7:57 am, Monday, 2 November 2026

পঞ্চগড়ে আলোচিত ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় ৫ মাসেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন,শিক্ষকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:08:56 pm, Wednesday, 10 September 2025
  • 203 Time View

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত,পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান (৩৩) নামে এক শিক্ষককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসুদ পারভেজ এ আদেশ দেন।
মোস্তাফিজুর রহমান পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের পাহাড়ডাঙ্গা গ্রামে। তিনি পঞ্চগড় শহরের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই স্কুল ছাত্রীকে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন নিজের প্রাইভেট সেন্টারে পড়াতেন গণিতের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। ১৬ এপ্রিল দুপুরে ওই ছাত্রী প্রাইভেট সেন্টারে গেলে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ওই স্কুল শিক্ষক। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই দিনই ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর বাবা পঞ্চগড় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে বিপক্ষে আন্দোলন হয়।

এদিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে মামলার কার্যক্রম। গত ১১ মে মামলায় আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযোগ দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে ঘটনার প্রায় ৫ মাসের মধ্যেই ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত বুধবার এই রায় প্রদান করেন। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে আসামীপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানা গেছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৫ মাসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় হলো। আমরা সন্দেহাতিতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

পঞ্চগড়ে আলোচিত ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় ৫ মাসেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন,শিক্ষকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : 08:08:56 pm, Wednesday, 10 September 2025

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত,পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান (৩৩) নামে এক শিক্ষককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসুদ পারভেজ এ আদেশ দেন।
মোস্তাফিজুর রহমান পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের পাহাড়ডাঙ্গা গ্রামে। তিনি পঞ্চগড় শহরের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই স্কুল ছাত্রীকে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন নিজের প্রাইভেট সেন্টারে পড়াতেন গণিতের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। ১৬ এপ্রিল দুপুরে ওই ছাত্রী প্রাইভেট সেন্টারে গেলে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ওই স্কুল শিক্ষক। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই দিনই ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর বাবা পঞ্চগড় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে বিপক্ষে আন্দোলন হয়।

এদিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে মামলার কার্যক্রম। গত ১১ মে মামলায় আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযোগ দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে ঘটনার প্রায় ৫ মাসের মধ্যেই ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত বুধবার এই রায় প্রদান করেন। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে আসামীপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানা গেছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৫ মাসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় হলো। আমরা সন্দেহাতিতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।