10:19 am, Monday, 2 November 2026

শাহপরাণে সন্ত্রাসীদের হামলায় শামিম নামের এক যুবক আহত

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:54:26 am, Saturday, 24 May 2025
  • 120 Time View

স্টাফ রির্পোটার: সিলেট নগরীর শাহপরাণ মাজার গেইট এলাকায় আওয়ামী ডেবিল সন্ত্রাসীদের স্বশস্ত্র হামলায় শামিম মিয়া নামের এক যুবক আহত হয়ে হাসপাতালে মৃৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

আহত শামিম মিয়া সিলেট শাহপরাণ (রহ:) থানাধিন রস্তুমপুর খিদিরপুর গ্রামের মৃত মুকিত মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত অনুমান ৯টার দিকে নগরীর শাহপরাণ রস্তুমপুর খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্ধা শামিম মিয়াসহ তার বন্ধু চঞ্চল চৌধুরী, রিফাত ও জাহেদ আহমদ শাহপরাণ বাজারে আসেন। বাজারের কাজ শেষ করে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে শাহপরাণ মাজার গেইটের পাশে ইউ/পি অফিসের সম্মুখে যাওয়া মাত্রই সিলেটের ত্রাস হিসাবে পরিচিত ডেবিল জাহাঙ্গির গ্রুপের ক্যাডার, সন্ত্রাসী হাবিবুুর রহমান পংকি, মিজানুর রহমান রকি, মুজিবুর রহমান রুহিত, নাইমুল ইসলাম নাহিদ, শাহান, রাজিবসহ ১২/১৩ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ  স্বশস্ত্র অবস্থায় হামলায় চালায় শামিম মিয়ার উপরে।

কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা শামিম মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপানোর পাশাপাশি স্টীলের পাইপ দিয়ে আঘাত করতে থাকে সারা শরিরে।

এ সময় শামিমকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে সঙ্গে থাকা শামিমের বন্ধু জাহেদ আহমদও আহত হন। হামলার পর শামিমকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা চলে গেলে শামিমের সাথে থাকা তার বন্ধু ও স্থানীয় লোকজন তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আহত শামিম মিয়ার অবস্থা আশংঙ্কাজনক। তিনি এখন হাসপাতালের ৩১ নং সার্র্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন হামলায় শামিম মিয়ার ডান পা ও ডান হাতের দুুটি স্থান ও বাম হাত ভেঙ্গে গেছে। আজ রাতে তার অস্ত্রপচার করা হবে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৮/১২/২০২৪ ইং তারিখে শাহপরাণ থানার রস্তুমপুর এলাকার আমেরিকা প্রবাসী সোরাব আলীর বাড়িতে একটি ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এ সময় এলাকার লোকজন ডাকাত দলের সদস্য খাদিম চৌমহনীর রাজন মিয়ার ছেলে সন্ত্রাসী মুজিবুর রহমান রুহিত, রাজু আহমদ অভিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সর্পোদ করেন।

সেই ডাকাতির ঘটনার সোহরাব আলীর কেয়ার টেকারের স্ত্রী আমিনা বেগম বাদী হয়ে উল্লেখিত সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের নামে একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় দীর্ঘ ৪ মাস কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে আদালত থেকে ছাড়া পায় ডাকাত দলের সদস্যরা। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তারা স্থানীয় বিচারকদের টার্গেট করতে শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ডাকাতির ঘটনার দিন এলাকাবাসীর সাথে উপস্তিত থাকা শামিম মিয়ার উপর আটক ডাকাতরা তাদের গ্র্পের অপর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার শামিমের উপর হামলা করে। হামলাকারীরা স্থানীয় ভাবে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ।

এরা সকলেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের সদস্য। এদের অত্যাচারে বিগত ১৭ বছর থেকে শাহপরাণ এলাকার জনসাধারণ অতিষ্ট্য ছিলেন। গত ৫ আগষ্টের আগে এমন কোন অপরাধ নেই যে এই সন্ত্রাসী দল করেনি। তাদের বিরুদ্ধে সিলেট নগরীর বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসী, ছিনতাই, ডাকাতির, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা রয়েছে।

বিগত দিনে এরা তাদের মামা মেজরটিলার বাসিন্ধা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাহাঙ্গিরের প্রত্যক্ষ মদদে সব রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতো। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ থেকে থানা পুলিশও ছিলো অসহায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলায় আহত শামিম মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

