5:44 pm, Monday, 2 November 2026

আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:50:56 pm, Thursday, 24 March 2022
  • 29 Time View

মোঃ সাকিবুল ইসলাম সাকিব, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা। বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গ্রামীন রাস্তাঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪০ দিনের কর্মসূচীকে সাধারনত রাস্তা, ধ্বসে যাওয়া রাস্তার পাড় সংস্কার করা হয়, এতে দীর্ঘদিন থেকে চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়া রাস্তাগুলো আবারো চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠছে। সেই সাথে ইউনিয়নের হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষগুলো শ্রমিক হিসাবে এ কর্মসূচীতে ৪০ দিন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, এতে তারাও আর্থিকভাবে কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন।

অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্কান কর্মসূচীর আওতায় আমতলী উপজেলার ইউনিয়নের রাস্তাঘাট সংস্কার করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হলদিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেয়া যায়, রস্তায় সংস্কারের কাজ করছেন শ্রমিকরা। স্থানীয়রা জানান, আবারো মাটি তোলার কারনে কিছুটা হলেও রাস্তাঘাটে চলাচল করা যাবে।

ছোনাউঠার হানিফ মৃধার বাড়ী হইতে শুরু হইয়া মোশারেফ হাওলাদারের বাড়ী পর্যন্ত একটি প্রকল্প অপর একটি প্রকল্প ইউনিয়নের উত্তর রাওঘা গ্রামের হারুন মিয়ার বাড়ী হইতে আপ্তের হাওলাদারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কলেজটির এলাকার সাধারন জনগন ।

তারা বলেন, আগামী বর্ষার সময় ছাত্রদের কষ্ট হত, রাস্তায় মাটি দেয়ার কারনে আর চলাচলে কষ্ট হবে না।

শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, রাস্তা সংস্কার হওয়ার কারনে সবার চলাচল সহজ হবে, শ্রমিকরা সুন্দরভাবে কাজ করছেন। বর্ষার সময় কাদা থেকেও অনেকটা রেহায় পাওয়া যাবে। তবে আমরা এলাকা বাসির পক্ষে দাবি জানাব যেন রাস্তাটি ইটের হেয়ারিং করা হয়।

এদিকে শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পেয়ে অনেক খুশি। মাটি কাটার কাজ করা মোঃ দলিল উদ্দিন নামে এক শ্রমিক বলেন ৪০০ টাকা করে মুজুরি পাবেন তিনি, ৪০ দিন কাজ করলে ১৬ হাজার টাকা পাবেন। তিনি আগামীতেও যেন আরো কাজ তাদের দেয়া হয় সে দাবি জানান।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক জানান, তার ইউনিয়নে বর্তমানে ৪০ দিনের কর্মসূচী চলমান রয়েছে। গত ৫ফেব্রæয়ারী থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচী শেষ হবে এ মাসেই। চলমান এ কর্মসূচীর মাধ্যমে ইউনিয়নের বেশকিছু রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। সেই সাথে হতদরিদ্রদের কাজের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু একটি মহল কাজ শুরু করার সাথে সাথেই বলা শুরু করে দিয়েছে চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাত করছে। সিম রেখে দিয়েছে। এই ধরনের অপ-প্রচার শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কোন বিলই প্রদান করতে পারে নাই। আমার সাথে নির্বাচন করে পরাজীত শক্তি বিভিন্ন ভাবে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ করছে।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীন কাঁচা রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। হলদিয়া ইউনিয়নে ১৭৯ জন জন শ্রমিক ৪০ দিন করে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। বছরে দুইবার করে এ কর্মসূচীর আওতায় কাজ করা হচ্ছে। যদি কোন শ্রমিক দুইবারই কাজ করেন তাহলে তিনি বছরে ৩২ হাজার টাকা পাবেন, একবার কাজ করলে পাবেন ১৬ হাজার টাকা। আমরা চেষ্টা করছি গ্রামীন অবকাঠানোর উন্নয়নের সাথে সাথে হতদরিদ্রদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে কাজ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, হলদিয়ার ৪০ দিনের কাজ সরকারী বিধি মোতাবেক হচ্ছে। শ্রমিকরা কাজ পেয়ে অত্যন্ত খুশি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা

