8:01 am, Monday, 2 November 2026

জরিমানা করেও দমানো যাচ্ছে না: চাটখিলের কৃষি জমির মাটি কাটায় ৪ মাটি দস্যুর সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:56:34 am, Saturday, 10 May 2025
  • 151 Time View

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈমঃ নোয়াখালীর চাটখিলে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ৪ মাটি দস্যুর ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। জরিমানা করেও অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করায় যাচ্ছে না।

গত ৭২ ঘন্টায় চাটখিলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান পরিচালনা করে এই জরিমানা করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মিজানুর রহমান।

গতকাল ৮ মে মধ্যরাতে উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের মুন্সি রাস্তা বাচ্চু মিয়া রোড নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পরকোট মোল্লা বাড়ির মাটি দস্যুর মো: মানিক হোসেনকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫ ধারায় ২ লক্ষ টাকা জরিমানার করা হয়।
এর আগে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুরে অভিযান পরিচালনা করে ভীমপুর গ্রামের মোহাম্মদ ফজলের রাব্বিকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব দেলিয়ায় জসিম উদ্দিনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ও খিলপাড়া ইউনিয়নের বালিয়াদর গ্রামের আবু সাঈদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত

স্থানীয়রা জানান, চাটখিল পৌরসভার সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাটি দস্যুদের বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই মাটি দস্যুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এতে ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। সেই সাথে গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে ট্রাক ও ট্রাক্টর ভর্তি করে মাটি বোঝাই করার কারণে ভেঙে পড়ছে বিভিন্ন সড়ক। যার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সড়ক। চাটখিল উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন পরিমাণের জরিমানা করার পরও এই সিন্ডিকেট মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘কৃষি জমির সুরক্ষা ও অনাবাদি জমি আবাদের বিষয়ে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি জমির টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা পূর্বেও অভিযান পরিচালনা করে এই মাটি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পরিমাণ জরিমানা করেছি। ইদানিং মাটি ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করে দিনের পরিবর্তে গভীর রাতে মাটি কেটে ফসলে জমি নষ্ট করছে। তাই আমরা এখন এই অপরাধীরদের আইনের আওতায় আনতে রাতেও যে অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃষি জমি সুরক্ষায় আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

জরিমানা করেও দমানো যাচ্ছে না: চাটখিলের কৃষি জমির মাটি কাটায় ৪ মাটি দস্যুর সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা

Update Time : 10:56:34 am, Saturday, 10 May 2025

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈমঃ নোয়াখালীর চাটখিলে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ৪ মাটি দস্যুর ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। জরিমানা করেও অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করায় যাচ্ছে না।

গত ৭২ ঘন্টায় চাটখিলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান পরিচালনা করে এই জরিমানা করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মিজানুর রহমান।

গতকাল ৮ মে মধ্যরাতে উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের মুন্সি রাস্তা বাচ্চু মিয়া রোড নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পরকোট মোল্লা বাড়ির মাটি দস্যুর মো: মানিক হোসেনকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫ ধারায় ২ লক্ষ টাকা জরিমানার করা হয়।
এর আগে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুরে অভিযান পরিচালনা করে ভীমপুর গ্রামের মোহাম্মদ ফজলের রাব্বিকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব দেলিয়ায় জসিম উদ্দিনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ও খিলপাড়া ইউনিয়নের বালিয়াদর গ্রামের আবু সাঈদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত

স্থানীয়রা জানান, চাটখিল পৌরসভার সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাটি দস্যুদের বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই মাটি দস্যুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এতে ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। সেই সাথে গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে ট্রাক ও ট্রাক্টর ভর্তি করে মাটি বোঝাই করার কারণে ভেঙে পড়ছে বিভিন্ন সড়ক। যার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সড়ক। চাটখিল উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন পরিমাণের জরিমানা করার পরও এই সিন্ডিকেট মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘কৃষি জমির সুরক্ষা ও অনাবাদি জমি আবাদের বিষয়ে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি জমির টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা পূর্বেও অভিযান পরিচালনা করে এই মাটি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পরিমাণ জরিমানা করেছি। ইদানিং মাটি ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করে দিনের পরিবর্তে গভীর রাতে মাটি কেটে ফসলে জমি নষ্ট করছে। তাই আমরা এখন এই অপরাধীরদের আইনের আওতায় আনতে রাতেও যে অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃষি জমি সুরক্ষায় আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।