8:48 am, Monday, 2 November 2026

অনুমোদন নেই, অবৈধ ভাবে চলছে আজিজুরের ক্যাবল টিভি ব্যবসা

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:20:33 pm, Thursday, 3 February 2022
  • 117 Time View

খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা/ মিনারুজ্জামান মিরণ : অনুমোদন নেই, অবৈধ ভাবে চলছে আজিজুরের ক্যাবল টিভি ব্যবসা। “শালিশ মানি কিন্তু তালগাছ আমার” ক্যাবল অপারেটর এসোসিয়েশন (কোয়াব)’র সদস্যও নন। ক্যাবল অপারেটর হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইসেন্সও নেই। নেই নিজস্ব কন্ট্রোল রুম। সীমানা নির্ধারণ তো দূরের কথা, নেই সরকারীভাবে সামান্য হলেও অনুমোদন বা কাগজপত্র। এমনই অনুমোদনহীন ও অবৈধ ভাবে চলছে আজিজুরের ডিস (ক্যাবল) লাইনের ব্যবসা।

যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সিংগাড়ী গ্রামের মালেক শেখ-এর ছেলে আজিজুর শেখ নামক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতদ অভিযোগের পাহাড় থাকলেও; তার নেই কোনো মাথা ব্যাথা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখে ধূলো দিয়ে প্রায় এক যুগ সময়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অবৈধ ব্যবসার রাম রাজত্ব।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারীভাবে জেলা ভিত্তিক ডিস (ক্যাবল) লাইন পরিচালনার নিয়ম থাকলেও সকল নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে‌ অভয়নগর যশোরের সিটি ক্যাবলস নামের ডিস লাইন নিয়ে যশোর জেলা পার হয়ে আজিজুর শেখের অবৈধ ব্যবসা এখন নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। যেন তাকে বাধা দেয়ার কেউ নেই।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুযায়ী অবৈধ কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান একই আইনের ধারা ১৯ ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালীন বিভাগীয় ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইসেন্স পরিদর্শকরা এ সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে আজিজুর শেখ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি ক্যাবলস ডিস লাইন নড়াইলের মধুরগাতীসহ বিভিন্ন এলাকায় চালাই। এখনো পর্যন্ত কোন সমস্য হয়নি। নড়াইলের অফিসে আমি অনেক বার গিয়েছি এবং তাদের সাথে কথা বলেছি, আমার কোন কাগজ পত্র নাই কিন্তু আমার পার্টনারের বৈধতা আছে।

নড়াইল জেলায় নড়াইল ভিশন এবং চিত্রাবানী স্যাটেলাইট নামে দু’টি লাইন চলে জেলা জুড়ে। ইতিমধ্যে নড়াইল ভিশন ডিজিটাল লাইসেন্সও পেয়েছে। আজিজুর শেখের অবৈধ ব্যবসার কারণে একদিকে যেমন নড়াইলের ডিস (ক্যাবল) ব্যবসায়ীদের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তেমনই যশোর জেলার ডিস লাইন নড়াইল জেলার অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসার কারণে উক্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্রমেই ক্ষোভের সৃষ্টি সহ যে কোনো সময় আধিপত্য রক্ষায় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

নড়াইলের এক ভুক্তভোগী ক্যাবল ব্যবসায়ী বলেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠান সরকারী নিয়ম-নীতি মেনে সুনামের সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরে ডিস গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছে। এরমধ্যে ক্যাবল টিভি নীতিমালা, আইনকানুন ও ব্যবসায়ীক নীতি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে আজিজুর শেখ যশোরের সিটি ক্যাবলস নামের ডিস লাইন নিয়ে পেশীশক্তি ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে জোর করে যশোর জেলা পার হয়ে একইসাথে নড়াইল জেলার অভ্যন্তরে ঢুকে লাইন দিয়ে ব্যবসা দখল করেছে। আমরা ওই এলাকায় লাইনও দিতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ক্যাবল টিভি ব্যবসার নি য়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ও লাইসেন্স কন্ট্রোলার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহনে দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া তদন্ত করে নড়াইল জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ও তাদের প্রতিষ্ঠানের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