শাহপরাণে সন্ত্রাসীদের হামলায় শামিম নামের এক যুবক আহত

Update Time : 12:54:26 am, Saturday, 24 May 2025

স্টাফ রির্পোটার: সিলেট নগরীর শাহপরাণ মাজার গেইট এলাকায় আওয়ামী ডেবিল সন্ত্রাসীদের স্বশস্ত্র হামলায় শামিম মিয়া নামের এক যুবক আহত হয়ে হাসপাতালে মৃৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

আহত শামিম মিয়া সিলেট শাহপরাণ (রহ:) থানাধিন রস্তুমপুর খিদিরপুর গ্রামের মৃত মুকিত মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত অনুমান ৯টার দিকে নগরীর শাহপরাণ রস্তুমপুর খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্ধা শামিম মিয়াসহ তার বন্ধু চঞ্চল চৌধুরী, রিফাত ও জাহেদ আহমদ শাহপরাণ বাজারে আসেন। বাজারের কাজ শেষ করে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে শাহপরাণ মাজার গেইটের পাশে ইউ/পি অফিসের সম্মুখে যাওয়া মাত্রই সিলেটের ত্রাস হিসাবে পরিচিত ডেবিল জাহাঙ্গির গ্রুপের ক্যাডার, সন্ত্রাসী হাবিবুুর রহমান পংকি, মিজানুর রহমান রকি, মুজিবুর রহমান রুহিত, নাইমুল ইসলাম নাহিদ, শাহান, রাজিবসহ ১২/১৩ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ  স্বশস্ত্র অবস্থায় হামলায় চালায় শামিম মিয়ার উপরে।

কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা শামিম মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপানোর পাশাপাশি স্টীলের পাইপ দিয়ে আঘাত করতে থাকে সারা শরিরে।

এ সময় শামিমকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে সঙ্গে থাকা শামিমের বন্ধু জাহেদ আহমদও আহত হন। হামলার পর শামিমকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা চলে গেলে শামিমের সাথে থাকা তার বন্ধু ও স্থানীয় লোকজন তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আহত শামিম মিয়ার অবস্থা আশংঙ্কাজনক। তিনি এখন হাসপাতালের ৩১ নং সার্র্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন হামলায় শামিম মিয়ার ডান পা ও ডান হাতের দুুটি স্থান ও বাম হাত ভেঙ্গে গেছে। আজ রাতে তার অস্ত্রপচার করা হবে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৮/১২/২০২৪ ইং তারিখে শাহপরাণ থানার রস্তুমপুর এলাকার আমেরিকা প্রবাসী সোরাব আলীর বাড়িতে একটি ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এ সময় এলাকার লোকজন ডাকাত দলের সদস্য খাদিম চৌমহনীর রাজন মিয়ার ছেলে সন্ত্রাসী মুজিবুর রহমান রুহিত, রাজু আহমদ অভিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সর্পোদ করেন।

সেই ডাকাতির ঘটনার সোহরাব আলীর কেয়ার টেকারের স্ত্রী আমিনা বেগম বাদী হয়ে উল্লেখিত সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের নামে একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় দীর্ঘ ৪ মাস কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে আদালত থেকে ছাড়া পায় ডাকাত দলের সদস্যরা। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তারা স্থানীয় বিচারকদের টার্গেট করতে শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ডাকাতির ঘটনার দিন এলাকাবাসীর সাথে উপস্তিত থাকা শামিম মিয়ার উপর আটক ডাকাতরা তাদের গ্র্পের অপর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার শামিমের উপর হামলা করে। হামলাকারীরা স্থানীয় ভাবে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ।

এরা সকলেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের সদস্য। এদের অত্যাচারে বিগত ১৭ বছর থেকে শাহপরাণ এলাকার জনসাধারণ অতিষ্ট্য ছিলেন। গত ৫ আগষ্টের আগে এমন কোন অপরাধ নেই যে এই সন্ত্রাসী দল করেনি। তাদের বিরুদ্ধে সিলেট নগরীর বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসী, ছিনতাই, ডাকাতির, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা রয়েছে।

বিগত দিনে এরা তাদের মামা মেজরটিলার বাসিন্ধা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাহাঙ্গিরের প্রত্যক্ষ মদদে সব রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতো। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ থেকে থানা পুলিশও ছিলো অসহায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলায় আহত শামিম মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।