11:19 am, Monday, 2 November 2026

জাফলং সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মান্নান মেম্বার ও রিয়াজুল, সিরাজুল ‌

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:03:03 pm, Sunday, 8 December 2024
  • 109 Time View

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোয় চোরাচালান অনেকটা বন্ধ ছিল; কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবারও সক্রিয় হয়েছেন চোরাকারবারিরা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বদলে এখন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চোরাচালান চালু রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গোয়াইনঘাট, সীমান্তবর্তী শতাধিক স্থান দিয়ে চোরাই পণ্য দেদারসে প্রবেশ করছে।উপজেলার সীমান্তেও চোরাকারবারিরা তৎপর। তাঁরা ভারতের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চোরাই পথে মাল আনছেন। এসব পণ্য স্থানীয়ভাবে ‘বুঙ্গার মাল’ নামে পরিচিত।

সীমান্তের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, মান্নান মেম্বার ও তার দুই ভাতিজা রিয়াজুল সিরাজুল এর নেতৃত্বে ভারতীয় চোরাই পণ্যের মধ্যে সব চেয়ে বেশি আসছে চিনি,চা পাতা,কিট, কসমেটিক, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন, মদ, ফেনসিডিলসহ সহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী। আর মান্নান মেম্বার ও তার দুই ভাতিজা রিয়াজুল সিরাজুল এসব নিয়ন্ত্রন করছে, তাদের আঙ্গুলের ইশারায় চলছে,চোরাকারবারিদের নিয়োগ করা শ্রমিকেরা দিন-রাত সুযোগ বুঝে ৫০ কেজির চিনির একেকটা বস্তা মাথায় করে সীমান্ত পার করেন। পরে নৌকা, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। এরপর একশ্রেণির ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় এসব চিনি সিলেট নগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। একইভাবে প্রসাধনসামগ্রী, কাপড়, মাদক, আপেল, কম্বল, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে।

প্রতিমাসে চোরাচালানের এই লাইনম্যান আবার রদবদল করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, সার্কেল এসপি, বিট অফিসার, জেলা উত্তর ডিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ওসি ও বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কামান্ডাররা।

তবে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাঁদের নিয়োগকৃত লাইনম্যান দিয়ে এসকল অবৈধ ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে চোরাকারবারীরা। নির্দশ মানা হচ্ছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

২৩ সেপ্টেম্বর সিলেট রেঞ্জে ডিআইজি মাসিক অপরাধ পর্যালোচনায় সভায় এসব সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ করতে জেলার এসপিদের কঠোর নির্দেশনা দেন। তবে এসব বার্তায় চোরচালান বন্ধ না হয়ে উল্টো নতুন কায়দায় চলছে চোরাচালান।

জানা যায়, আগে প্রতি মাসে সীমান্তের বিভিন্ন ঘাট অলিখিত ইজারা দেওয়া হতো মাসিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে। কিন্তু এখন চলছে কমিশনের খেলা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে গোয়াইনঘাট এলাকায় গেলে নতুন করে উঠে আসে চোরাচালান ও চোরাকারবারীদের নতুন নিয়ন্ত্রকদের নাম। এদের বেশীর ভাগই এখন নিজেদের বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাংবাদিক লেবাসধারী কিছু লোক।

আগে এসব চোরাচালানের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতো স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতারা। যদিও চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করেছে।

বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্বজাফলং সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। তিনি জাফলং গুচ্ছগ্রামের সাদ্দাম রুহির ছেলে। তিনি চোরাচালানের মাঠে এখন অপ্রতিরোধ্য। গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। তার সাথে রয়েছেন উপজেলার সাংবাদিক। তার ক্যাডার বাহিনীর প্রধান হচ্ছে সাদ্দাম, জয়দুল। মান্নান গ্রুপের সদস্যরা স্থানীয় থানা ডিবির নামে চোরাচালানের টাকা উত্তোলন করেন। তারা প্রতি বস্তা চিনি থেকে ২শ’ টাকা চাঁদা আদায় করেন। এর মধ্যে ১শ’ টাকা প্রশাসনের জন্য বরাদ্দ আর ১শ’ টাকা মান্নানের। প্রতি কার্টন কিট ৫শ, টাকা, কসমেটিক্স প্রতি কার্টন ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছে মান্নান ও তার গ্রুপের সদস্যরা। পূর্ব জাফলং সীমান্তের নলজুরি, তামাবিল স্থলবন্দর, আমতলা, সোনাটিলা, লালমাটি, সাইনবোর্ড, ক্যাম্প ক্যান্টিন, জিরো পয়েন্ট, ও সিড়িঘাট পর্যন্ত মান্নান মেম্বারের একক নিয়ন্ত্রণে চলে চোরাচালান। এসব স্পটে বিজিবির লাইনম্যান হিসাবে টাকা আদায় করেন সেলিম, ফয়েজ,আজির উদ্দিন, এবং হাসেম।

সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবির সামনে দিয়ে এসব চোরাচালানের পণ্য দেশে প্রবেশ করলেও টাকার কাছে সকলেই ম্যানেজ হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এছাড়া গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের থানার লাইনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জাফলং বিটের দায়িত্বরত এসআই জহরলালের বিরুদ্ধে। ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মান্নানের অধীনে স্থানীয় চোরাকারবারি দিয়ে তিনি লাইনের টাকা তুলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুচ্ছগ্রাম, জিরোপয়েন্ট, লাল মাটি এলাকায়, তামাবিল, সোনাটিলা ও নলজুরী এলাকার পুলিশ বিজিবির লাইনের টাকা তুলেন সাদ্দাম হোসেন।

টাকার তুলার ব্যাপারে সদ্দামের দাবি আমি আগে ব্যাবসা করতাম। মালামাল বর্ডার থেকে আনতাম কিন্তু এখন আমি এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ চেীধুরীর অনুসারী। সামনে আমি উপজেলা যুবদলের কমিটিতে আসব।

তাছাড়া শান্তিনর, মুজিব নগর এলাকায় অবৈধ চিনিকল বসিয়ে মিশ্রি বানিয়ে ঢাকায় পাঠানোর থানা পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করেন মান্নান মেম্বার এর ভাতিজা সিরাজুল।

এবিষয়ে জানতে মান্নান মেম্বার মুঠোফোনে কল দিলে মান্নান মেম্বার জানান আগে আ.লীগ নেতাকর্মীরাদের সঙ্গে মিলেমিশে আমি নেতৃত্বে জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে দেখভাল করতাম।

এবিষয়ে জানতে এসআই ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার জহর লালের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমাকে এলাকার সাংবাদিক কেউ কোনো কিছু জানায়নি, আপনারা কিভাবে এতকিছু জেনে যান,আমি এলাকায় কয়েকদিন হলো আসছি এতকিছু জানা নেই। এলাকায় খুঁজ নিয়ে জানা যায় লাইনম্যান মান্নান মেম্বার ও চোরাকারবারীরা,এসআই জহুর লাল এর সাথে গোপনে বৈঠক করেন। এসআই জহুর লাল ও কনস্টেবল মাহামুদুল এর সহযোগীতায় লাইন নিয়ন্ত্রণ করছেন মান্নান মেম্বার ।

এবিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের চোরাচালানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স রয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

জাফলং সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মান্নান মেম্বার ও রিয়াজুল, সিরাজুল ‌

Update Time : 02:03:03 pm, Sunday, 8 December 2024

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোয় চোরাচালান অনেকটা বন্ধ ছিল; কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবারও সক্রিয় হয়েছেন চোরাকারবারিরা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বদলে এখন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চোরাচালান চালু রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গোয়াইনঘাট, সীমান্তবর্তী শতাধিক স্থান দিয়ে চোরাই পণ্য দেদারসে প্রবেশ করছে।উপজেলার সীমান্তেও চোরাকারবারিরা তৎপর। তাঁরা ভারতের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চোরাই পথে মাল আনছেন। এসব পণ্য স্থানীয়ভাবে ‘বুঙ্গার মাল’ নামে পরিচিত।

সীমান্তের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, মান্নান মেম্বার ও তার দুই ভাতিজা রিয়াজুল সিরাজুল এর নেতৃত্বে ভারতীয় চোরাই পণ্যের মধ্যে সব চেয়ে বেশি আসছে চিনি,চা পাতা,কিট, কসমেটিক, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন, মদ, ফেনসিডিলসহ সহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী। আর মান্নান মেম্বার ও তার দুই ভাতিজা রিয়াজুল সিরাজুল এসব নিয়ন্ত্রন করছে, তাদের আঙ্গুলের ইশারায় চলছে,চোরাকারবারিদের নিয়োগ করা শ্রমিকেরা দিন-রাত সুযোগ বুঝে ৫০ কেজির চিনির একেকটা বস্তা মাথায় করে সীমান্ত পার করেন। পরে নৌকা, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। এরপর একশ্রেণির ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় এসব চিনি সিলেট নগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। একইভাবে প্রসাধনসামগ্রী, কাপড়, মাদক, আপেল, কম্বল, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে।

প্রতিমাসে চোরাচালানের এই লাইনম্যান আবার রদবদল করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, সার্কেল এসপি, বিট অফিসার, জেলা উত্তর ডিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ওসি ও বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কামান্ডাররা।

তবে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাঁদের নিয়োগকৃত লাইনম্যান দিয়ে এসকল অবৈধ ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে চোরাকারবারীরা। নির্দশ মানা হচ্ছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