অনুমোদন নেই, অবৈধ ভাবে চলছে আজিজুরের ক্যাবল টিভি ব্যবসা

Update Time : 09:20:33 pm, Thursday, 3 February 2022

খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা/ মিনারুজ্জামান মিরণ : অনুমোদন নেই, অবৈধ ভাবে চলছে আজিজুরের ক্যাবল টিভি ব্যবসা। “শালিশ মানি কিন্তু তালগাছ আমার” ক্যাবল অপারেটর এসোসিয়েশন (কোয়াব)’র সদস্যও নন। ক্যাবল অপারেটর হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইসেন্সও নেই। নেই নিজস্ব কন্ট্রোল রুম। সীমানা নির্ধারণ তো দূরের কথা, নেই সরকারীভাবে সামান্য হলেও অনুমোদন বা কাগজপত্র। এমনই অনুমোদনহীন ও অবৈধ ভাবে চলছে আজিজুরের ডিস (ক্যাবল) লাইনের ব্যবসা।

যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সিংগাড়ী গ্রামের মালেক শেখ-এর ছেলে আজিজুর শেখ নামক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতদ অভিযোগের পাহাড় থাকলেও; তার নেই কোনো মাথা ব্যাথা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখে ধূলো দিয়ে প্রায় এক যুগ সময়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অবৈধ ব্যবসার রাম রাজত্ব।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারীভাবে জেলা ভিত্তিক ডিস (ক্যাবল) লাইন পরিচালনার নিয়ম থাকলেও সকল নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে‌ অভয়নগর যশোরের সিটি ক্যাবলস নামের ডিস লাইন নিয়ে যশোর জেলা পার হয়ে আজিজুর শেখের অবৈধ ব্যবসা এখন নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। যেন তাকে বাধা দেয়ার কেউ নেই।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুযায়ী অবৈধ কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান একই আইনের ধারা ১৯ ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালীন বিভাগীয় ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইসেন্স পরিদর্শকরা এ সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে আজিজুর শেখ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি ক্যাবলস ডিস লাইন নড়াইলের মধুরগাতীসহ বিভিন্ন এলাকায় চালাই। এখনো পর্যন্ত কোন সমস্য হয়নি। নড়াইলের অফিসে আমি অনেক বার গিয়েছি এবং তাদের সাথে কথা বলেছি, আমার কোন কাগজ পত্র নাই কিন্তু আমার পার্টনারের বৈধতা আছে।

নড়াইল জেলায় নড়াইল ভিশন এবং চিত্রাবানী স্যাটেলাইট নামে দু’টি লাইন চলে জেলা জুড়ে। ইতিমধ্যে নড়াইল ভিশন ডিজিটাল লাইসেন্সও পেয়েছে। আজিজুর শেখের অবৈধ ব্যবসার কারণে একদিকে যেমন নড়াইলের ডিস (ক্যাবল) ব্যবসায়ীদের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তেমনই যশোর জেলার ডিস লাইন নড়াইল জেলার অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসার কারণে উক্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্রমেই ক্ষোভের সৃষ্টি সহ যে কোনো সময় আধিপত্য রক্ষায় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

নড়াইলের এক ভুক্তভোগী ক্যাবল ব্যবসায়ী বলেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠান সরকারী নিয়ম-নীতি মেনে সুনামের সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরে ডিস গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছে। এরমধ্যে ক্যাবল টিভি নীতিমালা, আইনকানুন ও ব্যবসায়ীক নীতি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে আজিজুর শেখ যশোরের সিটি ক্যাবলস নামের ডিস লাইন নিয়ে পেশীশক্তি ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে জোর করে যশোর জেলা পার হয়ে একইসাথে নড়াইল জেলার অভ্যন্তরে ঢুকে লাইন দিয়ে ব্যবসা দখল করেছে। আমরা ওই এলাকায় লাইনও দিতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ক্যাবল টিভি ব্যবসার নি য়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ও লাইসেন্স কন্ট্রোলার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহনে দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া তদন্ত করে নড়াইল জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ও তাদের প্রতিষ্ঠানের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।’