

ঘটনার দুইমাস পরে সদর থানায় অভিযোগ দিলেও ট্রাক্টর মালিক ভুপতি রায়ের নিকটাত্মীয় বড় অফিসার হওয়ায় মামলা খানি আমলে নিতে দুইমাস কেটে যায়, পরে জেলা পুলিশ সুপার এর দৃষ্টিতে এলে তড়িঘড়ি করে মামলা আমলে নেয় এবং ট্রাক্টর মালিক ভুপতি রায় কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে যায়।

এদিকে প্রভাবশালী ভুপতি রায় এবং ড্রাইভার শাহীনের পরিবারের হুমকিধামকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শিশু শরিফার বাবা মজদুর শফিকুল ইসলাম। এই বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি আলোকিত বাংলাদেশ ও দৈনিক স্বাধীন মত পত্রিকার নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিকে জানায়, নাবালক ড্রাইভার যার কোন লাইসেন্স নেই, তার দ্বারা ট্রাকটর চালানোর চাবি কিভাবে মালিক দেয়? এখন ড্রাইভার এবং মালিকের পরিবারের হুমকিতে রাস্তার পেছন দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে, এমনিতেই শরিফার চিকিৎসার খরচে নাস্তানাবুদ হয়েছি।

এবিষয়ে নিত্যানন্দীর এলাকার বাবু মিঞা বলেন ১ নম্বর আসামিকেও ধরা উচিত ছিলো, তাহলে এতো সাহস পেতেন না! এবিষয়ে টুপামারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার মেম্বার হাবিবুর রহমান ওরফে সেবু আলোকিত বাংলাদেশ ও স্বাধীন মত কে বলেন, ঘটনার দিন থেকে একমাস ধরে মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু ট্র্যাক্টর মালিক কিংবা ড্রাইভার পক্ষ কোনরকম সারা দেননি।

এবিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম বলেন,১ নং আসামি কে পাওয়া যায়নি, মামলার ২ নং আসামিকে গ্রেফতার করে কোর্টে দিয়েছি এবং ঘাতক ট্রাকটর আটক করা হয়েছে।।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

পা কাটা শরিফার ঘাতক ট্রাকটর ড্রাইভারের হুমকি-ধামকিতে দিশেহারা পরিবার

Update Time : 05:44:55 pm, Sunday, 25 February 2024

মোঃ সামিউল আলম সায়মন, নীলফামারী : নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী গ্রামের ছোট্ট মেয়ে শরিফা (৭) সেদিন সহপাঠীদের সাথে দৈনন্দিনের মতন স্কুল যাচ্ছিলো। যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া ট্রাক্টর সজোরে ধাক্কা দিলে সারাজীবনের জন্য হারাতে হলো তার একটি পা!

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য মতে জমিন চাষের ট্রাকটরের লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভার দ্বারা ধাক্কা দিলে সাথে সাথে পা টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবং তাকে নিয়ে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিমান যোগে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েও পা খানা রক্ষা হয়নি, চিরতরে পা হারাতে হয়েছে শিশু শরিফার। দীর্ঘ তিনমাস ধরে শিশুটির একটিবার খোঁজ নেয়নি ট্রাক্টর মালিক ভুপতি রায় কিংবা ড্রাইভার শাহিন (১৭)।

ঘটনার সরজমিনে এর সত্যতা পাওয়া যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী গ্রামের দিনমজুর শফিকুল ইসলামের কন্যা গত বছরের ১৪ অক্টোবরে শরিফা (৭) অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে স্কুল যাওয়ার পথে এই দূর্ঘটনার কবলে পরে ঘটনা ঘটে। কিন্তু জানা যায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা।

ঘটনার দুইমাস পরে সদর থানায় অভিযোগ দিলেও ট্রাক্টর মালিক ভুপতি রায়ের নিকটাত্মীয় বড় অফিসার হওয়ায় মামলা খানি আমলে নিতে দুইমাস কেটে যায়, পরে জেলা পুলিশ সুপার এর দৃষ্টিতে এলে তড়িঘড়ি করে মামলা আমলে নেয় এবং ট্রাক্টর মালিক ভুপতি রায় কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে যায়।

এদিকে প্রভাবশালী ভুপতি রায় এবং ড্রাইভার শাহীনের পরিবারের হুমকিধামকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শিশু শরিফার বাবা মজদুর শফিকুল ইসলাম। এই বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি আলোকিত বাংলাদেশ ও দৈনিক স্বাধীন মত পত্রিকার নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিকে জানায়, নাবালক ড্রাইভার যার কোন লাইসেন্স নেই, তার দ্বারা ট্রাকটর চালানোর চাবি কিভাবে মালিক দেয়? এখন ড্রাইভার এবং মালিকের পরিবারের হুমকিতে রাস্তার পেছন দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে, এমনিতেই শরিফার চিকিৎসার খরচে নাস্তানাবুদ হয়েছি।

এবিষয়ে নিত্যানন্দীর এলাকার বাবু মিঞা বলেন ১ নম্বর আসামিকেও ধরা উচিত ছিলো, তাহলে এতো সাহস পেতেন না! এবিষয়ে টুপামারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার মেম্বার হাবিবুর রহমান ওরফে সেবু আলোকিত বাংলাদেশ ও স্বাধীন মত কে বলেন, ঘটনার দিন থেকে একমাস ধরে মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু ট্র্যাক্টর মালিক কিংবা ড্রাইভার পক্ষ কোনরকম সারা দেননি।

এবিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম বলেন,১ নং আসামি কে পাওয়া যায়নি, মামলার ২ নং আসামিকে গ্রেফতার করে কোর্টে দিয়েছি এবং ঘাতক ট্রাকটর আটক করা হয়েছে।।