Update Time : 05:50:56 pm, Thursday, 24 March 2022

মোঃ সাকিবুল ইসলাম সাকিব, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা। বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গ্রামীন রাস্তাঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪০ দিনের কর্মসূচীকে সাধারনত রাস্তা, ধ্বসে যাওয়া রাস্তার পাড় সংস্কার করা হয়, এতে দীর্ঘদিন থেকে চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়া রাস্তাগুলো আবারো চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠছে। সেই সাথে ইউনিয়নের হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষগুলো শ্রমিক হিসাবে এ কর্মসূচীতে ৪০ দিন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, এতে তারাও আর্থিকভাবে কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন।

অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্কান কর্মসূচীর আওতায় আমতলী উপজেলার ইউনিয়নের রাস্তাঘাট সংস্কার করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হলদিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেয়া যায়, রস্তায় সংস্কারের কাজ করছেন শ্রমিকরা। স্থানীয়রা জানান, আবারো মাটি তোলার কারনে কিছুটা হলেও রাস্তাঘাটে চলাচল করা যাবে।

ছোনাউঠার হানিফ মৃধার বাড়ী হইতে শুরু হইয়া মোশারেফ হাওলাদারের বাড়ী পর্যন্ত একটি প্রকল্প অপর একটি প্রকল্প ইউনিয়নের উত্তর রাওঘা গ্রামের হারুন মিয়ার বাড়ী হইতে আপ্তের হাওলাদারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কলেজটির এলাকার সাধারন জনগন ।

তারা বলেন, আগামী বর্ষার সময় ছাত্রদের কষ্ট হত, রাস্তায় মাটি দেয়ার কারনে আর চলাচলে কষ্ট হবে না।

শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, রাস্তা সংস্কার হওয়ার কারনে সবার চলাচল সহজ হবে, শ্রমিকরা সুন্দরভাবে কাজ করছেন। বর্ষার সময় কাদা থেকেও অনেকটা রেহায় পাওয়া যাবে। তবে আমরা এলাকা বাসির পক্ষে দাবি জানাব যেন রাস্তাটি ইটের হেয়ারিং করা হয়।

এদিকে শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পেয়ে অনেক খুশি। মাটি কাটার কাজ করা মোঃ দলিল উদ্দিন নামে এক শ্রমিক বলেন ৪০০ টাকা করে মুজুরি পাবেন তিনি, ৪০ দিন কাজ করলে ১৬ হাজার টাকা পাবেন। তিনি আগামীতেও যেন আরো কাজ তাদের দেয়া হয় সে দাবি জানান।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক জানান, তার ইউনিয়নে বর্তমানে ৪০ দিনের কর্মসূচী চলমান রয়েছে। গত ৫ফেব্রæয়ারী থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচী শেষ হবে এ মাসেই। চলমান এ কর্মসূচীর মাধ্যমে ইউনিয়নের বেশকিছু রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। সেই সাথে হতদরিদ্রদের কাজের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু একটি মহল কাজ শুরু করার সাথে সাথেই বলা শুরু করে দিয়েছে চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাত করছে। সিম রেখে দিয়েছে। এই ধরনের অপ-প্রচার শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কোন বিলই প্রদান করতে পারে নাই। আমার সাথে নির্বাচন করে পরাজীত শক্তি বিভিন্ন ভাবে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ করছে।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীন কাঁচা রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। হলদিয়া ইউনিয়নে ১৭৯ জন জন শ্রমিক ৪০ দিন করে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। বছরে দুইবার করে এ কর্মসূচীর আওতায় কাজ করা হচ্ছে। যদি কোন শ্রমিক দুইবারই কাজ করেন তাহলে তিনি বছরে ৩২ হাজার টাকা পাবেন, একবার কাজ করলে পাবেন ১৬ হাজার টাকা। আমরা চেষ্টা করছি গ্রামীন অবকাঠানোর উন্নয়নের সাথে সাথে হতদরিদ্রদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে কাজ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, হলদিয়ার ৪০ দিনের কাজ সরকারী বিধি মোতাবেক হচ্ছে। শ্রমিকরা কাজ পেয়ে অত্যন্ত খুশি।