2:12 pm, Monday, 2 November 2026

রাজশাহীতে কৃষিজমি ধ্বংস করে পুকুর খননে মহোৎসব

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:21:46 am, Tuesday, 20 February 2024
  • 58 Time View

মোঃ ইসরাফিল হোসেন, রাজশাহী : রাজশাহী জেলার উচ্চ ফলনশীল আবাদি কৃষি জমি ধ্বংস করে দুর্গাপুর, বাগমারা ও পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় চলছে পুকুর খননে মহা উৎসব। শুধু মাত্র স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই খননকারীরা পছন্দমত বিলে খনন গাড়ি নামিয়ে ফসলি কৃষি জমিতে শুরু করছে পুকুর খনন কাজ। প্রথম অবস্থায় প্রকৃত জমির মালিকদের ধার ধারছে না খনকারীরা।

নানা কায়দা কৌশলে ফেলে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে কিছু কিছু মোটা পরিমান জমির মালিকদের সম্মতি আদায় করছে। তবে অল্প পরিমাণ জমির মালিকদের পাত্তাই দেওয়া হচ্ছে না।

খননকারীরা অতি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রশাসনের নানা টালবাহনায় কোন সুপ্রতিকার পাচ্ছে না।

যেমন একদিকে চলছে কিছু জমি ধ্বংসের প্রতিযোগিতা অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জনগণের চলাচলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। দিনরাত রাস্তাঘাটে খননের মাটি পরিবহনের কারণে ধুলো বালি ও কাদা মাটিতে রাস্তাঘাট গুলো জনগণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন কোন না কোনভাবে ভাবে প্রশাসনের লোকজন ঐ সকল রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেও তা সংরক্ষণে কোনই মাথা ব্যাথা নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

খননকারীদের দৌরাত্ম দেখে মনে হয় তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন ইট ভাটায় ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহনে নিয়োজিত আছেন।

কৃষি জমি সংরক্ষণে সরকারের আদেশ -নিষেধ কিবা ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ প্রতিকার আইন, জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা, সরকারের কৃষি নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপন আইন কোন কিছুই প্রতিপালন হচ্ছে না স্থানীয় পর্যায়ে। সরকারের আইন-কানুনের চেয়ে খননকারীদের ম্যানেজ নীতি প্রশাসনের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় তহশিলদাররাও ম্যানেজ নীতির আওতায় রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, ম্যানেজ নীতিতে বাদ থাকে না প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের প্রিয়ন।

অভিযানের আগেই খননকারীদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয় স্থানীয় প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের পিয়ন।

ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে দায়সারা দু একটি অভিযান করলেও ২/১ দিন পরে যেই সেই। তাতে করে সর্বস্বান্ত স্থানীয় কৃষিজীবী, বর্গাদার, জমি কট বা জমি লীজ গ্রহনকারী সর্বোপরি স্থানীয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ব্যাপকভাবে কৃষি জমি ধ্বংসের দরুন কৃষি ফসল উৎপাদন কমে গিয়েছে। অধিকহারে খননের কারণে বর্ষাকালে নানা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও অত্র এলাকান এখন পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

কৃষি জমি ধ্বংসের মাধ্যমে শুধুমাত্র লাভবান হচ্ছেন অর্থলোভী খননকারী চক্র ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সাম্প্রতি পুঠিয়ার শীলমারিয়া ইউনিয়নের রাতোয়াল, কাজু পাড়া, সরগাছি মঙ্গলপাড়া ও ছাতারপাড়া বিলে ব্যাপক পরিমাণ কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খনন চলছে।

পাশাপাশি বাগমারার গনিপুর, বাসু পাড়া, ঝিকরা, শুভডাঙ্গা, আউচপাড়া , হামিরকুস্যা ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন সহ ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন মৌজায় নিয়মিতভাবে অবাধে দিন রাতে ফসলি জমি ধ্বংস করে পুকুর খনন চলছে। থেমে নেই দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গনকর, জয়নগর, নওপাড়া, জালুকা ও পানানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন।

দুর্গাপুরে প্রশাসনের তরফ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে অধিকাংশ খনন কাজ গুলি করা হয় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।

রাজশাহীর এই তিনটি উপজেলার উপরে উল্লেখিত জায়গার কৃষি জমি রক্ষায় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এসব অবৈধ পুকুর খননের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো: ইমতিয়াজ হোসেন জানান, আমি ঢাকাতে ট্রেনিংয়ে আছি ট্রেনিং থেকে ফিরে এসব পুকুর খনন বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলবো।

এ বিষয়ে জানার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর সরকারি মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

