11:19 am, Monday, 2 November 2026

ছাতকে কিশোরকে কুপিয়ে আহত, হাসপাতালে ভর্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:03:39 am, Monday, 19 July 2021
  • 42 Time View

ফজল উদ্দীন, ছাতক, সুনামগঞ্জ থেকে : ছাতকে কিশোরকে কুপিয়ে আহত, হাসপাতালে ভর্তি। সুনামগঞ্জের ছাতকে হোসাইন আহমদ (১৭) নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। গত ১৮/জুলাই রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের বড় মায়েরকূল গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে মুমুর্ষ অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার উদ্ধার করে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। হোসাইন বড় মায়েরকূল গ্রামের মৃত সরকুম আলীর ছেলে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় রোববার বিকেলে বড় মায়েরকুল গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে হাসানকে সাথে নিয়ে স্থানীয় মায়েরকুল বাজারে বেড়াতে যায় হোসাইন। এক পর্যায়ে একই গ্রামের আশরাফ আলী ওরফে কানা আশরাফের ছেলে আলী হোসেন ও সুলেমান হোসেনরা এসে বাজারের দক্ষিনের রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে বাড়িতে যায়। সেখানের একটি ঘরে আটকে রেখ অন্যান্য সহযোগিরা মিলে ব্যাপক মারধর করে। এসময় তার গলায় গামছা পেঁছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।

এদিকে হোসাইনকে তুলে নেয়ার ঘটনাটি হাসান তার স্বজনদেরকে জানালে তাৎক্ষনিক লোকজনা ওই বাড়ি থেকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় হোসাইনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত ১১ এপ্রিল মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় আশরাফ আলীর ছেলে সুলেমান। এঘটনায় মামলা করে পুলিশ। স্বাক্ষি ছিলেন আহত হোসাইন আহমদ। দুইদিন কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে আসে সুলেমান। মামলার স্বাক্ষি হওয়ায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয় সে। এর পর থেকে হোসাইন আহমদকে প্রাণে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে উৎপেতে থাকে সুলেমান ও তার সহোদররা।

ঘটনার দিন আলী হোসেন ও সুলেমান জোরপূর্বক বাজারের রাস্তা থেকে তাকে তুলে তাদের বাড়িতে নিয়ে গলায় কাপড় পেঁছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি তারা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দু’পায়ের উরুতে কূপিয়ে মারাত্বক আহত করে। বর্তমানে সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের দু’পক্ষের মধ্যে মামলা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উত্তাল গোয়াইনঘাট : বিএনপি নেতা স্টেলিং তারিয়াংয়ের সমর্থনে তৃণমূলের মানববন্ধনের ঘোষণা

ছাতকে কিশোরকে কুপিয়ে আহত, হাসপাতালে ভর্তি

Update Time : 10:03:39 am, Monday, 19 July 2021

ফজল উদ্দীন, ছাতক, সুনামগঞ্জ থেকে : ছাতকে কিশোরকে কুপিয়ে আহত, হাসপাতালে ভর্তি। সুনামগঞ্জের ছাতকে হোসাইন আহমদ (১৭) নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। গত ১৮/জুলাই রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের বড় মায়েরকূল গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে মুমুর্ষ অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার উদ্ধার করে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। হোসাইন বড় মায়েরকূল গ্রামের মৃত সরকুম আলীর ছেলে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় রোববার বিকেলে বড় মায়েরকুল গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে হাসানকে সাথে নিয়ে স্থানীয় মায়েরকুল বাজারে বেড়াতে যায় হোসাইন। এক পর্যায়ে একই গ্রামের আশরাফ আলী ওরফে কানা আশরাফের ছেলে আলী হোসেন ও সুলেমান হোসেনরা এসে বাজারের দক্ষিনের রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে বাড়িতে যায়। সেখানের একটি ঘরে আটকে রেখ অন্যান্য সহযোগিরা মিলে ব্যাপক মারধর করে। এসময় তার গলায় গামছা পেঁছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।

এদিকে হোসাইনকে তুলে নেয়ার ঘটনাটি হাসান তার স্বজনদেরকে জানালে তাৎক্ষনিক লোকজনা ওই বাড়ি থেকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় হোসাইনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত ১১ এপ্রিল মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় আশরাফ আলীর ছেলে সুলেমান। এঘটনায় মামলা করে পুলিশ। স্বাক্ষি ছিলেন আহত হোসাইন আহমদ। দুইদিন কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে আসে সুলেমান। মামলার স্বাক্ষি হওয়ায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয় সে। এর পর থেকে হোসাইন আহমদকে প্রাণে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে উৎপেতে থাকে সুলেমান ও তার সহোদররা।

ঘটনার দিন আলী হোসেন ও সুলেমান জোরপূর্বক বাজারের রাস্তা থেকে তাকে তুলে তাদের বাড়িতে নিয়ে গলায় কাপড় পেঁছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি তারা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দু’পায়ের উরুতে কূপিয়ে মারাত্বক আহত করে। বর্তমানে সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের দু’পক্ষের মধ্যে মামলা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।