
মোঃ শামীম হোসেন, খুলনা : সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে কমতে শুরু করেছে বেশিরভাগ শাক-সবজির দাম। তবে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম। আর আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মাংস। বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত।
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) খুলনা শহর ও আশে- পাশের বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন শাক-সবজি। দোকানগুলোতে শীতের সবজির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
এতে বাজারে কমতে শুরু করেছে অস্থিরতা। সপ্তাহ ব্যবধানে হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের সবজি; সরবরাহও বেশ ভালো। সামনে কোনো সংকট না হলে দাম চলে আসবে হাতের নাগালে। খুলনার দাকোপের বাজুয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা নির্মল বলেন, সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কমতে শুরু করেছে শীতের সবজির দাম।
সরবরাহ ঠিক থাকলে সামনে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই; বরং আরও কমবে। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৬০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, লতি ৫০-৪০ টাকা, কহি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৩০ টাকা ও পটোল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, শিম ৮০-১০০ টাকা ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।এছাড়া, প্রতি কেজি ধনেপাতা ১৪০-১৬০ টাকা ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
আর মানভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। এদিকে, নিম্নমুখী শাকের বাজারও। লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা, পাটশাক ১৫-২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, মুলাশাক ১৫ টাকা, ডাঁটাশাক ১৫ টাকা, কলমিশাক ১০-১৫ টাকা ও পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। দাম কমেছে কাঁচা মরিচেরও; খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়; আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা দরে।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বেড়েছে কাঁচা মরিচের। এতে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই কমেছে দাম। কাঁচা মরিচ কেজিতে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়। বাজারের কাঁচা মরিচ ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ঝড় বা বৃষ্টি না হলে এ পণ্যের দাম আরও কমবে। পাশাপাশি এটি ভারত থেকেও আমদানি করা যেতে পারে।
ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কমায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বাজারে। মনিটরিং অব্যাহত রাখলে দাম আরও কমে আসবে। বাজারে আসা প্রশান্ত জানান শীতের সবজি আসতে শুরু করায় অনেকটাই কমে এসেছে শাক-সবজির দাম। সরকার মনিটরিং বজায় রাখলে বাজার নাগালে রাখা সম্ভব। সবজির দাম কমলেও বাজারে চড়া চালের দাম।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, বাজারে মোটা চালের দর কেজিতে ৫২-৫৫ টাকা, আর চিকন চাল ৬৮-৮০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও চিকন চালের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ১.৯ শতাংশ ও ২.৭৮ শতাংশ। নতুন করে আর না বাড়লেও চালের দাম কমেনি। বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা, আটাইশ ৬০-৬২ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমন ধান উঠা শুরু হলে বাজারে দাম কমতে শুরু করবে।
বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে ডিম ও মাংসের দাম। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৩০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া, জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়।
মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকায় নতুন করে বাড়েনি দাম। তবে সামনে বিয়ের মৌসুম আসছে। সে সময় বাড়তে পারে মুরগির দাম। তবে বাজারে অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। এছাড়া, প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।
এদিকে, বাজারে অভিযান চালানো, সভা-সেমিনার করা, আমদানি শুল্ক হ্রাস ও আমদানির অনুমতিসহ নানা নাটকীয়তার পর স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে; বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদক পর্যায় থেকে কম দামে ডিম কিনতে পারলে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
বাজারের ডিম ব্যবসায়ী নোবেল বলেন, পাইকারি পর্যায়ে কম থাকলে ও সরবরাহ বাড়লে, খুচরা বাজারেও ডিমের দাম কমবে। সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম খুচরা পর্যায়ে ১৪৪-১৪৫ টাকা ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকায়। এতে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ছে ১২ টাকা।
আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকায়। বাজারে মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, কোরাল ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, টেংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া, প্রতি কেজি বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, শিং ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, শোল ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং নদীর পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজি হারে বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৩০০ টাকায়, আর এক কেজি ওজনের ১৬০০-১৭০০ টাকায়। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা হারে, আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ১৩০০-১৪০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৭০০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই দাম এখনো বাড়েনি। সরবরাহ অনুযায়ী ইলিশের দাম ওঠানামা করে। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। এতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পান।
আর বিক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা
ঢাকা কার্যালয় : সেক্টর-০৫, রোড-০১, বাড়ি-৩৫ (২য় তলা), উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। মোবাইল : ০১৯৪৩-৬৮৩০২৭, ০১৯৪৬-৯৬২৭১৮, ই-মেইল: newsmanobadhikarprotidin@gmail.com, manobadhikarprotidin@gmail.com, ওয়েবসাইট : manobadhikarprotidin.com