২৩ সেপ্টেম্বর সিলেট রেঞ্জে ডিআইজি মাসিক অপরাধ পর্যালোচনায় সভায় এসব সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ করতে জেলার এসপিদের কঠোর নির্দেশনা দেন। তবে এসব বার্তায় চোরচালান বন্ধ না হয়ে উল্টো নতুন কায়দায় চলছে চোরাচালান।

জানা যায়, আগে প্রতি মাসে সীমান্তের বিভিন্ন ঘাট অলিখিত ইজারা দেওয়া হতো মাসিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে। কিন্তু এখন চলছে কমিশনের খেলা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে গোয়াইনঘাট এলাকায় গেলে নতুন করে উঠে আসে চোরাচালান ও চোরাকারবারীদের নতুন নিয়ন্ত্রকদের নাম। এদের বেশীর ভাগই এখন নিজেদের বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাংবাদিক লেবাসধারী কিছু লোক।

আগে এসব চোরাচালানের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতো স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতারা। যদিও চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করেছে।

বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্বজাফলং সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। তিনি জাফলং গুচ্ছগ্রামের সাদ্দাম রুহির ছেলে। তিনি চোরাচালানের মাঠে এখন অপ্রতিরোধ্য। গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। তার সাথে রয়েছেন উপজেলার সাংবাদিক। তার ক্যাডার বাহিনীর প্রধান হচ্ছে সাদ্দাম, জয়দুল। মান্নান গ্রুপের সদস্যরা স্থানীয় থানা ডিবির নামে চোরাচালানের টাকা উত্তোলন করেন। তারা প্রতি বস্তা চিনি থেকে ২শ’ টাকা চাঁদা আদায় করেন। এর মধ্যে ১শ’ টাকা প্রশাসনের জন্য বরাদ্দ আর ১শ’ টাকা মান্নানের। প্রতি কার্টন কিট ৫শ, টাকা, কসমেটিক্স প্রতি কার্টন ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছে মান্নান ও তার গ্রুপের সদস্যরা। পূর্ব জাফলং সীমান্তের নলজুরি, তামাবিল স্থলবন্দর, আমতলা, সোনাটিলা, লালমাটি, সাইনবোর্ড, ক্যাম্প ক্যান্টিন, জিরো পয়েন্ট, ও সিড়িঘাট পর্যন্ত মান্নান মেম্বারের একক নিয়ন্ত্রণে চলে চোরাচালান। এসব স্পটে বিজিবির লাইনম্যান হিসাবে টাকা আদায় করেন সেলিম, ফয়েজ,আজির উদ্দিন, এবং হাসেম।

সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবির সামনে দিয়ে এসব চোরাচালানের পণ্য দেশে প্রবেশ করলেও টাকার কাছে সকলেই ম্যানেজ হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এছাড়া গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের থানার লাইনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জাফলং বিটের দায়িত্বরত এসআই জহরলালের বিরুদ্ধে। ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মান্নানের অধীনে স্থানীয় চোরাকারবারি দিয়ে তিনি লাইনের টাকা তুলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুচ্ছগ্রাম, জিরোপয়েন্ট, লাল মাটি এলাকায়, তামাবিল, সোনাটিলা ও নলজুরী এলাকার পুলিশ বিজিবির লাইনের টাকা তুলেন সাদ্দাম হোসেন।

টাকার তুলার ব্যাপারে সদ্দামের দাবি আমি আগে ব্যাবসা করতাম। মালামাল বর্ডার থেকে আনতাম কিন্তু এখন আমি এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ চেীধুরীর অনুসারী। সামনে আমি উপজেলা যুবদলের কমিটিতে আসব।

তাছাড়া শান্তিনর, মুজিব নগর এলাকায় অবৈধ চিনিকল বসিয়ে মিশ্রি বানিয়ে ঢাকায় পাঠানোর থানা পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করেন মান্নান মেম্বার এর ভাতিজা সিরাজুল।

এবিষয়ে জানতে মান্নান মেম্বার মুঠোফোনে কল দিলে মান্নান মেম্বার জানান আগে আ.লীগ নেতাকর্মীরাদের সঙ্গে মিলেমিশে আমি নেতৃত্বে জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে দেখভাল করতাম।

এবিষয়ে জানতে এসআই ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার জহর লালের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমাকে এলাকার সাংবাদিক কেউ কোনো কিছু জানায়নি, আপনারা কিভাবে এতকিছু জেনে যান,আমি এলাকায় কয়েকদিন হলো আসছি এতকিছু জানা নেই। এলাকায় খুঁজ নিয়ে জানা যায় লাইনম্যান মান্নান মেম্বার ও চোরাকারবারীরা,এসআই জহুর লাল এর সাথে গোপনে বৈঠক করেন। এসআই জহুর লাল ও কনস্টেবল মাহামুদুল এর সহযোগীতায় লাইন নিয়ন্ত্রণ করছেন মান্নান মেম্বার ।

এবিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের চোরাচালানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স রয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।