1:24 pm, Monday, 2 November 2026

রাজশাহীর পুঠিয়ার যে মাদরাসায় মানা হয়না সরকারি আদেশ-নিষেধ

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:41:35 pm, Monday, 13 November 2023
  • 28 Time View

শাহাদত হোসেন,রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়ার ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসায় মানা হয় না সরকারি পরিপূর্ণ আদেশ বা নিষেধ। যেকোনো পরিক্ষাও নেয়া হয়  অধ্যক্ষের মন মত সময়ে। নির্দিষ্ট দিনের পরীক্ষার রুটিন এলোমেলো করে নেয়া হয় অন্য দিনে। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় দিবসেও টাঙ্গানো হয় না, জাতীয় পতাকা।

এসব বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর করা হয়েছে অভিযোগও। রোববার (১২ নভেম্বর) এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে সরে জমিনে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে দেখাও মিলে এর সত্যতা। এসব বিষয়ে স্থানীয় আহসানুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ পত্র ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ষষ্ঠ শ্রেণীর সহ বিভিন্ন শ্রেণীতে সরকারি নির্দেশ মতে ১২ নভেম্বর পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ‘কুরআন মাজীদ’ অথচ ওই একই তারিখে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের আদেশে পরীক্ষা নিচ্ছেন ‘বিজ্ঞান’, এতে করে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক খুব লক্ষ্য করা গেছে।

রুটিন এলোমেলো করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকরা মাদ্রাসায় গেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশ অমান্য এবং রুটিন এলোমেলো করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে  কিছু লিখতে পারছে না। তারা বলছেন রুটিনে আছে এক, আমরা এখানে আসলে পরীক্ষা দিতে হয় আরেক। এতে করে আমাদের লিখতে কষ্ট হচ্ছে পারছিনা।

এসব বিষয়ে অভিযোগ করা অন্য আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উক্ত মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অভিভাবক মোঃ আহসানউল্লাহ তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের আমি একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। এই প্রতিষ্ঠানে নানান রকম অনিয়ম করা হয় এসব আমি নিষেধ করতে গেলে তারা শোনে না। বিভিন্ন দিবসেও টাঙ্গানো হয় না জাতীয় পতাকা। অনেক সময় পড়ানো হয় না জাতীয় সংগীত আবার অনেক সময় বাচ্চাদের পিটি করানো হয় না।

একদিনের পরীক্ষা অন্য দিনে নেয়ার বিষয়ে আমি নিষেধ করতে গেলে আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করে এমনকি আমার ফোন নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। আমার দুটি মেয়ে এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। আজ আমার ছোট মেয়ে কোরআন মাজীদ পরীক্ষা দিতে এসে, তারা বিজ্ঞান পরীক্ষা নিয়েছে। সরকারি রুটিনে আজ কোন পরীক্ষা ছিল না ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আমার মেয়ের। গত ৯ তারিখের পরীক্ষা আজ দিয়ে নিচ্ছে। এসব বিষয়ে আমি ইউএনও অফিস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছি। এ বিষয়ে ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান তিনি বলেন, আমরা শেষ সময়ে রুটিন পেয়েছি তাই এমনটা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর হবে না।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরজুল্লাহ শেখ (ঝাটু) তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দেখছি কি করা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর তিনি বলেন, আমি জেলায় মিটিংয়ে ছিলাম। একজন প্রিন্সিপাল ফোন করেছিল। আমি দরখাস্তটি অফিসে রেখে যেতে বলেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

রাজশাহীর পুঠিয়ার যে মাদরাসায় মানা হয়না সরকারি আদেশ-নিষেধ

Update Time : 09:41:35 pm, Monday, 13 November 2023

শাহাদত হোসেন,রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়ার ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসায় মানা হয় না সরকারি পরিপূর্ণ আদেশ বা নিষেধ। যেকোনো পরিক্ষাও নেয়া হয়  অধ্যক্ষের মন মত সময়ে। নির্দিষ্ট দিনের পরীক্ষার রুটিন এলোমেলো করে নেয়া হয় অন্য দিনে। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় দিবসেও টাঙ্গানো হয় না, জাতীয় পতাকা।

এসব বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর করা হয়েছে অভিযোগও। রোববার (১২ নভেম্বর) এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে সরে জমিনে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে দেখাও মিলে এর সত্যতা। এসব বিষয়ে স্থানীয় আহসানুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ পত্র ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ষষ্ঠ শ্রেণীর সহ বিভিন্ন শ্রেণীতে সরকারি নির্দেশ মতে ১২ নভেম্বর পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ‘কুরআন মাজীদ’ অথচ ওই একই তারিখে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের আদেশে পরীক্ষা নিচ্ছেন ‘বিজ্ঞান’, এতে করে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক খুব লক্ষ্য করা গেছে।

রুটিন এলোমেলো করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকরা মাদ্রাসায় গেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশ অমান্য এবং রুটিন এলোমেলো করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে  কিছু লিখতে পারছে না। তারা বলছেন রুটিনে আছে এক, আমরা এখানে আসলে পরীক্ষা দিতে হয় আরেক। এতে করে আমাদের লিখতে কষ্ট হচ্ছে পারছিনা।

এসব বিষয়ে অভিযোগ করা অন্য আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উক্ত মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অভিভাবক মোঃ আহসানউল্লাহ তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের আমি একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। এই প্রতিষ্ঠানে নানান রকম অনিয়ম করা হয় এসব আমি নিষেধ করতে গেলে তারা শোনে না। বিভিন্ন দিবসেও টাঙ্গানো হয় না জাতীয় পতাকা। অনেক সময় পড়ানো হয় না জাতীয় সংগীত আবার অনেক সময় বাচ্চাদের পিটি করানো হয় না।

একদিনের পরীক্ষা অন্য দিনে নেয়ার বিষয়ে আমি নিষেধ করতে গেলে আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করে এমনকি আমার ফোন নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। আমার দুটি মেয়ে এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। আজ আমার ছোট মেয়ে কোরআন মাজীদ পরীক্ষা দিতে এসে, তারা বিজ্ঞান পরীক্ষা নিয়েছে। সরকারি রুটিনে আজ কোন পরীক্ষা ছিল না ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আমার মেয়ের। গত ৯ তারিখের পরীক্ষা আজ দিয়ে নিচ্ছে। এসব বিষয়ে আমি ইউএনও অফিস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছি। এ বিষয়ে ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান তিনি বলেন, আমরা শেষ সময়ে রুটিন পেয়েছি তাই এমনটা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর হবে না।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরজুল্লাহ শেখ (ঝাটু) তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দেখছি কি করা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর তিনি বলেন, আমি জেলায় মিটিংয়ে ছিলাম। একজন প্রিন্সিপাল ফোন করেছিল। আমি দরখাস্তটি অফিসে রেখে যেতে বলেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করছি।