রাজশাহীতে কৃষিজমি ধ্বংস করে পুকুর খননে মহোৎসব

Update Time : 10:21:46 am, Tuesday, 20 February 2024

মোঃ ইসরাফিল হোসেন, রাজশাহী : রাজশাহী জেলার উচ্চ ফলনশীল আবাদি কৃষি জমি ধ্বংস করে দুর্গাপুর, বাগমারা ও পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় চলছে পুকুর খননে মহা উৎসব। শুধু মাত্র স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই খননকারীরা পছন্দমত বিলে খনন গাড়ি নামিয়ে ফসলি কৃষি জমিতে শুরু করছে পুকুর খনন কাজ। প্রথম অবস্থায় প্রকৃত জমির মালিকদের ধার ধারছে না খনকারীরা।

নানা কায়দা কৌশলে ফেলে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে কিছু কিছু মোটা পরিমান জমির মালিকদের সম্মতি আদায় করছে। তবে অল্প পরিমাণ জমির মালিকদের পাত্তাই দেওয়া হচ্ছে না।

খননকারীরা অতি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রশাসনের নানা টালবাহনায় কোন সুপ্রতিকার পাচ্ছে না।

যেমন একদিকে চলছে কিছু জমি ধ্বংসের প্রতিযোগিতা অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জনগণের চলাচলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। দিনরাত রাস্তাঘাটে খননের মাটি পরিবহনের কারণে ধুলো বালি ও কাদা মাটিতে রাস্তাঘাট গুলো জনগণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন কোন না কোনভাবে ভাবে প্রশাসনের লোকজন ঐ সকল রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেও তা সংরক্ষণে কোনই মাথা ব্যাথা নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

খননকারীদের দৌরাত্ম দেখে মনে হয় তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন ইট ভাটায় ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহনে নিয়োজিত আছেন।

কৃষি জমি সংরক্ষণে সরকারের আদেশ -নিষেধ কিবা ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ প্রতিকার আইন, জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা, সরকারের কৃষি নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপন আইন কোন কিছুই প্রতিপালন হচ্ছে না স্থানীয় পর্যায়ে। সরকারের আইন-কানুনের চেয়ে খননকারীদের ম্যানেজ নীতি প্রশাসনের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় তহশিলদাররাও ম্যানেজ নীতির আওতায় রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, ম্যানেজ নীতিতে বাদ থাকে না প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের প্রিয়ন।

অভিযানের আগেই খননকারীদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয় স্থানীয় প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের পিয়ন।

ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে দায়সারা দু একটি অভিযান করলেও ২/১ দিন পরে যেই সেই। তাতে করে সর্বস্বান্ত স্থানীয় কৃষিজীবী, বর্গাদার, জমি কট বা জমি লীজ গ্রহনকারী সর্বোপরি স্থানীয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ব্যাপকভাবে কৃষি জমি ধ্বংসের দরুন কৃষি ফসল উৎপাদন কমে গিয়েছে। অধিকহারে খননের কারণে বর্ষাকালে নানা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও অত্র এলাকান এখন পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

কৃষি জমি ধ্বংসের মাধ্যমে শুধুমাত্র লাভবান হচ্ছেন অর্থলোভী খননকারী চক্র ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সাম্প্রতি পুঠিয়ার শীলমারিয়া ইউনিয়নের রাতোয়াল, কাজু পাড়া, সরগাছি মঙ্গলপাড়া ও ছাতারপাড়া বিলে ব্যাপক পরিমাণ কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খনন চলছে।

পাশাপাশি বাগমারার গনিপুর, বাসু পাড়া, ঝিকরা, শুভডাঙ্গা, আউচপাড়া , হামিরকুস্যা ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন সহ ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন মৌজায় নিয়মিতভাবে অবাধে দিন রাতে ফসলি জমি ধ্বংস করে পুকুর খনন চলছে। থেমে নেই দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গনকর, জয়নগর, নওপাড়া, জালুকা ও পানানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন।

দুর্গাপুরে প্রশাসনের তরফ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে অধিকাংশ খনন কাজ গুলি করা হয় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।

রাজশাহীর এই তিনটি উপজেলার উপরে উল্লেখিত জায়গার কৃষি জমি রক্ষায় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এসব অবৈধ পুকুর খননের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো: ইমতিয়াজ হোসেন জানান, আমি ঢাকাতে ট্রেনিংয়ে আছি ট্রেনিং থেকে ফিরে এসব পুকুর খনন বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলবো।

এ বিষয়ে জানার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর সরকারি মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেন না।